সরাইলে ভৌতিক বিল ও অনিয়মের কারণে বিদ্যুৎ অফিসে তালা ঝুলিয়েছে বিক্ষুব্ধ গ্রাহকরা

আরিফুল ইসলাম সুমন, সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) ॥

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে ভৌতিক বিল ও স্থানীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্রের নানা অনিয়মের কারণে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে প্রায় পাঁচ শতাধিক বিক্ষুব্ধ গ্রাহক মিছিল নিয়ে এসে আবাসিক প্রকৌশলীর কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন। এসময় বিক্ষুব্ধ লোকজন অফিস থেকে কর্মচারীদের বের করে দেন। খবর পেয়ে সরাইল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. গিয়াস উদ্দিনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিক্ষোভকারীদের শান্ত করার চেষ্টা করেন। পরে বিক্ষোভকারীরা আবাসিক প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে মিছিল নিয়ে উপজেলা পরিষদ চত্বরে অবস্থান নেন। বিক্ষুব্ধ গ্রাহকরা বিদ্যুৎ বিভাগের নানা অনিয়ম ও অতিরিক্ত ইউনিটের বিষয় উল্লেখ করে উপজেলা চেয়ারম্যান এবং ইউএনও’র কাছে অভিযোগ করেন। আজ শুক্রবার সকালে গ্রাহকদের উপস্থিতিতে আবাসিক প্রকৌশলীর সঙ্গে বৈঠকে বসে সকল সমস্যা সমাধান করবেন বলে বিক্ষোভকারীদের আশ্বাস দেন উপজেলার কর্তাব্যক্তিরা।

ভূক্তভোগী গ্রাহক ও পুলিশ জানায়, স্থানীয় বিদ্যুৎ বিভাগের নানা অনিয়ম ও ভৌতিক বিলের প্রতিবাদে শত শত গ্রাহক ফুঁসে উঠেছে। তারা আবাসিক প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে দীর্ঘ দিনের সমস্যা অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের সমাধান না পেয়ে উত্তেজিত হয়ে পড়েন। অনেকে পুরাতন এনালগ মিটার পরিবর্তন করে নতুন ডিজিটাল মিটার লাগিয়েও অতিরিক্ত রিডিং-এর চাপ থেকে রেহাই পাচ্ছেন না। প্রায় ছয় হাজার গ্রাহক গত তিন মাস যাবত সময়মতো বিল পাচ্ছেন না। যখন বিলের কপি হাতে পৌঁছে, তখন ব্যাংকে পরিশোধের মেয়াদ আর থাকে না। অতিরিক্ত সুদ দিয়ে বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে। মিটার না দেখে অফিসে বসেই মনগড়া ইউনিট বসিয়ে কম্পিউটারাইজড বিল করা হচ্ছে। গ্রাহকের ব্যবহৃত মিটার ও প্রদান করা বিলের মধ্যে ইউনিটের বড় অঙ্কের হেরফের থাকলেও স্থানীয় বিদ্যুৎ বিভাগ কৌশল খাটিয়ে গ্রাহকদের আইনের ভয় দেখিয়ে মিটার পরিবর্তনে বাধ্য করছেন। এক্ষেত্রে প্রায় গ্রাহক পিডিবি’র কাছে হাজার হাজার ইউনিট পাওনা থাকলেও তা আমলেই নিচ্ছেন না বিদ্যুৎ কর্মকর্তারা। অনেকে নতুন ডিজিটাল মিটার না লাগানোর কারণে কায়দা করে অতিরিক্ত ইউনিটের বিল প্রদান করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে বকেয়া বিল পরিশোধ না করার অভিযোগে দুই শতাধিক গ্রাহকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন সরাইল আবাসিক প্রকৌশলী। উপজেলার উচালিয়া পাড়া গ্রামের গ্রাহক আবুল কালাম জানান, আমার মিটার ইউনিট শূন্য দেখিয়ে ১৬ হাজার ৭শত টাকার বিল করেছেন। নতুন হাবলী গ্রামের আবদুর রহমান জানান, আমি এক ফ্যান ও এক বাতি ব্যবহার করি। আমার মিটারে বর্তমান রিডিং-৬৩৮৪। কিন্তু বিলের কপিতে উল্লেখ ৫৮৪০০ ইউনিট। এক মাসে ১হাজার ইউনিটের বিল ৫হাজার টাকা করা হয়েছে। চুন্টা গ্রামের জাহাঙ্গীর জানান, তিনি গত ১০ মাস আগে সংযোগ নিয়েছেন। কিন্তু মাসিক বিল পান নি। গত মাসে হঠাৎ একসাথে ১৯৫০ ইউনিটের বিল ১৭ হাজার ৯৮টাকা করেছে। চানমনিপাড়ার আফিয়া খাতুন, চুন্টার আমেনা বেগম ও নার্গিস বেগম সহ উপজেলার ১৪ হাজার পিডিবি’র গ্রাহকের একই অভিযোগ। তারা জানান, সরকারী পরিপত্র না থাকলেও এনালগ মিটার পরিবর্তন করে ডিজিটাল মিটার ব্যবহারে বাধ্য করা হচেছ। বিদ্যুৎ বিভাগের হিসাব ষোল আনা। আর আমাদের পাওনা তারা এড়িয়ে যাচ্ছেন।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা চেয়ারম্যান রফিক উদ্দিন ঠাকুর বলেন, আলোচনার মাধ্যমে বিদ্যুৎ গ্রাহকদের সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সরাইল বিদ্যুৎ সরবরাহ বিভাগের আবাসিক প্রকৌশলী মো. শাহআলম শেখ বলেন, বিদ্যুৎ গ্রাহক ১৪ হাজার। মিটার রিডার মাত্র ১ জন। আগে প্রতি বিল বিতরনে একশ’ পঁচিশ পয়সা বরাদ্দ ছিল। এখন পিডিবি বোর্ড তা কমিয়ে পঁয়ষট্টি পয়সায় এনেছেন। তাই চুক্তিভিত্তিক কর্মচারীরা বিল বিতরন করতে অনীহা প্রকাশ করছে। তিনি আরো বলেন, বকেয়া বিল আদায়ের ব্যাপারে বেশকিছু গ্রাহকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। পিডিবি বোর্ডের নিয়মের বাইরে কিছুই করছি না।

Check Also

আশুগঞ্জে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মরদেহ উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :– ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মো. হারুন মিয়া (৪৫) নামে দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামির ...

Leave a Reply