মুরাদনগরে আওয়ামীলীগ’র দু’নেতার আধীপত্তের লড়াইয়ে উত্তপ্ত রাজনিতির মাঠ

শরিফুল আলম চৌধুরী, মুরাদনগর (কুমিল্লা) :

১/ ইউসুফ আবদুল্লাহ্ হারুন,২/ জাহাঙ্গীর আলম সরকার
কুমিল্লার মুরাদনগরের দু’প্রভাবশালী আওয়ামীলীগ নেতার স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষতার আধীপত্ত বিস্তারের দ্বন্দে গতকাল (শুক্রবার) বিকেল ৩টায় মুরাদনগর উপজেলার ১৯নং দারোরা ইউনিয়নের কাজিয়াতল উত্তর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত ‘কাজিয়াতল রফিকুল ইসলাম ফুটবল টুর্নামেন্টে’র ফাইনাল খেলাটি অনুষ্ঠান বন্ধ হয়ে পড়েছে। আওয়ামী লীগ’র কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক ও এফবিসিবিআই’র সাবেক সভাপতি ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন ওরফে নাসিম এবং কুমিল্লা (উঃ) জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম সরকার’র মধ্যে এ দ্বন্দ চলে আসছে।
আওয়ামী লীগ’র কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক ও এফবিসিবিআই’র সাবেক সভাপতি ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন ওরফে নাসিমকে ওই টুর্ণামেন্টের ফাইনাল খেলায় প্রধান অতিথি করায় তাকে ঠেকাতে প্রতিপক্ষ কুমিল্লা (উঃ) জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম সরকার’র সমর্থকরা সেচ্ছাসেবক লীগের নামে একই সময়ে একই স্থানে ২১আগষ্টের গ্রেনেড হামলার প্রতিবাদে একটি প্রতিবাদসভা আহবান করেন। বুধবার কাজিয়াতল এবং আশ পাশ এলাকায় ১৬টি ককটেল বিস্ফোরন ও ফাঁকা গুলিবর্ষনে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়। জাহাঙ্গীর আলম সরকার’র এক সমর্থক নাছিন উদ্দিন বাদী হয়ে খেলাকে কেন্দ্র রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হওয়ার আশংকায় বুধবার কুমিল্লার আদালতে দায়েরকৃত একটি মামলা তদন্তসাপেক্ষে ব্যাবস্থা গ্রহনের নির্দেশের আলোকে স্থানীয় প্রশাসন ‘একটি রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ’ এড়াতে বৃহস্পতিবার দুপুরে ওই খেলা বন্ধের নোটিশ দিয়েছেন টুর্ণামেন্ট কমিটিকে।
স্থানীয়রা জানান, বিএনপি’র দূর্গখ্যাত কুমিল্লার-৩ (মুরাদনগর) নির্বাচনী এলাকার স্থানীয় সংসদ সদস্য কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ ২১আগষ্টের গ্রেনেড হামলার আসামী হয়ে পলাতক থাকায়, খালী মাঠে আগামী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতার দোরঝাপে ওই দু’নেতা কোমর বেঁধে মাঠে নামছেন। এনিয়ে দুগ্রুপের সমর্থকদের মধ্যে দলীয় কোন্দল ও সংঘাতআতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে, স্থানীয় আওয়ামীলীগ হয়েছে দ্বিধাবিভক্ত।
ছাত্রলীগ মুরাদনগর উপজেলা সভাপতি রাজিব জানান, আওয়ামীলীগ ও এর অঙ্গসংগঠন এবং মুরাদনগরবাসীর দূর্দিনে জাহাঙ্গীর আলমকে পেয়েছি, সামনে নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে এখন বিএনপির ছত্রছায়ায় নতুন নতুন নেতাদের আবির্ভাব ঘটছে, বিএনপি’র টুর্নামেন্টে অতিথি হয়ে আওয়ামীলীগের বদনাম করছে।
বঙ্গবন্ধু শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ফাইন্ডেশনের সাধারন সম্পাদক অধ্যাপক সায়ফুল আলম মামুন জানান, জাহাঙ্গীর আলম সরকারের সন্ত্রাস চাঁদাবাজীসহ দলীয় শৃংখলা বিরোধী কর্মকান্ডে এলাকার আওয়ামীলীগ নেতা কর্মীরা জিম্মি হয়ে আছে। তিনি দলইনয়, একরকম গণবিচ্ছিন্ন নেতা হিসাবে পরিচিত। গণমানুষের নেতা ইউসুফ আব্দুল্লাহ হারুন এলাকার মানুষের কাজ করতে যেয়ে প্রতিনিয়ত জাহাঙ্গীর বাহিনীর বাঁধার সন্মূখীন হচ্ছেন। খেলা বন্ধ করতে খেলার মাঠে ককটেল ফাটিয়ে আতঙ্কসৃষ্টি, হুমকী, স্কুল প্রধান শিক্ষককে ডেকে এনে ইউএন ও নিজেই জোর করে খেলা অনুমতি না দেয়ার জন্য স্বাক্ষর আদায়, আদালতে আতঙ্ক দেখিযে মামলাসহ অনেক নাটক হয়েছে।
এব্যপারে যার নামে গত ১০ বছর ধরে নিয়মিত ফুটবল টুর্ণামেন্ট পরিচালিত হয়ে আসছে এবং টুর্নামেন্ট সভাপতি মোঃ রফিকুল ইসলাম জানান, প্রশাসনের নির্দেশে খেলা বন্ধ করে দিয়েছি, পরবর্তীতে সময় করে খেলা অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করা হবে।
টুর্নামেন্টের সাধারন সম্পাদক আবু তাহের জানান, গত ১০ বছর ধরে এলাকার মানুষকে আনন্দ দিতে এটুর্নামেন্ট পরিচালিত হয়ে আসছে। ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন প্রতিবছরই উক্ত টুর্নামেন্টের প্রধান অতিথি হিসাবে আমন্ত্রীত হয়ে আসছেন। গত সেপ্টেম্বর উক্ত খেলাটি অনুষ্ঠানের কথা থাকলেও রাজনৈতিক কারনে প্রশাসন কর্তৃক খেলার মাঠে ১৪৪ধারা জারি করেছিলেন। আবারো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলে কিছু নাটক সাজিয়ে খেলাটি বন্ধ করে দিয়েছে। হাজার হাজার দর্শকপ্রীয় এখেলাটি অনুষ্ঠিত নাহওয়ায় আনন্দ থেকে বঞ্চিত হলো।
আওয়ামী লীগ’র কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক ও এফবিসিবিআই’র সাবেক সভাপতি ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন এবং কুমিল্লা (উঃ) জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম সরকার উভয়ই এলাকায় অবস্থান করার কারনে সাধারন নেতাকর্মি ও জনগনের মধ্যে তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ।
ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন তার নিজ বাড়িতে সাংবাদিকদের সাথে আলাপ কালে জানান, জাহাঙ্গীর আলম সরকারের একচ্ছত্র আধীপত্ত সৃষ্টি ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে মুরাদনগর বাসী জিম্মি হয়ে আছে। মুরাদনগর থেকে সংসদ নির্বাচনে দুবার প্রতিদ্বন্দিতা করেছি, দলীয় শত্রুদের কারনে পরাজিত হতে হয়েছে। প্রকৃত আওয়ামীলীগরা এলাকায় কাজ করতে পারছেনা। এলাকার জনগনের সুখে-দুখে পাশে থেকে কাজ করতে যেয়ে জাহাঙ্গীর সরকারের বাঁধার সন্মূখীন হচ্ছি। টুর্নামেন্টের বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন আমাকে জানিয়েছেন, জাহাঙ্গীরের সমর্থকরা গত ৭আগষ্ট ৪০টি হোন্ডা ৬টি মাইক্রোবাস ৪টি শর্টগানসহ বিপুল পরিমান মারনাস্ত্র নিয়ে মহরা দেয়, ফাঁকাগুলি আর ককটেল বিস্ফোরনে আতঙ্ক ছড়ানোর করনে, খেলা স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে বলে আমাকে জানিয়েছে।
জাহাঙ্গীর আলম সরকার জানান, ইউসুফ আব্দুল্লাহ হারুন আর নেতা নন, এলাকার সাথে যোগাযোগ না থাকার কারনে গণবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। বিএনপি নেতার নামে টুর্নামেন্টে বিএনপি’র আমন্ত্রনে অতিথি হয়েছেন, উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান এবং ১৩ ইউপি চেয়ারম্যানের আবেদনে প্রশাসন ওই টুর্নামেন্ট স্থগিত করেছেন। আমি এব্যপার কিছু জানিনা, আবেদনে আমার কোন স্বাক্ষরও নেই। মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমাবেগম’র সাথে সেল ফোনে যোগাযোগ করে সেল ফোন বন্ধ থাকায় কথা বলা সম্ভব হয়নি।
সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল মুরাদনগর) এবং মুরাদনগর থানা অফিসার ইনচার্জ(সার্বিক) মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, একটি রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এড়াতে খেলাটি বন্ধ করার বিকল্প ছিলনা। একই স্থানে একই সময়ে উভয় পক্ষ অনুষ্ঠান করার জন্য জেলা ও স্থানীয় প্রশাসনের নিকট আবেদন জানালে, জেলাপ্রশাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নিতে বললে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে পুলিশ তদন্ত সাপেক্ষে এব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়।




Check Also

করিমপুর মাদরাসায় বোখারী শরীফের খতম ও দোয়া

মো. হাবিবুর রহমান :– কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার করিমপুর জামিয়া দারুল উলূম মুহিউস্ সুন্নাহ মাদরাসায় ১৪৪০ ...

Leave a Reply