সরাইলে দেবর ভাবীর পরকীয়া: তিন লাখ টাকা জরিমানা

আরিফুল ইসলাম সুমন, সরাইল ॥
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে বরসাজে দেবর বিয়ে করতে যাওয়ার পথে সুন্দরী ভাবীর পরকীয়া প্রেমে ফেঁসে গেলেন। এদিকে এক কলেজপড়–য়া কন্যা বধূ সেজে অপেক্ষা করলেও বর মান্নান বিয়ে বাড়িতে যেতে পারেনি। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি ঘটেছে গত শুক্রবার দুপুরে উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের চৌরাগোদা গ্রামে। এলাকাবাসী জানান, চৌরাগোদা গ্রামের মো. সৈয়দ আলীর পুত্র হান্নান ও মান্নান। দু’জনই প্রবাসে চাকুরি করেন। বড় ভাই হান্নান ১০ বছর আগে নোয়াগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান ইউপি সদস্য মো. তাজুল ইসলামের কন্যা ইয়াছমিনকে বিয়ে করেন। সংসার জীবনে ইয়াছমিনের দুই সন্তান। এক ছাদের নিচে বসবাসের সুবাধে সুন্দরী ইয়াছমিন দেবর মান্নানের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলেন। হান্নান বিদেশে থাকার সুযোগে দীর্ঘ দিন যাবত দেবর ভাবীর পরকীয়া চলতে থাকে। সম্প্রতি মান্নান মধ্যপ্রাচ্যের দোবাই থেকে দেশে ফিরে। সুন্দরী ভাবীর সাথে দেবর মান্নানের সম্পর্ক আগের মতোই চলতে থাকে। তবুও মান্নানের ইচ্ছে তার পছন্দ মতো পাত্রীকে বিয়ে করে সংসার করার। গত ৯ সেপ্টেম্বর পারিবারিকভাবে মান্নানের বিয়ে ঠিক করেন একই ইউনিয়নের পাশ্ববর্তী গ্রামে এক কলেজপড়–য়া কন্যার সঙ্গে। নাগর দেবরের বিয়ের খবরে বেপরোয়া হয়ে পড়ে সুন্দরী ভাবী ইয়াছমিন। দেবরকে আরো কাছে পেতে বিভিন্ন কৌশল খাটিয়ে ইয়াছমিন গত ১২ সেপ্টেম্বর আদালতের মাধ্যমে মান্নানকে বিয়ে করেন। এক্ষেত্রে ইয়াছমিন তার স্বামী হান্নানকে ডিভোর্স দেননি। দেবর-ভাবী দু’জনেই তাদের বিয়ের বিষয়টি পরিবারে চেপে রাখেন। মান্নানের বিয়ের দিনক্ষন অনুযায়ী গত শুক্রবার দুই বাড়িতে চলে বিয়ের উৎসব। দুপুরের দিকে বর সেজে রওয়ানা হয় মান্নান। অনেক বরযাত্রী কনের বাড়ির কাছাকাছি পৌঁছে যান। হঠাৎ বর বেশে মান্নানকে দেখে ভাবী ইয়াছমিন উতালা হয়ে ওঠে। লাজ-লজ্জার পরোয়া না করেই ইয়াছমিন পথেমধ্যে বর মান্নানকে ঝাপটে ধরে। তখন উপস্থিত লোকজনদের ইয়াছমিন জানান, মান্নান আমার বিবাহিত স্বামী। আমরা দু’জনে আদালতের মাধ্যমে বিয়ে করেছি। বর আটকের খবরটি মুহুর্তের মধ্যে পুরো উপজেলায় জানাজানি হয়ে যায়। খবর পৌছে যায় বরের অপেক্ষায় কন্যা দায়গ্রস্ত অসহায় পিতার কাছে। এমন অনাকাঙ্খিত খবরে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন বধূ সাজে বসা কন্যা ও স্বজনরা। এ ঘটনায় রাতেই স্থানীয় চেয়ারম্যান, সমাজপতি ফজলু মৃধা, আবুক্কর মৈশান, আহাম্মদ মৃধা, আলী আকবর ঠাকুর, নুর আহাম্মদ, শিপন মেম্বার প্রমূখ সালিশ সভায় বসেন। ভাবী ইয়াছমিন দেবর মান্নানকে ছাড়তে নারাজ। এ অবস্থায় সমাজপতিরা বর মান্নানকে নির্দেশ দেন ওই অসহায় পরিবারকে ক্ষতিপূরন বাবদ তিন লাখ টাকা দেয়ার। এ প্রসঙ্গে অভিযুক্ত মান্নানের সঙ্গে যোগাযোগ করলে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে প্রথমে ক্ষেপে যান। পরে তিনি বলেন, এটা একটি গভীর ষড়যন্ত্র। ভাবী ইয়াছমিন একটি ভূয়া কাগজ তৈরী করে আমাকে অপমান করেছে। তাকে স্ত্রীর মর্যাদা দিব কি না তা পরে ভেবে দেখব। এ বিষয়ে নোয়াগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু মুছা ওসমানী মাসুক ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, যদিও সকলে মিলে সামাজিকভাবে ঘটনাটি নিস্পত্তি করেছি, মান্নানের কৃত অপরাধ ক্ষমার অযোগ্য।

Check Also

আশুগঞ্জে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মরদেহ উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :– ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মো. হারুন মিয়া (৪৫) নামে দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামির ...

Leave a Reply