মনোহরগঞ্জের পঞ্চগ্রাম স্কুলে শ্রেণি কক্ষের অভাবে পাঠদান চলে বিদ্যালয় অফিসে ও বারান্দায়

জামাল উদ্দিন স্বপন:
মনোহরগঞ্জ উপজেলা বাইশগাঁও ইউনিয়নের পঞ্চগ্রাম স্কুলে শ্রেণী কক্ষের অভাবে শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলে বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে ও বারান্দায়।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স্কুলের অফিস কক্ষে দশম শ্রেণীর সামাজিক বিজ্ঞান বিষয়ে পাঠদান করছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক শাহআলম ও বারান্দায় নবম শ্রেনীর পদার্থ বিজ্ঞান পড়াচ্ছেন সেলিম হোসেন ভূঁইয়া। দশম শ্রেণীর ছাত্রী আফরোজা আক্তার জানান, শ্রেণী কক্ষ না থাকায় অফিস কক্ষে শিক্ষকদের চেয়ারে বসে ক্লাস করতে আমরা বিব্রতবোধ করি। কিন্তু পাঠদানের স্বার্থে স্যারেরাই আমাদেরকে বসতে বলেন। জানা যায়, ১৯৮৪ সালের ১ জানুয়ারি বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। শুরুতেই এলাকার গণ্যমান্য ব্যাক্তিদের সহযোগিতায় ২৪ হাত লম্বা দীর্ঘ দোচালা টিনের ঘর, বাঁশের খুঁটি ও মুলির বেড়া দিয়ে তৈরি হয় এই প্রতিষ্ঠান। ধীরে ধীরে চলতে থাকে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম। ১৯৯৪ সালে ১ জানুয়ারি বিদ্যালয়টি বোর্ড স্বীকৃতি লাভ করে। একই বছরে এটি এমপিওভুক্ত হয়। ২০০৪-০৫ অর্থ বছরে ফ্যাসিলিটিজ ডিপার্টমেন্ট কর্তৃক ১টি একতলা ভবন নির্মাণ হলেও প্রয়োজনীয় সংস্কারের অভাবে ভবনটির অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। অবকাঠামোগত ত্রুটির কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম বিঘিœত হচ্ছে। বিদ্যালয় ছাত্র-ছাত্রী সংখ্যা প্রায় ৭০০ জন। শিক্ষক-শিক্ষিকা ১০ জন। প্রতিষ্ঠানটি শতভাগ ফলাফল অর্জন করায় ২০০৫ সালে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে ৬ষ্ঠ স্থান ও ২০০৬ সালে ১১ তম স্থান অর্জন করে। ভাল ফলাফল অর্জনে ও শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতিকল্পে বিদ্যালয়ের শ্রেণীকক্ষ বৃদ্ধির কথাই বললেন অভিভাবক সহ এলাকার শিক্ষা সচেতন মানুষ। বিগত সরকারের আমলে এডিবি থেকে ২ লাখ ১০ হাজার টাকার একটি বরাদ্দ পাওয়া গেলে চারদিকে ইটের গাঁথুনি দিয়ে শ্রেণীকক্ষের জন্য একটি রুম তৈরি করা হলেও টাকার অভাবে হয়নি ছাদ, দরজা, জানালা। খোলা আকাশের নিচে বর্ষাকালে বৃষ্টিতে ভেজার কারণে এটিতে ও শ্যাওলা পড়ে গেছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর উল্ল্যেখ যোগ্য সরকারি কোন বরাদ্দ না পাওয়ায় একতলা ভবটিকে দ্বিতল কিংবা ত্রিতল করার দুরের কথা আধা কাঁচা-পাঁকা টিনশেড ঘর দুটি ও সংস্কারের অভাবে ভেঙ্গে যাচ্ছে। এলাকাবাসী স্কুলটির উন্নয়নের জন্য জোর প্রচেষ্টা চালালেও জন প্রতিনিধিরা তেমন কোন উদ্যোগ নেননি । এদিকে বিজ্ঞানাগার ও গ্রন্থাগার না থাকায় প্রয়োজনীয় বই পুস্তুক ও যন্ত্রপাতি বিদ্যালয় অফিস কক্ষে পড়ে আছে। অযতœ আর অবহেলায় এ সকল জিনিস পত্র নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কমন রুম না থাকায় ঘন্টার পর ঘন্টা বারান্দায় দাড়িয়ে থাকতে হচ্ছে মেয়েদের।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ কামাল জানান, প্রয়োজনের তুলনায় অবকাঠামো অপ্রতুল । পর্যাপ্ত শ্রেণীকক্ষ না থাকায় শিক্ষক-শিক্ষিকারা যখন বিভিন্ন শ্রেণীতে পাঠদানে চলে যান তখন অফিসকক্ষ খালি থাকায় প্রয়োজনীয় ক্লাস অফিস কক্ষেই চালিয়ে নিতে হয়। তিনি বলেন বিদ্যালয়ের ভবন নির্মানের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য তাজুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি আগামী অর্থ বছরে নতুন ভবন নির্মাণের আশ্বাস প্রদান করেন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দ তৈয়ব হোসেন এর সত্যতা স্বীকার করে এ বিষয়ে আমাদের কুমিল্লাকে জানান, ভবন সংকট ও উন্নয়ন বঞ্চিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামের তালিকা আমরা তৈরি করছি। শীগগিরই শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে প্রতিষ্ঠানটির নাম পাঠানো হবে।

Check Also

লাকসাম-মনোহরগঞ্জের বিএনপি’র সাবেক এমপি আলমগীরের জাতীয় পার্টিতে যোগদান

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ– কুমিল্লা-১০ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) বিএনপি’র সাবেক এমপি এটিএম আলমগীর জাতীয় পার্টিতে যোগদান করেছেন। সোমবার জাতীয় ...

Leave a Reply