সরাইলে ডা. সজীব খুন : পরিবারের দাবি স্ত্রী মীম পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করেছে

আরিফুল ইসলাম সুমন ॥

নিহত সজীব
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের কৃতি সন্তান ডা. সজীব আল ইসলামের অকাল মৃত্যুতে তার গ্রামের বাড়ি কুট্টাপাড়াসহ পুরো উপজেলায় চলছে শোকের মাতম। একজন তরুন ডাক্তারের করুন মৃত্যুকে কোন ভাবেই মেনে নিতে পারছে না সরাইলবাসী। নিহত সজীব উপজেলার কুট্টাপাড়া গ্রামের শফিকুল ইসলামের দ্বিতীয় পুত্র। তার স্বজনরা জানান, সজীবের পিতা শফিকুল ইসলাম সিলেট সরকারি ক্যাডেট কলেজের ইংরেজী বিষয়ের প্রভাষক ছিলেন। বর্তমানে তিনি সিলেটে মনির আহমেদ একাডেমির অধ্যাপক। মাতা খালেদা আক্তার ও ছোট ভাই হাসিব আল ইসলাম দীপন আমেরিকা প্রবাসী। বড় ভাই রাজিব আল ইসলাম ঢাকায় একটি বিদেশী ফার্মে চাকুরীরত। সজীব তার দ্বিতীয় স্ত্রী মীমকে নিয়ে ঢাকায় ধানমন্ডির একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। তিনি পান্থপথের শমরিতা হাসপাতালে মেডিকেল অফিসার পদে চাকুরী করতেন। সজীবের পারিবারিক জীবন সুখের ছিল না। গত বৃহস্পতিবার রাত থেকেই নিখোঁজ হয়ে যায় সজীব। দুই দিন পর শনিবার সকালে ধানমন্ডির লেক থেকে সজীবের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত সজীবের পারিবারিক সূত্র জানায়, ২০০৫ সালে বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাশ করার পর সজীব চাকুরী নেন শমরিতা হাসপাতালে। বিয়ে করেন চট্টগ্রামের জনৈক সওদাগরের কন্যা নাফিসা আক্তারকে। বিয়ের প্রায় দেড় বছর পর অসুস্থ হয়ে স্ত্রী নাফিসা মারা যান। পরে তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেন রাজধানীর রাজাবাজার এলাকার বাসিন্দা আ’লীগ নেতা ধনাঢ্য ব্যক্তি বেলাল মিয়ার বিবিএ পড়–য়া কন্যা মীমকে। বিয়ের পর থেকেই স্ত্রী মীমের সঙ্গে দাম্পত্য জীবন ভাল কাটছিল না সজীবের। তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ লেগেই থাকত। মীমের মাতা আছমা বেগম প্রায়ই জামাতা সজীবকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করতেন।

নিহত সজীবের মা খালেদা আক্তার গতকাল দুপুরে মুঠোফোনে এ প্রতিবেদককে জানান, আমার ছেলে দেশের সম্পদ ছিল। রোগীদের ফ্রি সেবা দিত। দ্বিতীয় বিয়ের পর থেকে আমার ছেলের সংসার জীবন ছিল চরম অশান্তির। মীম ও তার স্বজনরা মিলে আমার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। হত্যাকে ধামাচাপা দিতে সব কাজ তারা নিজেরাই করেছেন। লাশ দাফন করার পূর্বে আমাদের জানিয়েছেন। নিহত ডা. সজীব মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন এ কথাটি উড়িয়ে দিয়ে খালেদা বলেন, সজীব নিয়মিত রোগীদের চিকিৎসা করতেন। তারা চাপ সৃষ্টি করে জোরপূর্বক আমার বড় ছেলে রাজীবকে দিয়ে অপমৃত্যু লিখা কাগজে স্বাক্ষর নিয়েছেন। মৃত্যু কিভাবে হয়েছে তা নিশ্চিত করবে ডাক্তার। আমি পুত্র হত্যার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই। সজীবের বাবা শফিকুল ইসলাম বলেন, আমার ছেলে একজন সুস্থ সার্জারি ডাক্তার। সে সাতাঁর জানে। লেকের পানিতে পড়ে মারা যাবে কেন। দুই দিন নিখোঁজ তার সহধর্মিনী স্ত্রী জানে না! বাসা তালা দিয়ে বাহিরে গেল। স্ত্রী মীমের কাছে একটি চাবি ছিল। মীম বাবার বাসায় চলে গেল। এখন বাসায় প্রবেশের জন্য চাবি পাওয়া যাচ্ছে না। এ কেমন কথা ? সত্য উৎঘাটিত হবে তো ? এ বিষয়ে জানতে সজীবের স্ত্রী মীমের মুঠোফোনে গতকাল বিকেলে কল করলে তার বোন পরিচয় দিয়ে সানজিয়া জানান, মীমকে দেয়া যাবে না। সে মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছেন। মীমের বাবা বেলাল মিয়াকে চাইলে সানজিয়া জানান, তাকেও দেয়া যাবে না। তার ফোন নাম্বারও দেয়া যাবে না। আপনাদের এই বিষয়ে আপতত কিছু জানার প্রয়োজন নেই। পরে সবই জানবেন।

Check Also

আশুগঞ্জে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মরদেহ উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :– ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মো. হারুন মিয়া (৪৫) নামে দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামির ...

Leave a Reply