সরাইলে চেয়ারম্যানের হস্তক্ষেপে বাল্য বিয়ে থেকে রক্ষা পেল শিশু মহিমা

সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি ॥
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে ইউপি চেয়ারম্যানের হস্তক্ষেপে বাল্য বিয়ে থেকে রক্ষা পেল শিশু মহিমা(১২)। গতকাল শুক্রবার উপজেলার কালীকচ্ছ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. তকদীর হোসেন বিশুতারা গ্রামে বিয়ে বাড়িতে উপস্থিত হয়ে এ বাল্য বিয়ে ভেঙ্গে দেন। শিশু মহিমা একই ইউনিয়নের বিশুতারা গ্রামের দানু মিয়ার কন্যা। সে সরাইল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী।
গ্রামবাসী জানান, গতকাল শুক্রবার স্কুলছাত্রী মহিমার সঙ্গে পাশ্ববর্তী চুন্টা গ্রামের জনৈক যুবকের বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। বৃহস্পতিবার শিশু মহিমার গায়ে হলুদ অনুষ্ঠানের খবর পেয়ে স্থানীয় সাংবাদিকরা বিষয়টিতে নজর দেন। গতকাল শুক্রবার স্থানীয় বিভিন্ন দৈনিকে এই বাল্য বিয়ের বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়। রহস্যজনক কারণে বিষয়টি চেপে যান মহিমার পরিবার। এদিকে খবর পেয়ে শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে বিশুতারা গ্রামে বিয়ে বাড়িতে ছুটে যান স্থানীয় চেয়ারম্যান মো. তকদীর হোসেন। তিনি বিয়ে বাড়ির সাজানো গেইট, প্যান্ডেল নিজে উপস্থিত থেকে খুলে ফেলেন। ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, বিয়েটি আইনসিদ্ধ নয়। তাই দানু মিয়াকে বিয়ের কার্যক্রম বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছি। তিনি আরো জানান, ৯নং ওয়ার্ডের মেম্বার ফজল ইসলাম মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে জালজালিয়াতির মাধ্যমে ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রীকে প্রাপ্তবয়স্ক দেখিয়ে নিবন্ধন করিয়ে জন্ম সনদ এনেছেন। এতে পরিষদ সচিবের চরম গাফিলতি রয়েছে। বাল্য বিয়ের খবর পেয়ে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আসেন সরাইল থানার উপ-পরিদর্শক(এসআই) বেলাল হোসেন। তিনি জানান, বিশুতারা গ্রামে গিয়ে মহিমার পরিবারকে বিয়ে বন্ধ করতে বলে এসেছি। বিশুতারা গ্রামের বাসিন্দা মো. রানু মিয়াসহ অনেকে জানান, শুক্রবার এ বিষয়ে পত্র-পত্রিকায় সংবাদ ছাপায় ও প্রশাসনের ভয়ে মহিমার বাল্য বিয়ে বন্ধ হয়েছে। তারা বাল্য বিয়ের কুফল সম্পর্কে অবগত হয়ে তাদের ভূল বুঝতে পেরেছে। কালীকচ্ছ ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মো. মাহবুবুল ঠাকুর জানান, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে মহিমার জন্ম নিবন্ধন করিয়ে সনদ নিয়েছেন ইউপি সদস্য ফজল ইসলাম। নিবন্ধন নং-২৮২৫৩। নিবন্ধনে শিশু মহিমার বয়স ১৮ বছর ২ মাস ৪ দিন দেখানো হয়। আবেদন ফরমে ওই ইউপি সদস্যের স্বার ও সীল রয়েছে। কালীকচ্ছ ইউনিয়নের নিকাহ্ রেজিষ্টার (কাজী) মাওলানা আবদুল মতিন খান জানান, গতকাল শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে বিশুতারা গ্রামের বিয়ে বাড়ি থেকে মুঠোফোনে জানানো হয় আজ বিয়ে হচ্ছে না, আসার প্রয়োজন নেই। পরে জানাবেন। সরাইল পাইলট বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আইয়ূব খান বিষয়টি শুনে আশ্চর্য হন। তিনি বলেন, একটি শিশু মেয়ের বিয়ের আয়োজন যারা করতে চেয়েছিলেন, তাদের বিবেক কি একটুও সাড়া দেয়নি। বিশুতারা গ্রামের বাসিন্দা ও ইউপি সদস্য ফজল ইসলাম মহিমার জন্ম নিবন্ধন সনদ নেয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, মেয়েটির বয়স কম বিয়ে হবে না। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সাফায়াত মোহাম্মদ শাহে-দুল ইসলাম বলেন, বাল্য বিয়ের খবর শুনে দুপুরে বিশুতারা গ্রামে যায়। মেয়েটির পরিবার বলছেন বিয়ে নয়, কথাবার্তা চলছিল মাত্র। শিশু মহিমাকে জন্ম নিবন্ধন সনদে প্রাপ্তবয়স্ক দেখানোর বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নিব।

Check Also

কুমিল্লায় তিন গৃহহীন নতুন ঘর পেল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ– কুমিল্লা সদর উপজেলায় গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে ৪নং আমড়াতলী ইউনিয়নের গৃহহীন নুরজাহান বেগম, ...

Leave a Reply