সরাইলে ষড়যন্ত্রমূলক মামলার বিরুদ্ধে রুঁখে দাড়িয়েছে এলাকাবাসী

আরিফুল ইসলাম সুমন, সরাইল ॥
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে পালিত ছেলেকে আত্মীয়ের বাড়িতে রেখে অপহরন মামলা টুকে দিয়েছেন বীণা রানী সূত্রধর। মামলায় আসামি করা হয়েছে প্রতিবেশী কিছু নিরাপরাধ লোকদের। পূর্ব শত্র“তার জের ও সালিশের রায়ে অসন্তোষ হয়ে এই মিথ্যা অপহরন মামলা করা হয়েছে। এসব তথ্য জানিয়েছেন গ্রামের একাধিক গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। এলাকাবাসী জানান, সরাইল উপজেলার কালীকচ্ছ ইউনিয়নের সূত্রধর পাড়ার বাসিন্দা প্রবাসী কল্যাণ সূত্রধরের স্ত্রী বীণা রানী সূত্রধর। গত ১৫ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার তুচ্ছ ঘটনায় বীনা ও প্রতিবেশী সদীপ সূত্রধরের স্ত্রী মঞ্জু রানী সূত্রধরের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরদিন শুক্রবার রাতে স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জিয়াউল হক মৃধার ছোট ভাই মো. হারুন মৃধা গ্রামের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে বিষয়টি সালিশের মাধ্যমে নিস্পত্তি করে দেন। কিন্তু এতে সন্তুষ্ট হয়নি বীণার পুত্র পঙ্কজ সূত্রধর। সালিশের রায় তোয়াক্কা না করে পঙ্কজ তার লাঠিয়াল লোকদের নিয়ে গত ১৮ সেপ্টেম্বর রোববার সন্ধ্যায় কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরার পথে গ্রামের নির্জন রাস্তায় সদীপকে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। বর্তমানে সদীপ সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে সুচতুর বীণা ও তার পক্ষের লোকজন ষড়যন্ত্র চালায়। বীণার পালিত পুত্র পঙ্কজকে জনৈক আত্মীয়ের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়ে সুদীপসহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে গত ২১ সেপ্টেম্বর আদালতে অপহরন মামলা দায়ের করেন। বিজ্ঞ আদালত মামলাটি সরাইল থানায় প্রেরন করেন।

এ প্রসঙ্গে কালীকচ্ছ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. তকদির হোসেন বলেন, বীণার দায়ের করা মামলায় যে অভিযোগ এনেছেন তা সত্য নয়। বিষয়টি উদ্দেশ্য প্রণোদিত ও প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার ষড়যন্ত্র। চেয়ারম্যান আরো বলেন, সদীপ একজন দুস্থ ও অসহায় ব্যক্তি। তাকে অন্যায়ভাবে মারধর করা হয়েছে। বর্তমানে সে হাসপাতালে। তার পরিবার অনাহার-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসী রুখে দাড়িয়েছে। বীণা উপজেলা চেয়ারম্যানের কথা রাখেনি। সালিশকারক হারুন মৃধা বলেন, বীণার অভিযোগ সাজানো নাটক। তিনি প্রতিপক্ষকে শায়েস্তা করতেই মামলাটি করেছেন। সূত্রধরপাড়ার বাসিন্দা মো. জহিরুল ইসলাম (৬৫) বলেন, বিষয়টি রহস্যজনক। উপজেলা চেয়ারম্যান এবং কালীকচ্ছ ইউপি চেয়ারম্যান বিষয়টি নিস্পত্তি করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বীণার অসহযোগিতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। বীণার দায়ের করা মামলার ১নং স্বাক্ষী সূত্রধরপাড়ার বাসিন্দা আঃ মজিদ মিয়ার স্ত্রী রাখেলা বেগম জানান, এই মামলা সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না। আমাকে না জানিয়ে মামলায় স্বাক্ষী করা হয়েছে। সুপাল সূত্রধর (৪৫) জানান, বীণার ছেলেকে অপহরনের ঘটনাটি সাজানো। কিছু নির্দোশ ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। উপজেলা চেয়ারম্যান রফিক উদ্দিন ঠাকুর বলেন, বিষয়টি জেনে গত রোববার সন্ধ্যায় সূত্রধর পাড়ায় যায়। এলাকার চেয়ারম্যানসহ অনেকে জানিয়েছেন অপহরনের ঘটনাটি সম্পূর্ন মিথা ও বানোয়াট। বীণা পূর্ব শত্র“তার কারণে নির্দোষ ব্যক্তিদের মামলায় আসামি করেছে। এক গরিব ব্যক্তিকে পিটিয়ে আহত করেছে। উল্টো তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা গুমের মামলা করেছে। বীণার বিচার হওয়া উচিত।

এ ব্যাপারে বীণা সূত্রধর বলেন, আসামিদের সাথে জমি নিয়ে আমার বিরোধ আছে। আদালতে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। আসামিরা মোবাইল ফোনে আমার ছেলেকে হুমকি দিয়েছে। তাই সে বাড়ীতে আসছে না। ছেলেকে না পাওয়া পর্যন্ত সামাজিক বিচারে বসব না।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সরাইল থানার উপ-পরিদর্শক চন্দন চক্রবর্তী বলেন, মামলার তদন্ত অব্যাহত আছে। অচিরেই মূল রহস্য উদঘাটিত হবে।

Check Also

আশুগঞ্জে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মরদেহ উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :– ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মো. হারুন মিয়া (৪৫) নামে দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামির ...

Leave a Reply