সংঘর্ষের জের : সরাইলে বৃদ্ধকে হত্যার অভিযোগ

আরিফুল ইসলাম সুমন, সরাইল (ব্রা‏‏হ্মণবাড়িয়া) :
ব্রা‏‏হ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার শাহজাদাপুর ইউনিয়নের দেওড়া গ্রামে গত শুক্রবার রাতে আশকর আলী (৭০) নামে এক বৃদ্ধকে প্রতিপক্ষ লোকজন হত্যা করেছে বলে নিহতের পরিবার অভিযোগ করেছেন। তবে প্রতিপক্ষের লোকজনের দাবি বৃদ্ধার স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। পুলিশও এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছেন না। গতকাল সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো.জহিরুল ইসলাম খাঁন বলেন, প্রাথমিক তদন্তে মনে হচ্ছে এটি একটি স্বাভাবিক মৃত্যু। পুলিশ গতকাল শনিবার সকাল ১০ টার দিকে আশকর আলীর বসত বাড়ির একশত গজ দূরে একটি পুকুর পাড় থেকে তার লাশ উদ্ধার করে। যেহেতু হত্যার অভিযোগ করা হয়েছে, তাই নিহতের লাশ ময়না তদন্ত করা হচ্ছে। ময়না তদন্তের প্রতিবেদন হাতে আসার পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে। এদিকে গতকাল সরাইল থানা পুলিশ নিহত বৃদ্ধের লাশ ময়না তদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

পুলিশ ও গ্রামবাসী সূত্র জানায়, দেওড়া গ্রামের কালা মিয়া ও ধন মিয়ার গোষ্ঠির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ বছরের ১৩ মার্চ কালা মিয়ার বংশের আনোয়ার হোসেনের বাড়ি থেকে একটি মুঠো ফোন চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে গত শুক্রবার (১৬-০৯-১১) পর্যন্ত অন্তত ছয়বার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসব সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষের পাঁচ শতাধিক লোক আহত হয়। ভাংচুর ও লুটপাট চালানো হয় ২০টি বসতবাড়িতে। এসব ঘটনায় দু’পক্ষের দায়ের করা মামলার সংখ্যা অর্ধ ডজন।

গ্রামের একাধিক ব্যক্তি জানান, গত শুক্রবারের সংঘর্ষের পর উভয় গোষ্ঠির লোকজন পুলিশি গ্রেফতার এড়াতে সন্ধ্যার পর গ্রাম ছেড়ে পালাতে থাকে। গ্রামবাসীর সাথে বৃদ্ধ আশকর আলীও দেওড়া গ্রামের কয়েকজন যুবকের সাথে পায়ে হেটে পার্শ্ববর্তী শাহবাজপুর ইউনিয়নের ধীতপুর গ্রামে আশ্রয় নেন। রাত সাড়ে ১০ টার দিকে কালা মিয়ার গোষ্ঠির জামাতা বৃদ্ধ আাশকর আলী, বাঘা মিয়া, হাসেন মিয়া, তাজন মিয়া, কালো মিয়া এবং ধীতপুর গ্রামের লোকমান হোসেন (৫৫), আলম মিয়া (৫০) ও আজহার আলী (৩৭) ধীতপুর গ্রামে একটি মুঠোফোনের টাওয়ারের পাশের টুলে বসে ধূমপান করছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী লোকমান হোসেন (টাওয়ারের প্রহরী), আলম মিয়া ও আজহার আলী জানান, বৃদ্ধ আশকর আলী ধূমপানরত অবস্থায় হঠাৎ টুল থেকে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তখন আমরা তাকে সোজা করে মাটিতে শুইয়ে দেয়। এসময় হাসেন মিয়া দৌড়ে একজন পল্লী চিকিৎসক আনতে যায়। কিন্তু চিকিৎসক আসার আগেই তিনি (বৃদ্ধ আশকর আলী) মারা যান। কিছুক্ষন পর নিহতের লোকজন লাশ নিয়ে দেওড়া গ্রামে চলে যায়।

এদিকে নিহতের স্ত্রী রেহেনা খাতুন (৬০) অভিযোগ করে বলেন, আগের সংঘর্ষের পর গ্রামে দাঙ্গাপুলিশ এসে আমার স্বামীসহ সবাইকে মারধর করেছিল। সেই ভয়ে তিনি শুক্রবার রাত অনুমান ১২ টার দিকে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর লোকমুখে শুনতে পায় আমার স্বামী মারা গেছে। লোকজন বলাবলি করছে ধন মিয়ার গোষ্ঠির লোকজন তাকে মেরে ফেলেছে।

নিহত আশকর আলীর বড় ছেলে হুমায়ূন মিয়া (৩৫) বলেন, আমাদের আসল বাড়ি বিজয়নগর উপজেলার বুধন্তি ইউনিয়নের শশুই (ইসলামপুর) গ্রামে। আমি পরিবার নিয়ে সেখাইে থাকি। রাত ১১টার দিকে আমার মামা আলী মোয়াজ্জেম ফোন করে আমাকে জানান, বাবাকে মাইরা ফালাইছে। রাতেই আমি দেওড়া গ্রামে পৌঁছি। আমি বাদী হয়ে ধন মিয়া গোষ্ঠীর লোকজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করব।




Check Also

আশুগঞ্জে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মরদেহ উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :– ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মো. হারুন মিয়া (৪৫) নামে দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামির ...

Leave a Reply