লাকসামে বিলুপ্তির পথে অর্ধশতাধিক দেশীয় প্রজাতির মাছ

লাকসাম সংবাদদাতা:

লাকসামে পুকুর, খালবিল, ডোবা ভরাটসহ কৃষি জমিতে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহারে দেশীয় প্রজাতির মা মাছগুলো প্রজনন কিংবা ডিম ছাড়তে পারছে না। এতে এ অঞ্চলে অর্ধশতাধিক দেশীয় প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হতে চলেছে।

স্থানীয় মৎস্য অফিস জানায়, এখানে আরও প্রায় ১২প্রজাতির মাছ সম্পূর্ন বিলুপ্ত হয়ে গেছে। দেশীয় মাছ বিলুপ্তির কারনে জনসাধারন কৃত্রিম ভাবে চাষকৃত বিভিন্ন মাছ খেতে হচ্ছে। পাশাপাশি জেলেরাও বেকার হয়ে পড়েছে। এদিকে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা না থাকায় মাছ চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন মৎস্য চাষীরা।

লাকসামের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ডাকাতিয়া নদীর শুষ্ক মৌসুমে শুকিয়ে মাছ শূন্য হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি ভরাট হলেও দেশীয় মাছ পাওয়া যায় না।

বিভিন্ন সূত্র মতে, এলাকার কৃষি জমিগুলোতে অতিরিক্ত ফসল উৎপাদনের জন্য লোভাতুৃর এক শ্রেনীর কৃষকরা মাত্রারিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করছে। এছাড়া অপরিকল্পিতভাবে পুকুর, নদী, খালবিল ডোবা ভরাট এবং উন্মুক্ত জলাশয়ে বাঁধ নির্মানের ফলে দেশীয় মাছ বিলুপ্ত হচ্ছে।

এদিকে অতি মুনাফার লোভে কতিপয় মৎস্য চাষী বিভিন্ন পুকুর, দীঘি ও জলাশয় ইজারা নিয়ে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক দিয়ে দেশী প্রজাতির মাছ ধ্বংস করে ফেলছে। বিলুপ্তকৃত ১২ প্রজাতির মাছ হলো নানদিয়া, সরপ্রুটি, দেশীয় পাঙ্গাস, রিটা, বাচা, আইড়, ছেনুয়া, গাওড়া ইত্যাদি। আর বিলুপ্তির সম্মুখিন পাপদা, বেদামাছ, লাল চান্দা, বাগাইর, খইল্লা, গুলশা, টেংরা ও বেলেসহ প্রায় ৫৪ প্রজাতির মাছ।

এদিকে দেশীয় মাছ নানা কারনে বিলুপ্তি হতে চললেও লাকসামের হ্যাচারি গুলো দেশীয় মাছ চাষে কিছুটা আগ্রহী হচ্ছে বলে উপজেলা মৎস্য অফিস জানিয়েছে। লাকসামের মোট ১০টি বেসরকারি হ্যাচারিতে ইদানিং দেশীয় কৈ, শিং, মাগুর, চিতল ও গলদা চিংড়ি চাষ করছে।

উপজেলা মৎস্য অফিস জানায়, লাকসাম থেকে উৎপাদিত বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশে বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়। কিস্তু বিভিন্ন সমস্যার কারনে এখানে নতুন করে কেউ মৎস্য চাষে এগিয়ে আসছে না। মৎস্য অফিস আরও জানায়, মৎস্য চাষে লাকসামের সোহাগ মৎস্য খামার দু’বার, আকিব মৎস্য খামার একবার রাষ্ট্রীয় পদক পেয়েছিল। লাকসাম উপজেলা চেয়ারম্যান ও সোহাগ মৎস্য খামারের মালিক স্বর্ণ পদক প্রাপ্ত আলহাজ্ব মজির আহমদ বলেন, কৃষিখাতে ঋণের ব্যবস্থা থাকলেও মৎস্য খাতে তা নেই। শিল্প ও কৃষিখাতে বিদ্যুতের বানিজ্যিক বিল ধরলেও মৎস্য হ্যাচারিরক্ষেত্রে তাও চালু নেই। তাই নানাহ প্রতিকুলতায় আমরা মৎস্য চাষে লোকসান গুনতে হচ্ছে। এ ব্যাপারে সরকারের বিবেচনা করা উচিত। লাকসামের রূপসা মৎস্য খামার ও রূপসা ফিসফিড ইন্ড্রাষ্ট্রিজ এর মালিক আলহাজ্ব শহীদুল আলম জানান,কৃষিখাতে কৃষকদের দিক নির্দেশনার জন্য এলাকা ভিত্তিক উপসহকারী থাকলেও মাঠ পর্যায়ে মৎস্য চাষে দিকনির্দেশনার জন্য কোনো সরকারি কর্মচারির পদ না থাকায় আমরা বিভিন্ন দিকনির্দেশনা থেকেও বঞ্চিত হই।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, বর্ষা মৌসুমে মা মাছ গুলো ডিম ছাড়ে। ওই সময় এক শ্রেনীর মৎস্য শিকারীরা তা মেরে ফেলার কারনে দেশীয় মাছ প্রজনন হয় না। তবে কীটনাশকের ব্যবহার ও রাসায়নিক সার মাছের জন্য তিকর । তাই দেশীয় মাছ বৃদ্ধি না পাওয়ায় তা দিন দিন তা বিলুপ্ত হচ্ছে।

Check Also

লাকসাম-মনোহরগঞ্জের বিএনপি’র সাবেক এমপি আলমগীরের জাতীয় পার্টিতে যোগদান

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ– কুমিল্লা-১০ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) বিএনপি’র সাবেক এমপি এটিএম আলমগীর জাতীয় পার্টিতে যোগদান করেছেন। সোমবার জাতীয় ...

Leave a Reply