হত্যা না স্বাভাবিক মৃত্যু ! ইউপি সদস্যসহ ২৩ ব্যক্তির বিরুদ্ধে হত্যা মামলা

আরিফুল ইসলাম সুমন, সরাইল (ব্রা‏‏হ্মণবাড়িয়া) :
ব্রা‏‏হ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার শাহজাদাপুর ইউনিয়নের দেওড়া গ্রামে গত শুক্রবার রাতে সত্তোরোর্ধ বয়সের আশকর আলী নামে এক বৃদ্ধের রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে এলাকায় ধুম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী লোকজনসহ এলাকার অনেকে প্রকাশ্যে বলছেন আশকর আলীর স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু নিহতের পরিবারের দাবি তাকে প্রতিপক্ষের লোকজন হত্যা করেছে। শনিবার সকালে পুলিশ দেওড়া গ্রাম থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় গতকাল রোববার নিহতের ছেলে হুমায়ুন মিয়া বাদী হয়ে এলাকার মেম্বারসহ ২৩ ব্যক্তির বিরুদ্ধে সরাইল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

পুলিশ ও গ্রামবাসী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার দেওড়া গ্রামের কালা মিয়া ও ধন মিয়ার গোষ্ঠির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। চলতি বছরের ১৩ মার্চ একটি মুঠোফোন চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে দু’গোষ্ঠির লোকদের মধ্যে ছয়বার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মামলা হয়েছে অর্ধডজন।

গত শুক্রবারও দুই গোষ্ঠির লোকদের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। সংঘর্ষের পর উভয় গোষ্ঠির লোকজন পুলিশি গ্রেপ্তার এড়াতে সন্ধ্যার পর গ্রাম ছেড়ে পালাতে থাকে। কালা মিয়ার গোষ্ঠির জামাতা বৃদ্ধ আশকর আলীও গ্রামবাসীর সঙ্গে পার্শবর্তী ধীতপুর গ্রামে আশ্রয় নেন। শুক্রবার রাত সাড়ে ১০ টার দিকে গ্রামের কালা মিয়ার গোষ্ঠির মো. বাঘা মিয়া, হাসেন মিয়া, তাজন মিয়া, কালু মিয়া এবং ধীতপুর গ্রামের লোকমান হোসেন (৫৫), আলম মিয়া (৫০) ও আজহার আলী (৩৭) সহ বৃদ্ধ আশকর আলী ধীতপুর গ্রামে একটি মুঠোফোনের টাওয়ারের পাশে টুলে বসে ধূমপান করছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী মুঠোফোন টাওয়ারের প্রহরী মো. লোকমান হোসেন সহ ধীতপুর গ্রামের বাসিন্দা আলম মিয়া ও আজহার আলী জানান, শুক্রবার রাত অনুমান সাড়ে ১০টার দিকে বৃদ্ধ আশকর আলী ধূমপানরত অবস্থায় হঠাৎ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তখন আমরা তাকে সোজা করে মাটিতে শুইয়ে দেয়। এসময় হাসেন মিয়া এক ব্যক্তি দৌড়ে একজন পল্লী চিকিৎসক আনতে যান। কিন্তু চিকিৎসক আসার আগেই বৃদ্ধ লোকটি মারা যান। প্রত্যক্ষদর্শী যুবক নুর ইসলাম জানায়, লোকটি মারা যাওয়ার পর আমি দোকান থেকে আগর বাতি এনে তার লাশের পাশে জ্বালিয়ে দেয়। কিছুক্ষন পর বৃদ্ধার সঙ্গে থাকা লোকজন লাশ নিয়ে দেওড়া গ্রামে চলে যান। এদিকে নিহত আশকর আলীর স্ত্রী রেহেনা খাতুন (৬৫) অভিযোগ করে বলেন, আগের সংঘর্ষের পর রাতে গ্রামে দাঙ্গা পুলিশ এসে বাড়ির লোকদের মারধর করে। সেই ভয়ে শুক্রবার রাত ১২টার দিকে আমার স্বামী বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর লোকমুখে শুনতে পায় আমার স্বামীকে ধন মিয়ার গোষ্ঠির লোকজন মেরে ফেলেছে। নিহত আশকর আলীর বড় ছেলে হুমায়ূন মিয়া বলেন, আমাদের আসল বাড়ি বিজয়নগর উপজেলার বুধন্তি ইউনিয়নের শশুই (ইসলামপুর) গ্রামে। আমি পরিবার নিয়ে সেখাইে থাকি। রাত ১১টার দিকে আমার মামা আলী মোয়াজ্জেম ফোন করে আমাকে জানান, বাবাকে মাইরা ফালাইছে। ওই রাতেই আমি দেওড়া গ্রামে পৌঁছি। এ প্রসঙ্গে মুঠোফোনে স্থানীয় মেম্বার মো. সাব্বির মিয়া জানান, বয়োজৈষ্ঠ্য মুরব্বি আশকর আলী আমাদের গ্রামের জামাতা। তার স্বাভাবিক মৃত্যুকে পুঁজি করে প্রতিপক্ষের লোকজন ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মূলত প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করা তাদের লক্ষ্য। দেওড়া গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য মো. ইয়াছিন মিয়া বলেন, আশকর আলী হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। কিন্ত তারা নাটকীয়ভাবে এটি হত্যার ঘটনা সাজিয়েছে।

এ ব্যাপারে সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো.জহিরুল ইসলাম খাঁন বলেন, বাদীর লিখিত অভিযোগ নথিভূক্ত করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে মনে হচ্ছে এটি একটি স্বাভাবিক মৃত্যু । যেহেতু অভিযোগ করা হচ্ছে তাই ময়না তদন্ত করা হয়েছে। ময়না তদন্তের প্রতিবেদন হাতে আসার পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে




Check Also

আশুগঞ্জে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মরদেহ উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :– ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মো. হারুন মিয়া (৪৫) নামে দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামির ...

Leave a Reply