প্রভাষকদের টাইমস্কেল নিয়ে টালবাহানা আর কতকাল?

মমিনুল ইসলাম মোল্লা :

২৪ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রনালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ২৩ তম সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে এ কমিটির সভাপতি রাশেদ খান মেনন জানান -টাকার অভাবে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের স্কুল- কলেজ এমপিওভুক্ত করা এবং শিক্ষকদের টাইমস্কেল বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বলেন-তবে এ সমস্যা সমাধানে সংসদীয় কমিটি অর্থ মন্ত্রনালয় ও প্রধানমন্ত্রীর সঙে আলোচনা করবে।

৭ র্মাচ অর্থ মন্ত্রণালয় টাইম স্কেল স্থগিত করে বেসরকারি স্কুল, কলেজ ,ও মাদ্রাসার শিক্ষকদের অর্থ ফেরৎ দানের কথা বলেছে। এমপিও নীতিমালা থেকে অতিসত্তর এ সংক্রান্ত বিধান পরিবর্তন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় মনে করে-আদালতের রায়ে টাইমস্কেলপ্রাপ্ত ৬২ জন প্রভাষক ছাড়া অন্য শিক্ষকদের গত দুমাসে অবৈধভাবে প্রায় ১৬ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। যা গুরুতর আর্থিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের শামিল। পাশাপাশি শিক্ষা মন্ত্রণালয় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকতৃাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করেছে। অর্থমন্ত্রীর মতে, আর্থিক সংশ্লেষ রয়েছে এমন বিষয়ে রুল্স অব বিজনেস অনুযায়ী অর্থ বিভাগের পূর্ব সম্মতি বাধ্যতামূলক যা টাইমস্কেল দেয়ার ক্ষেত্রে নেয়া হয়নি। ফলে জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। এখনপর্যন্ত বিষয়টির সুরাহা না করায় শিক্ষকদেও মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে।ভুক্তভোগী প্রভাষকদেও প্রশ্ন টাইমস্কেল নিয়ে টালবাহানা আর কতকাল?

দেশের কলেজ শিক্ষার শিক্ষা ব্যবস্থার ৯৫ শতাংশই বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। অথচ বেসরকারি শিক্ষকগণ বর্তমানে সবচেয়ে বেশি অবহেলিত ,নিগৃহীত , নিপিড়িত, লাঞ্ছিত, ও বঞ্চিত। মাস্টার ডিগ্রি পাশ করে একজন শিক্ষক অঁজ পাড়াগাঁয়ে গিয়ে শ্রম দিয়ে কি পাচ্ছেন?অথচ একই শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে কেউ ক্যাডার সার্ভিসে (প্রশাসন) যোগ দিয়ে প্রমোশনের মাধ্যমে সচিব পর্যন্ত হতে পারেন। অন্যদিকে বেসরকারি কলেজের শিক্ষকগণ পুরো চাকুরি জীবনে একটি মাত্র প্রমোশন পেয়ে সহকারি অধ্যাপক হতে পারতেন, সেটিও এখন বন্ধ হবার উপক্রম হয়েছে। তাই বেসরকারি শিক্ষকগণ নিজেদেরকে দেশের বোঝা হিসেবেই ভাবছেন।

সরকারি -বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠানে ই মেধা ও জৈষ্ঠতার ভিত্তিতে পদোন্নতির ব্যবস্থা রয়েছে। বেসরকারি শিক্ষকগণ বর্তমানে পুরো চাকুরি জীবনে মাত্র একটি পদোন্নতির সুযোগ পান। তাও সকলের ভাগ্যে জোটেনা। ৫ঃ২ ভিত্তিতে এ সুযোগ দেয়া হয়। ফলে অনুপাতের ভিত্তিতে এ সুযোগ গ্রহণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কোন কোন শিক্ষক কপালগুণে এসুযোগ পেলেও এমনও শিক্ষক রয়েছেন যারা পুরো চাকুরিজীবনে এ সুযোগ পাননা। ফলে তারা প্রথমে যে পদে চাকুরি শুরু করেন সাড়া জীবন সে পদেই চাকুরি করেতে থাকেন।পদোন্নতিবঞ্চিত হতভাগাদের জন্যই রয়েছে পুরো চাকুরিজীবনে একটিমাত্র টাইমস্কেলের ব্যবস্থা। বর্তমানে এটিও বন্ধকরে দেয়া হয়েছে। শুধু বন্ধ করেই ক্ষান্ত হয়নি ৫লাখ শিক্ষক-কর্মচারির মধ্যে যারা ইতিপূর্বে এস্কেল ভোগ করছেন তাদের টাকা ফেরৎ নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এর চেয়ে অপমানজনক বিষয় আর কি হতে পারে?অর্থ মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী ১৯৯৫ সালের ৯ ফেব্যুয়ারি যথাযথ বিধি অনুসরণ না করেই টইমস্কেল দেয়া হয়। কিন্তু শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মতিক্রমেইএ স্কেল দেয়া হয়েছিল। এ প্রসঙ্গে সে সময়কার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রটির কথ উল্লেখ করা যেতে পারে। সেখানে বলা হয়েছে-”বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক কর্মচারিদের মধ্যে যারা ইতিপূর্বেই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত টাকা ৯০০-১৫৩০ টাকা হতে ২৩০০-৪৮০০ টাকা বেতন স্কেলে বেতন-ভাতাদির সরকারি অংশ গ্রহণ করছেন শুধু তাদের মধ্যে যারা ৮ বছর সন্তোষজনকভাবে চাকুরি করছেনতারা স্ব-স্ব বেতন স্কেলের পরবর্তী বেতন স্কেলটি টাইম স্কেল হিসেবে ১/৭/৯৪/থেকে দেয়ার ব্যাপারে সরকার সম্মত হয়েছেন। এতদসংক্রান্ত অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি সম্মতিপত্রের অনুলিপি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এতদসঙ্গে প্রেরণ করা হলো।”(সূত্র-বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনা-ডঃফজলুর রহমান)

এছাড়া বেসরকারি কলেজ সমূহের শিক্ষকগণ নিয়োগলাভের ২ বছর পর সিনিয়র স্কেল পোতেন। এতে বেতন কোড ও পরিবর্তিত হতো। বর্তমানে এটিও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বিশেষ কারণ বাদে কোন প্রতিষ্ঠানকে দেয়া সুযোগ সুবিধা সাধারণত কর্তন করা হয়না। কিন্তু বেসরকারি শিক্ষকগণের ক্ষেত্রে কোন নিয়ম মানা হচ্ছেনা বলে অভিযোগ রয়েছে।

তাই দেখা যায় জোট সরকারও শিক্ষকদের গায়ে কালিমা লেপন করেছিল। ১৯৯৫ সালে টাইম স্কেল চালুর ১০ বছর পর ২০০৫ সালে ্এটি সরকার হঠাৎ করেই বন্ধ করে দেয়।তখন মাগুরা ও ঝিনাইদহ জেলার ১৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৬২ জন শিক্ষক টাইম স্কেল স্থগিতের ব্যাপারে হাইকোর্টে রিট করে। প্রায় ৫ বছর মামলা চলার পর ২০১০ সালের মার্চ মাসে তাদের পক্ষে রায় পায়। তারপর শিক্ষকদের টাইম স্কেলের ব্যাপারটি বর্তমান সরকার এমপিও নীতিমালার আওতায় আনে এবং ২০১০ সালের অক্টোবর মাসে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা নেয়। যাচাই বাছাই শেষে ১৮০০০ কলেজ ও মাদ্রাসা শিক্ষককে টাইম স্কেল দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। যাদের বেতন কোড ৯ অথবা ৮ ছিল তা পরিবর্তিত করে ৭ করা হয়। এতে বেসরকারি কলেজ ও মাদ্যাসার শিক্ষকগণ আনন্দিত হন।

কিন্তু মাত্র ২ মাস বেতন দেয়ার পর এসুযোগটি বন্ধ করে দেয়ায় তারা চরম অপমান বোধ করেন। ফলে সাধারণ শিক্ষক কর্মচারি ও বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠনের নেতাগণ চরম ক্ষোভ ,বিস্ময়, ও ঘৃণা প্রকাশ করেছেন। এতেও সরকারের বোধোদয় না হলে আন্দোলনের পথ ধরবেন বলে হূমকি দিয়েছেন।-

সরকারি স্কুল ,কলেজ,ও মাদ্রাসার চেয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে সরকারের নজরদারি বাহুল্য বলে অনেকে মনে করেন। শুধুমাত্র ৫ পয়েন্ট হলেও সরকারি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতার যোগ্য বলে বিবেচিত হন। কিন্তু বেসরকারি স্কুল ,কলেজ ও মাদ্রাসায় চাকুরির জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ পয়েন্ট। এটি একটি মারাত্মক বৈষম্য।এছ্ড়া এসব প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তির ক্ষেত্রে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা , ভৌতিক অবকাঠামো, শিক্ষক নিয়োগ, ও পরীক্ষার ফলাফলে সাফল্যের ব্যাপারটি বিবেচনা করা হয়। কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে কাঙ্খিত পরিমাণ ছাত্র পাশ না করলে ঐ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারিদের আর্থিক অনুদান বন্ধ করে দেয়া হয়।বেতন ভাতাদির সরকারি অংশ পাওয়ার জন্য ৪ ফেব্রুয়ারি ২০১০ একটি পরিপত্র জারি করা হয়। এতে উল্লেখ করা হয়-উচ্চ মাধ্যমিক কলেজে ১১শ ও ১২ শ শ্রেণিতে শহরে ২০০ জন বালিকাদের জন্য ১৫০ জন, মফস্ব্লে যথাক্রমে ১৫০ জন ও ১২০ জন ছাত্র-ছাত্রী থাকতে হবে। এছাড়া ডিগ্রি কলেজগুলোতে কমপক্ষে ৫০ জন ছাত্র-ছাত্রী ¯œাতক পর্যায়ে থাকতে হবে। এছাড়া ডিগ্রি কলেজগুরোতে কমপক্ষে ৫০ জন ছাত্র-ছাত্রী ¯œাতক পর্যায়ে থাকতে হবে। এছাড়া উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে সাধারণত প্রতি বিভাগে ৪ টি বিষয় থাকবে । তবে ৫ম বা ততোধিক বিষয় খুলতে ঐ বিষয়ে কমপক্ষে ২৫ জন শিক্ষার্থি সহ মোট ৫০ জন হতে হবে।

পরীক্ষায় পাশের হারের উপর ভিত্তি করে এমপিও বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এক্ষেত্রে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় শহরে ৫০ জন পরীক্ষা দিতে হবেএবং পাশ করতে হবে ২৫ জন। মফস্বলে কমপ্েক্ষ ৩০ জন পরীক্ষা দিয়ে পাশ করতে হবে কমপক্ষে ১৫ জন। বেসরকারি শিক্ষকদের ব্যাপারে সরকারের কোন সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকায় শিক্ষকদের বহু দুর্দশা ভোগ করতে হয়। স্বাধীনতা পরবর্তীকালেও বেসরকারি শিক্ষকগণ এখনকার তুলনায় খুব কম বেতন পেতেন।

একটি পরিসংখানে দেখা যায়-১/১/৮১ ইং থেকে বেসরকারি শিক্ষকগণ সরকারি সমমানের বেতনক্রম পাওয়া শুরু করেন। ১/১/৮০ ইং থেকে ৩০/০৬ ৮২ ইং পর্যন্ত কেবলমাত্র বেতনক্রমের প্রারম্ভিক স্তরের ৫০% প্রদান করা হয়। ১/১/৮৪ ইং থেকে ২৮/০২/৮৬ইং পর্যন্ত পূর্বোক্ত বেতন –ভাতাদির সাথে চিকিৎসা ভাতা, ও বাড়িভাড়া ১০০টাকা এবং বার্ষিক বৃদ্ধি সমমান সুবিধাদি যুক্ত করা হয়। ১/৭/৮৬ ইং থেকে ৩০/৬/৮৯ ইং পর্যন্ত সময়ে ৭০%বেতনের অংশ প্রদান করা হয়। ১/১/৯৫ ইং থেকে সরকারি বেতনের অংশ ৮০%, ১/৭/০০ইং হতে ৯০%এবং ২০০৬ সালে ১০০ বেতন প্রদানের ঘোষণা দেয়া হয়। বর্তমানে শিক্ষকগণ মূল স্কেলের ১০০% বাড়িভাড়া মাত্র ১০০ টাকা এবং চিকিৎসাভাতা ২৫০ টাকা পাচ্ছে। এ থেকেও কল্যাণ ট্রাস্ট ও অবসর সুবিধার জন্য ৮% কেটে রেখে বেতন দেয়া হয়।শিক্ষকগণ অন্যান্য পেশাজীবি সম্প্রদায়ের মত নন। তারা অল্পতেই সন্তুষ্ট। তারপরও যখন দেখেন পেছনের দিকে যেতে যেতে দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাচ্ছে তখনই ত্রাা আন্দোলনমূখী হন।

মূলত জিয়াউর রহমানের শাসনামল থেকেই শিক্ষকগণ আন্দোলনে যেতে বাধ্য হন। তারপর প্রতিটি সরকারের আমলেই তাদেরকে ন্যায্য দাবি -দাওয়া নিয়ে আন্দোলন করতে হয়। মিছিল ,মিটিং , বিক্ষোভ, সমাবেশ, ধর্মঘট, অনশন, কোনটাই বাদ দেননি। আন্দোলন করতে গিয়ে শিক্ষকের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। সুতরাং বর্তমানে প্রাপ্ত কোন সুযোগ-সুবিধা থেকে তাদেরকে বঞ্চিত করলে তারা পীছু হটে যাবেন ্এমনটি মনে করার কোন কারণ নেই। শিক্ষাগত যোগ্যতা এক হওয়ার পরও সরকারি শিক্ষকদের সাথে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকগণের সুযোগ-সুবিধায় প্রচুর তফাৎ লক্ষ্য করা যায়।সরকারি শিক্ষকগণ পাচ্ছেনঃ পূর্ণ জাতীয় বেতন স্কেল, প্রত্যোক বছর ইনক্রিমেন্ট, মূল বেতনের সমান দুটি উৎসব ভাতা, ৫০০ টাকা চিকিৎসাভাতা ,স্কেলের ৪০-৫৫%বাড়ি-ভাড়া ,পূর্ণাঙ্গ পেনশন ও পিএফ, চাকুরির নিরাপত্তা, ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ায় সরকারি সাহায্য। বেসরকারি শিক্ষকগণ এগুলোর অধিকাংশ সুযোগ –সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

বাংলাদেশে বর্তমানে কয়েকটি শিক্ষক সংগঠন রয়েছে। এগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতি, আদর্শ শিক্ষক পরিষদ, বাংলাদেশ,স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদ, মাদ্রাসা শিক্ষক পরিষদ, জমিয়তে মুদাররিছিন, শিক্ষক কর্মচারি ঔক্যজোট, জাতীয় শিক্ষক কর্মচারি ফ্রন্ট, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি অন্যতম।শিক্ষকগণ ও রাজনীতির বাইরে নয়। সরকার সমর্থিত সংগঠনগুলো সবসময় আন্দোলনে সব সময় নিরব ভুমিকা পালন করে। অন্যদিকে বিরোধীদল সমর্থিত সংগঠনগূলো দাবি-দাওয়ার ব্যাপারে সব সময় সচেতন থাকে। বিরোধীদলীয় নেতা-নেত্রীগনও এব্যাপারে সচেতন। শিক্ষকগণ অনশন করলে তারা অনশন ভাঙ্গানোর জন্য শরবরতর গ্লাশ হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন। কিন্তু এই নেতাগনই যখন ক্ষমতায় যান তখন শিক্ষকদের কথা বেমালুম ভুলে যান। শিক্ষক নেতাদের মধ্যে মত পার্থক্য থাকলেও ১৮হাজার শিক্ষকেরে টাইমস্কেল বন্ধের ব্যাপারে তারা নীরব থাকেননি। তারা গভীর ক্ষ্ভো প্রকাশ করেছেন। শ্ক্ষিক কর্মচারি ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মোঃ সেলিম ভ’ইয়া বলেন-স্কুল, কলেজ, ও মাদ্রাসার শিক্ষক কর্মচারিদের টাইমস্কেল দিয়ে আবার তা স্থগিত করা অযৌক্তিক, অন্যায় ও অমানবিক।লেখকঃ মমিনুল ইসলাম মোল্লা, প্রভাষক ও সাংবাদিক, কুমিল্লা।প্রভাষকদের টাইমস্কেল নিয়ে টালবাহানা আর কতকাল?

মমিনুল ইসলাম মোল্লা

২৪ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রনালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ২৩ তম সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে এ কমিটির সভাপতি রাশেদ খান মেনন জানান -টাকার অভাবে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের স্কুল- কলেজ এমপিওভুক্ত করা এবং শিক্ষকদের টাইমস্কেল বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বলেন-তবে এ সমস্যা সমাধানে সংসদীয় কমিটি অর্থ মন্ত্রনালয় ও প্রধানমন্ত্রীর সঙে আলোচনা করবে।

৭ র্মাচ অর্থ মন্ত্রণালয় টাইম স্কেল স্থগিত করে বেসরকারি স্কুল, কলেজ ,ও মাদ্রাসার শিক্ষকদের অর্থ ফেরৎ দানের কথা বলেছে। এমপিও নীতিমালা থেকে অতিসত্তর এ সংক্রান্ত বিধান পরিবর্তন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় মনে করে-আদালতের রায়ে টাইমস্কেলপ্রাপ্ত ৬২ জন প্রভাষক ছাড়া অন্য শিক্ষকদের গত দুমাসে অবৈধভাবে প্রায় ১৬ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। যা গুরুতর আর্থিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের শামিল। পাশাপাশি শিক্ষা মন্ত্রণালয় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকতৃাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করেছে। অর্থমন্ত্রীর মতে, আর্থিক সংশ্লেষ রয়েছে এমন বিষয়ে রুল্স অব বিজনেস অনুযায়ী অর্থ বিভাগের পূর্ব সম্মতি বাধ্যতামূলক যা টাইমস্কেল দেয়ার ক্ষেত্রে নেয়া হয়নি। ফলে জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। এখনপর্যন্ত বিষয়টির সুরাহা না করায় শিক্ষকদেও মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে।ভুক্তভোগী প্রভাষকদেও প্রশ্ন টাইমস্কেল নিয়ে টালবাহানা আর কতকাল?

দেশের কলেজ শিক্ষার শিক্ষা ব্যবস্থার ৯৫ শতাংশই বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। অথচ বেসরকারি শিক্ষকগণ বর্তমানে সবচেয়ে বেশি অবহেলিত ,নিগৃহীত , নিপিড়িত, লাঞ্ছিত, ও বঞ্চিত। মাস্টার ডিগ্রি পাশ করে একজন শিক্ষক অঁজ পাড়াগাঁয়ে গিয়ে শ্রম দিয়ে কি পাচ্ছেন?অথচ একই শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে কেউ ক্যাডার সার্ভিসে (প্রশাসন) যোগ দিয়ে প্রমোশনের মাধ্যমে সচিব পর্যন্ত হতে পারেন। অন্যদিকে বেসরকারি কলেজের শিক্ষকগণ পুরো চাকুরি জীবনে একটি মাত্র প্রমোশন পেয়ে সহকারি অধ্যাপক হতে পারতেন, সেটিও এখন বন্ধ হবার উপক্রম হয়েছে। তাই বেসরকারি শিক্ষকগণ নিজেদেরকে দেশের বোঝা হিসেবেই ভাবছেন।

সরকারি -বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠানে ই মেধা ও জৈষ্ঠতার ভিত্তিতে পদোন্নতির ব্যবস্থা রয়েছে। বেসরকারি শিক্ষকগণ বর্তমানে পুরো চাকুরি জীবনে মাত্র একটি পদোন্নতির সুযোগ পান। তাও সকলের ভাগ্যে জোটেনা। ৫ঃ২ ভিত্তিতে এ সুযোগ দেয়া হয়। ফলে অনুপাতের ভিত্তিতে এ সুযোগ গ্রহণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কোন কোন শিক্ষক কপালগুণে এসুযোগ পেলেও এমনও শিক্ষক রয়েছেন যারা পুরো চাকুরিজীবনে এ সুযোগ পাননা। ফলে তারা প্রথমে যে পদে চাকুরি শুরু করেন সাড়া জীবন সে পদেই চাকুরি করেতে থাকেন।পদোন্নতিবঞ্চিত হতভাগাদের জন্যই রয়েছে পুরো চাকুরিজীবনে একটিমাত্র টাইমস্কেলের ব্যবস্থা। বর্তমানে এটিও বন্ধকরে দেয়া হয়েছে। শুধু বন্ধ করেই ক্ষান্ত হয়নি ৫লাখ শিক্ষক-কর্মচারির মধ্যে যারা ইতিপূর্বে এস্কেল ভোগ করছেন তাদের টাকা ফেরৎ নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এর চেয়ে অপমানজনক বিষয় আর কি হতে পারে?অর্থ মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী ১৯৯৫ সালের ৯ ফেব্যুয়ারি যথাযথ বিধি অনুসরণ না করেই টইমস্কেল দেয়া হয়। কিন্তু শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মতিক্রমেইএ স্কেল দেয়া হয়েছিল। এ প্রসঙ্গে সে সময়কার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রটির কথ উল্লেখ করা যেতে পারে। সেখানে বলা হয়েছে-”বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক কর্মচারিদের মধ্যে যারা ইতিপূর্বেই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত টাকা ৯০০-১৫৩০ টাকা হতে ২৩০০-৪৮০০ টাকা বেতন স্কেলে বেতন-ভাতাদির সরকারি অংশ গ্রহণ করছেন শুধু তাদের মধ্যে যারা ৮ বছর সন্তোষজনকভাবে চাকুরি করছেনতারা স্ব-স্ব বেতন স্কেলের পরবর্তী বেতন স্কেলটি টাইম স্কেল হিসেবে ১/৭/৯৪/থেকে দেয়ার ব্যাপারে সরকার সম্মত হয়েছেন। এতদসংক্রান্ত অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি সম্মতিপত্রের অনুলিপি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এতদসঙ্গে প্রেরণ করা হলো।”(সূত্র-বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনা-ডঃফজলুর রহমান)

এছাড়া বেসরকারি কলেজ সমূহের শিক্ষকগণ নিয়োগলাভের ২ বছর পর সিনিয়র স্কেল পোতেন। এতে বেতন কোড ও পরিবর্তিত হতো। বর্তমানে এটিও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বিশেষ কারণ বাদে কোন প্রতিষ্ঠানকে দেয়া সুযোগ সুবিধা সাধারণত কর্তন করা হয়না। কিন্তু বেসরকারি শিক্ষকগণের ক্ষেত্রে কোন নিয়ম মানা হচ্ছেনা বলে অভিযোগ রয়েছে।

তাই দেখা যায় জোট সরকারও শিক্ষকদের গায়ে কালিমা লেপন করেছিল। ১৯৯৫ সালে টাইম স্কেল চালুর ১০ বছর পর ২০০৫ সালে ্এটি সরকার হঠাৎ করেই বন্ধ করে দেয়।তখন মাগুরা ও ঝিনাইদহ জেলার ১৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৬২ জন শিক্ষক টাইম স্কেল স্থগিতের ব্যাপারে হাইকোর্টে রিট করে। প্রায় ৫ বছর মামলা চলার পর ২০১০ সালের মার্চ মাসে তাদের পক্ষে রায় পায়। তারপর শিক্ষকদের টাইম স্কেলের ব্যাপারটি বর্তমান সরকার এমপিও নীতিমালার আওতায় আনে এবং ২০১০ সালের অক্টোবর মাসে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা নেয়। যাচাই বাছাই শেষে ১৮০০০ কলেজ ও মাদ্রাসা শিক্ষককে টাইম স্কেল দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। যাদের বেতন কোড ৯ অথবা ৮ ছিল তা পরিবর্তিত করে ৭ করা হয়। এতে বেসরকারি কলেজ ও মাদ্যাসার শিক্ষকগণ আনন্দিত হন।

কিন্তু মাত্র ২ মাস বেতন দেয়ার পর এসুযোগটি বন্ধ করে দেয়ায় তারা চরম অপমান বোধ করেন। ফলে সাধারণ শিক্ষক কর্মচারি ও বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠনের নেতাগণ চরম ক্ষোভ ,বিস্ময়, ও ঘৃণা প্রকাশ করেছেন। এতেও সরকারের বোধোদয় না হলে আন্দোলনের পথ ধরবেন বলে হূমকি দিয়েছেন।-

সরকারি স্কুল ,কলেজ,ও মাদ্রাসার চেয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে সরকারের নজরদারি বাহুল্য বলে অনেকে মনে করেন। শুধুমাত্র ৫ পয়েন্ট হলেও সরকারি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতার যোগ্য বলে বিবেচিত হন। কিন্তু বেসরকারি স্কুল ,কলেজ ও মাদ্রাসায় চাকুরির জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ পয়েন্ট। এটি একটি মারাত্মক বৈষম্য।এছ্ড়া এসব প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তির ক্ষেত্রে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা , ভৌতিক অবকাঠামো, শিক্ষক নিয়োগ, ও পরীক্ষার ফলাফলে সাফল্যের ব্যাপারটি বিবেচনা করা হয়। কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে কাঙ্খিত পরিমাণ ছাত্র পাশ না করলে ঐ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারিদের আর্থিক অনুদান বন্ধ করে দেয়া হয়।বেতন ভাতাদির সরকারি অংশ পাওয়ার জন্য ৪ ফেব্রুয়ারি ২০১০ একটি পরিপত্র জারি করা হয়। এতে উল্লেখ করা হয়-উচ্চ মাধ্যমিক কলেজে ১১শ ও ১২ শ শ্রেণিতে শহরে ২০০ জন বালিকাদের জন্য ১৫০ জন, মফস্ব্লে যথাক্রমে ১৫০ জন ও ১২০ জন ছাত্র-ছাত্রী থাকতে হবে। এছাড়া ডিগ্রি কলেজগুলোতে কমপক্ষে ৫০ জন ছাত্র-ছাত্রী ¯œাতক পর্যায়ে থাকতে হবে। এছাড়া ডিগ্রি কলেজগুরোতে কমপক্ষে ৫০ জন ছাত্র-ছাত্রী ¯œাতক পর্যায়ে থাকতে হবে। এছাড়া উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে সাধারণত প্রতি বিভাগে ৪ টি বিষয় থাকবে । তবে ৫ম বা ততোধিক বিষয় খুলতে ঐ বিষয়ে কমপক্ষে ২৫ জন শিক্ষার্থি সহ মোট ৫০ জন হতে হবে।

পরীক্ষায় পাশের হারের উপর ভিত্তি করে এমপিও বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এক্ষেত্রে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় শহরে ৫০ জন পরীক্ষা দিতে হবেএবং পাশ করতে হবে ২৫ জন। মফস্বলে কমপ্েক্ষ ৩০ জন পরীক্ষা দিয়ে পাশ করতে হবে কমপক্ষে ১৫ জন। বেসরকারি শিক্ষকদের ব্যাপারে সরকারের কোন সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকায় শিক্ষকদের বহু দুর্দশা ভোগ করতে হয়। স্বাধীনতা পরবর্তীকালেও বেসরকারি শিক্ষকগণ এখনকার তুলনায় খুব কম বেতন পেতেন।

একটি পরিসংখানে দেখা যায়-১/১/৮১ ইং থেকে বেসরকারি শিক্ষকগণ সরকারি সমমানের বেতনক্রম পাওয়া শুরু করেন। ১/১/৮০ ইং থেকে ৩০/০৬ ৮২ ইং পর্যন্ত কেবলমাত্র বেতনক্রমের প্রারম্ভিক স্তরের ৫০% প্রদান করা হয়। ১/১/৮৪ ইং থেকে ২৮/০২/৮৬ইং পর্যন্ত পূর্বোক্ত বেতন –ভাতাদির সাথে চিকিৎসা ভাতা, ও বাড়িভাড়া ১০০টাকা এবং বার্ষিক বৃদ্ধি সমমান সুবিধাদি যুক্ত করা হয়। ১/৭/৮৬ ইং থেকে ৩০/৬/৮৯ ইং পর্যন্ত সময়ে ৭০%বেতনের অংশ প্রদান করা হয়। ১/১/৯৫ ইং থেকে সরকারি বেতনের অংশ ৮০%, ১/৭/০০ইং হতে ৯০%এবং ২০০৬ সালে ১০০ বেতন প্রদানের ঘোষণা দেয়া হয়। বর্তমানে শিক্ষকগণ মূল স্কেলের ১০০% বাড়িভাড়া মাত্র ১০০ টাকা এবং চিকিৎসাভাতা ২৫০ টাকা পাচ্ছে। এ থেকেও কল্যাণ ট্রাস্ট ও অবসর সুবিধার জন্য ৮% কেটে রেখে বেতন দেয়া হয়।শিক্ষকগণ অন্যান্য পেশাজীবি সম্প্রদায়ের মত নন। তারা অল্পতেই সন্তুষ্ট। তারপরও যখন দেখেন পেছনের দিকে যেতে যেতে দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাচ্ছে তখনই ত্রাা আন্দোলনমূখী হন।

মূলত জিয়াউর রহমানের শাসনামল থেকেই শিক্ষকগণ আন্দোলনে যেতে বাধ্য হন। তারপর প্রতিটি সরকারের আমলেই তাদেরকে ন্যায্য দাবি -দাওয়া নিয়ে আন্দোলন করতে হয়। মিছিল ,মিটিং , বিক্ষোভ, সমাবেশ, ধর্মঘট, অনশন, কোনটাই বাদ দেননি। আন্দোলন করতে গিয়ে শিক্ষকের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। সুতরাং বর্তমানে প্রাপ্ত কোন সুযোগ-সুবিধা থেকে তাদেরকে বঞ্চিত করলে তারা পীছু হটে যাবেন ্এমনটি মনে করার কোন কারণ নেই। শিক্ষাগত যোগ্যতা এক হওয়ার পরও সরকারি শিক্ষকদের সাথে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকগণের সুযোগ-সুবিধায় প্রচুর তফাৎ লক্ষ্য করা যায়।সরকারি শিক্ষকগণ পাচ্ছেনঃ পূর্ণ জাতীয় বেতন স্কেল, প্রত্যোক বছর ইনক্রিমেন্ট, মূল বেতনের সমান দুটি উৎসব ভাতা, ৫০০ টাকা চিকিৎসাভাতা ,স্কেলের ৪০-৫৫%বাড়ি-ভাড়া ,পূর্ণাঙ্গ পেনশন ও পিএফ, চাকুরির নিরাপত্তা, ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ায় সরকারি সাহায্য। বেসরকারি শিক্ষকগণ এগুলোর অধিকাংশ সুযোগ –সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

বাংলাদেশে বর্তমানে কয়েকটি শিক্ষক সংগঠন রয়েছে। এগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতি, আদর্শ শিক্ষক পরিষদ, বাংলাদেশ,স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদ, মাদ্রাসা শিক্ষক পরিষদ, জমিয়তে মুদাররিছিন, শিক্ষক কর্মচারি ঔক্যজোট, জাতীয় শিক্ষক কর্মচারি ফ্রন্ট, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি অন্যতম।শিক্ষকগণ ও রাজনীতির বাইরে নয়। সরকার সমর্থিত সংগঠনগুলো সবসময় আন্দোলনে সব সময় নিরব ভুমিকা পালন করে। অন্যদিকে বিরোধীদল সমর্থিত সংগঠনগূলো দাবি-দাওয়ার ব্যাপারে সব সময় সচেতন থাকে। বিরোধীদলীয় নেতা-নেত্রীগনও এব্যাপারে সচেতন। শিক্ষকগণ অনশন করলে তারা অনশন ভাঙ্গানোর জন্য শরবরতর গ্লাশ হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন। কিন্তু এই নেতাগনই যখন ক্ষমতায় যান তখন শিক্ষকদের কথা বেমালুম ভুলে যান। শিক্ষক নেতাদের মধ্যে মত পার্থক্য থাকলেও ১৮হাজার শিক্ষকেরে টাইমস্কেল বন্ধের ব্যাপারে তারা নীরব থাকেননি। তারা গভীর ক্ষ্ভো প্রকাশ করেছেন। শ্ক্ষিক কর্মচারি ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মোঃ সেলিম ভ’ইয়া বলেন-স্কুল, কলেজ, ও মাদ্রাসার শিক্ষক কর্মচারিদের টাইমস্কেল দিয়ে আবার তা স্থগিত করা অযৌক্তিক, অন্যায় ও অমানবিক।লেখকঃ মমিনুল ইসলাম মোল্লা, প্রভাষক ও সাংবাদিক, কুমিল্লা।

Check Also

মিনি ওয়াক-ইন-সেন্টারের মাধ্যমে রবি’র গ্রাহক সেবা সম্প্রসারণ

ঢাকা :– গ্রাহক সেবাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে মোবাইলফোন অপারেটর রবি আজিয়াটা লিমিটেড সম্প্রতি মিনি ওয়াক ...

Leave a Reply