তিতাসে হেলাল হত্যাকাণ্ডের প্রথম মামলার স্বাক্ষীদের বিরুদ্ধে এবার স্ত্রীর হত্যা মামলা

নাজমুল করিম ফারুক, তিতাস :
তিতাস উপজেলার গোপালপুর গ্রামে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় হেলাল হত্যাকাণ্ডের প্রথম মামলার স্বাক্ষী ও ইউপি নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী আবুল খায়েরসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে কুমিল্লা বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেটের ৩নং আমলী আদালতে সোমবার হেলালের স্ত্রী রাহিমা আক্তার বাদী হয়ে হত্যা মামলা জন্য অভিযোগ দাখিল করেন। বিজ্ঞ আদালত অভিযোগটি এফআইআর হিসেবে গণ্য করে নিয়মিত মামলা রুজু পূর্বক পুলিশী প্রতিবেদন দাখিলের জন্য তিতাস থানায় প্রেরণ করেছে।

বাদীর অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায়, রাহিমা আক্তারের স্বামী হেলাল দীর্ঘদিন যাবৎ মাদকাসক্ত ছিল। যার ফলে তার শ্বশুর কয়েকবার মাদক সেবনের কারণে পুলিশের মাধ্যমে জেলে পাঠায়। ইউপি নির্বাচনের পূর্ব মুহুর্তে চেয়ারম্যান প্রার্থী আবুল খায়ের নির্বাচন করার জন্য তার স্বামীকে জেলখানা থেকে বাহির করে আনে। হেলাল হত্যাকাণ্ডের ২ দিন পূর্বে সে তার স্বামীকে নিয়ে মুরাদনগর উপজেলার পালাসুতা গ্রামে পিত্রালয়ে বেড়াতে আসে। আসার ১ দিন পর অর্থ্যাৎ গত ১৭ জুলাই আসামীদের মধ্যে ৪-৫ জন হেলালকে গোপালপুর আনতে পালাসুতা গ্রামে যায়। হেলাল আসতে বারন করায় মোবাইলের মাধ্যমে আবুল খায়ের হেলালকে আসতে বলে তখন তার স্বামী হেলাল তাকে বাপের বাড়িতে রেখে গোপালপুরে আসে। গত ১৯ জুলাই ভোর ৬টায় মোবাইলের মাধ্যমে জানতে পারে হেলালকে সন্ত্রাসীরা হত্যা করেছে। রাহিমা আক্তার থানায় মামলা করতে চাইলেও আসামীরা তাকে মামলার বাদী না করে তার শ্বশুরকে মামলার বাদী হতে বলে। বার বার স্বামীর হত্যার আসামীদের নাম জানতে চাইলেও তাকে কেউ আসামীদের নাম বলেনি বরং শ্বশুর বাড়ীতে তাকে জোড় পূর্বক ৪০ দিন আটকিয়ে রাখে বলে অভিযোগ করেন। তিনি আরো অভিযোগ করেন, ইউপি নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী আবুল খায়ের তার সহযোগিদের নিয়ে পরিকল্পিত ভাবে তার স্বামী হেলালকে হত্যা করিয়া তার শ্বশুরকে ভুল বুঝাইয়া মামলার বাদী করিয়া নির্দোষ ব্যক্তিদের নামে মামলা করেছে। রাহিমা বেগমের অভিযোগে উল্লেখিত স্বাক্ষীগণের বর্ণনামতে তার স্বামী হেলালকে কিভাবে আবুল খায়ের ও তার সহযোগীরা হত্যা করে অভিযোগপত্রে তার একটি বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ১৮ জুলাই দিবাগত রাতে গোপালপুর গ্রামের মোঃ মালেক মিয়ার পুত্র এবং রাহিমা আক্তারের স্বামী মোঃ হেলাল (২৮) কে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় জবাই ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

Check Also

কুমিল্লায় তিন গৃহহীন নতুন ঘর পেল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ– কুমিল্লা সদর উপজেলায় গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে ৪নং আমড়াতলী ইউনিয়নের গৃহহীন নুরজাহান বেগম, ...

Leave a Reply