সরাইলের দেওড়া গ্রাম রণক্ষেত্র : দু’গোষ্ঠির সংঘর্ষ ব্যাপক ভাংচুর লুটপাট আহত শতাধিক

আরিফুল ইসলাম সুমন, সরাইল (ব্রা‏‏হ্মণবাড়িয়া)॥

ব্রা‏‏হ্মণবাড়িয়ার সরাইলের দেওড়া গ্রাম রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। পূর্ব শত্র“ুতার জের ধরে দু’গোষ্ঠির সংঘর্ষে দুই দলের শিশু নারীসহ অন্তত শতাধিক লোক আহত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকালে উপজেলার শাহজাদাপুর ইউনিয়নের দেওড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও গ্রামবাসী সূত্র জানায়, দেওড়া গ্রামের কালা মিয়া ও ধন মিয়ার গোষ্ঠির মধ্যে পূর্ব থেকে বিরোধ চলে আসছে। গতকাল শুক্রবার ভোরে কালা মিয়া গোষ্ঠির লোকজন ধন মিয়ার গোষ্ঠির আকতার (১৮) নামে এক যুবককে মারধোর করে। এ ঘটনার কিছুক্ষণ পর ধন মিয়ার গোষ্ঠীর লোকজন কালা মিয়ার গোষ্ঠীর আজিজুর রহমানকে (৫০) পিটিয়ে গুরুতর আহত করে।

এর জের ধরে পাশ্ববর্তী শাহবাজপুর ইউনিয়নের নিচুনিয়া মোড়া ও জাদবপুর গ্রামের লোকজন কালা মিয়া গোষ্ঠির লোকজনকে নিয়ে ধন মিয়া গোষ্ঠির লোকজনের বাড়িতে হামলা চালায়। এসময় তারা ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট করে। পরে উভয় পক্ষের দাঙ্গাবাজ লোকজন দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। টানা সাড়ে তিন ঘন্টা সংঘর্ষে উভয় পক্ষের শিশু ও নারীসহ শতাধিক লোক আহত হয়। সংঘর্ষচলাকালে দাঙ্গাবাজরা ঘর-বাড়িতে ব্যাপক ভা্চংুর ও লুটপাট চালায়। আহতদের মধ্যে আজিজুর রহমনকে (৫০) আশংকাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। এছাড়া আবুল হোসেন, আনার মিয়া, আরমান মিয়া, জুয়েল মিয়া, জাহেনা বেগম, বাবু মিয়া (১০) মাহবুর রহমান, জিল্লু মিয়া, মোস্তাক আহমেদ, রোজিনা বেগম, জুয়েল রানা, রাজন মিয়া, আলফু মিয়া, জামাল মিয়া, ইবাদুল মিয়া, জজ মিয়া, মারুফা বেগম , রহিমা বেগম, হিরু মিয়া , সামসু মিয়া, রহিম মিয়া, সিমা বেগম , আলফিনা বেগম, নিলি আকতার (১২), তারিনা (৮) ও মারুফা বেগমকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতাল এবং সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি ও চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। খবর পেয়ে সরাইল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলেও সহস্্রাধিক দাঙ্গাবাজদের কাছে তারা অসহায় হয়ে পড়ে। পরে ভয়াবহ সংঘর্ষ থামাতে জেলা থেকে আসা অতিরিক্ত দাঙ্গা পুলিশ ও সরাইল থানার পুলিশ ব্যাপক লাঠিপেটা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। স্থানীয় লোকজন অভিযোগ করে বলেন, একটি মুঠোফোন চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে দু’গোষ্ঠির মধ্যে এ পর্যন্ত ছয় বার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। মিন্টু নামে এক ব্যবসায়ীকে পায়ের রগ ও কান কেটে পঙ্গু করে দেয়া হয়েছে। দু’গোষ্ঠির বিরোধ নিস্পত্তিতে এলাকায় কয়েক দফা সালিশ-বৈঠক হয়েছে। কিন্তু স্থানীয় আ’লীগের প্রভাবশালী নেতা মো. ছায়েফ উল্লাহ ঠাকুরের উষ্কানিতে দু’গোষ্ঠির মধ্যে বিরোধ লেগেই আছে। গ্রামের লোকজন আরো বলেন, তিনি পক্ষ-পাতিত্ব না করলে বিষয়টি নিস্পত্তি করতে পারেন। তা না করে তিনি গ্রামে অশান্তি লেগেই রেখেছেন।

এ ব্যাপারে সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো.জহিরুল ইসলাম খাঁন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।




Check Also

আশুগঞ্জে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মরদেহ উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :– ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মো. হারুন মিয়া (৪৫) নামে দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামির ...

Leave a Reply