দেবিদ্বারে নিরীহ ব্যক্তির জমি অবৈধ ভাবে দখল ও প্রাণনাশের হুমকি

মোঃ ফখরুল ইসলাম সাগর, দেবিদ্বার সংবাদদাতা :
কুমিল্লা দেবিদ্বার উপজেলার জয়পুর গ্রামের এক নীরীহ ব্যক্তির ফসলী জমি মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের রায়ে পাওয়া মালিকানা কাগজ পত্র থাকা সত্বেও স্থানীয় কিছু কুচক্রী ও প্রভাবশালীরা সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে প্রাণনাশের হুমকি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে অবৈধ ভাবে জোরপূর্বক জমি দখল করে ভোগ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা যায়, উপজেলার জয়পুর গ্রামের আবদুল করিম ও রহিম তাদের পূর্ব পূরুষদের আমল থেকে ওই জমি ভোগদখল ও চাষাবাদ করে আসছিল । আসানপুর মৌজায় সি এস খতিয়ানে ২ নং, সাবেক দাগ নং ৭২, পুরাতন গোমতী নদীর নালিশী ভূমির মালিক ছিলেন, রাজা গোপেন্দ্র কৃষন দেব বাহাদুর, ধীরেন্দ্র কৃষন দেব বাহাদুর, খগেন্দ্র কৃষন বাহাদুর,প্রনয়ন কৃষন বাহাদুর,পারিন্দ্র কৃষন বেদ বাহাদুর। জমিদারী প্রথা উচ্ছেদ হবার পর উক্ত সম্পত্তি সরকারের ১ নং খাস খতিয়ানে লিপিবদ্ধ হয়। সাবেক ৭২ দাগে ৮.০০ একর নালিশী ভুমি চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের জন্য মৃত.নজর মাহমুদের পুত্র আমিরুদ্দিন একটি দরখাস্ত দাখিল করিলে মাননীয় সাবডিভিশনাল অফিসার(সদর উত্তর) বিগত ১০/০৩/১৯৬৪ ইং তারিখে উপরোক্ত সম্পত্তি আমির উদ্দিনের নামে চিরস্থায়ী ভাবে বন্দোবস্ত প্রদান করেন। এবং বন্দোবস্ত প্রদানকৃত সম্পত্তি ১২/৫/১৯৬৪ ইং তারিখে দলিল রেজিষ্টী হয়। আমির উদ্দিন শান্তিপূর্ন ভাবে উক্ত দাগের ভুমি ভোগ দখল করে ফসলাধি ও মাছ চাষ করে আসছিল। কিন্তু আর এস খতিয়ানে আমিরউদ্দিনের আজান্তে তা সরকারের নামে লিপিবদ্ধ হয়ে যায়।
কয়েক বছর পর আমির উদ্দিন তার এক মাত্র মেয়ে ফাতেমা বেগমকে রেখে মৃত্যু বরণ করেন। ওই সূত্রে ফাতেমা বেগম আর এস খতিয়ানের বিরুদ্ধে তৎকালিন সময়ে সরকার পক্ষকে বিবাদী করিয়া সাবজজ আদালতে ১২০/৯৩নং মোকদ্দমাটি দায়ের করলে ফাতেমা বেগমের পক্ষে ৩১/১/১৯৯৫ইং তারিখে রায় হয়।পরে তার নামে রেকর্ড হয়। স্থানীয় তহসীলদারের কারসাজিতে সহকারী কমিসনার (ভুমি) ফাতেমা বেগমের রেকর্ড বাতিল করে দেয়। তবে সে মারা যাবার পর তাহর দুই ছেলে আবদুল করিম ও আবদুল রহিম ্ওই সম্পতি পাওয়ার জন্য ০৬/১১/২০০৭ তারিখে ৩১ধারায় মামলা দায়ের করেন। এতে তাদের দুই ভায়ের নামে উক্ত জমি সাবেক ৭২নং দাগে আসানপুর মৌজায় ১৭৮ নং খতিয়ানে লিপিদ্ধ হয়।

সরকার পক্ষ ১৯৯৬ সালে ১২০/৯৩ দেওয়ানী মোকাদ্দমাটি রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে মহামান্য সুপ্রীমকোর্ট, হাইকোট ডিভিশনে আপিল করিলে সরকার পক্ষের আপিল ১৮/২/২০০৮ ইং তারিখে খারিজ হয়ে যায়। স্থানীয় কিছু কূচক্রী মহল আবারো সরকার পক্ষকে বাদি করে ৮/১১/২০০৯ইং উ:ভূ:অ:/দেবি ২০০৯-৭০৬ ম্মারকে বিঞ্জ সাবজজ,২য় আদালত কুমিল্লা এর ১২০/৯৩নং দেওয়ানী মোকদ্দমা এবং মহামান্য সৃপ্রিম কোট,হাইকোট বিভাগ ঢাকায় আপিলের জন্য আবেদন করলে আজপর্যন্ত ২৮/০৯/২০১১ইং পর্যন্ত কোন আপিলের অনুমতি পায়নি। তাই ফাতেমা বেগমের পক্ষে রায় বহাল থাকে। এই মর্মে ওই সম্পত্তির মালিক হন তারা। কিন্তু এলাকার ওই কুচক্রীমহল ও প্রভাবসালীরা আজও সম্পতির লোভে জয়পুর(কামারচর) গ্রামের আবদুর করিমের উপর বিভিন্ন ভাবে তাকে হয়রানী ও মানুষিক ভাবে নির্যাতন করে আসছে।

গত ২৩ জুলাই২০১০ইং তারিখে তার মৎষ প্রযেক্টের ঘর ভাংচুর করে মালামাল লোট পাট করে নিয়ে যায় এতে প্রায় ১২জনের বিরুদে কুমিল্লা কোর্টে মামলা দায়ের করেন। পরে স্থানীয়দের সহযোগীতায় মামলাটি আপোস মিমাংসা হয়। প্রায় এক বছর পর আবারও প্রভাবসালী চক্রটি,আসানপুর গ্রামের খালেক মিয়ার পুত্র মোঃ অহিদের নেতেৃত্বে প্রায় ১০/১১স্ত্রাসী নিয়ে জোর পূর্বক অনেক গুলো গাছ কেটে নিয়ে যাওয়ায়। গাছের মালিক আবদুর করিম বাদি হয়ে কুমিল্লার আমলী কোর্টে গত ২৫/৪/১১ তারিখে তাদের বিরুদ্ধেএকটি মামলা দায়ের করেন। এমত অবস্থায় কোন উপায়ন্ত না পেয়ে নিরীহ আবদুর করিম তাদের অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে প্রাণভয়ে ওই জমিতে কেউ যেন কোন প্রকার চাষাবাদ না করতে পারে সেই জন্য কুমিল্লা এডিম আদালতে একটি দরখাস্ত করলে আদালত ১৪৫ ধারয় ওই জমিতে চাষাবাদ স্থিতাবস্থা রাখেন। অতচ এলাকর প্রভাবসালী অহিদ গং আইন অমান্য করে জোরপূর্বক জমিতে ধান রোপন করেন। প্রসাশনের আইনি সহায়তা না পাবার কারনে আবদুল করিম শান্তিপূর্ন ভাবে নিজেদের জমি ভোগ দখল করতে পারছেনা। তাই তিনি প্রসাশনের সু দৃষ্টি কামনা করেন।

Check Also

নিউইয়র্কের চিকিৎসক ফেরদৌস খন্দকারে দেওয়া খাদ্য পাচ্ছে দেবিদ্বারের ১ হাজার পরিবার

দেবিদ্বার প্রতিনিধিঃ করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে লকডাউনের কারনে কর্ম হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছে দেশের হাজার হাজার ...

Leave a Reply