প্যারিসে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সার্ধশত জন্মবার্ষিকী পালিত

খালেদ বিন রহমান (প্যারিস থেকে) :

‘রিমেমবারিং টেগোর’ এ শিরোনামে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সার্ধশত জন্মবার্ষিকী পালিত হলো ইউনেস্কো সদর দপ্তরে। প্রথম বাঙ্গালী হিসেবে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গীত, নৃত্য, আবৃত্তি ও চিত্র প্রদর্শনীর মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি উপভোগ্য হয়ে উঠেছিলো। গত সোমবার ইউনেস্কো হাউজের এক নম্বর কক্ষে বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ সহায়তায় বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সার্ধশত জন্মবার্ষিকী পালিত হয়। বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত রচয়িতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠান হলেও কুটনৈতিক দৈন্যতার কারনে ভারত পক্ষ এ অনুষ্ঠানের সার্বিক নেতৃত্ব দেয়। প্রায় দুইমাস আগে ইউনেস্কোর তত্বাবধানে এ অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত হলেও ইউনেস্কোয় বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও ফ্রান্সে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদুত এনামুল কবির এ সময় ছুটিতে ছিলেন। এ নিয়ে প্যারিসে অবস্থানরত বাংলাদেশীদের মধ্যে হতাশা দেখা গেছে।

গত সোমবার প্যারিস সময় বিকাল সাড়ে ছয়টায় হলভর্তি বাংলাদেশী, ভারতীয় ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতিপ্রেমীদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে আরেক প্রতিভাবান বাঙ্গালী ও অস্কার বিজয়ী চিত্র নির্মাতা সত্যজিত রায় নির্মিত ‘রবীন্দ্রনাথ’ শীর্ষক তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। তথ্য চিত্রটি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সার্বিক জীবন ও কর্ম নিয়ে নির্মান করা হয়। ফরাসী ভাষার সাবটেইটেলে ইংরেজী ভাষায় তথ্যচিত্রটি পরিবেশিত হয়।

তথ্যচিত্র প্রদর্শনীর পর ইউনেস্কোয় ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি বিনয় শীল ওবেরয় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন। এরপর বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য দেন বাংলাদেশের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের সচিব সুরাইয়া বেগম। ভারতের পক্ষে ভারতের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের অতিরিক্ত সচিব রাকেশ ভাট বক্তব্য রাখেন। ইউনেস্কোয় নিযুক্ত ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি বিনয় শীল ওবেরয় এরপর মঞ্চে আহবান করেন ইউনেস্কোর মহাপরিচালক ইরিনা বোকোভাকে। তিনি এ রকম একটি একটি অনুষ্ঠানে সহযোগিতা করার জন্য উভয় দেশকে ধন্যবাদ দেন।

বক্তব্যের পর বিনয় শীল ওবেরয় মঞ্চে আহবান করেন অনুষ্ঠানে অংশ নেয়া শিল্পীদের। এ সময় মঞ্চে একে একে উঠে আসেন ভারতের বিশিষ্ট অভিনেত্রী চিত্র পরিচালিকা অপর্না সেন, বিক্রম ঘোষ, কবিতা কৃষ্ণমুর্তি, এ সুব্রামনিয়াম, সুশান্ত রায় চৌধুরী এবং বাংলাদেশ পক্ষেও একমাত্র শিল্পী শামা রহমান। ইউনেস্কোর মহা পরিচালক ইরিনা বোভোকা শিল্পীদের উত্তরীয় পড়িয়ে দেন।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের শুরুতে অপর্ন সেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আফ্রিকা’ কবিতাটি সহ তিনটি কবিতা আবৃত্তি কওে শোনান। এরপর প্রখ্যাত ভারতীয় সঙ্গীত শিল্পী কবিতা কৃষ্ণমুর্তি হিন্দি ভাষায় অনুবাদিত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গান। বাংলায় রচিত হলেও হিন্দী ভাষায় অনুদিত ‘আকাশ ভরা সুর্য তারা’ গানটি দিয়ে শুরু করেন কবিতা। তারপর তিনি হিন্দী ভাষায় অনুদিত ‘মন মোর মেঘের সঙ্গী’ সহ দুটি গান পরিবেশন করেন। বাংলাদেশের শ্যামা রহমান গেয়ে শোনান তিনটি গান।

অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গের প্রখ্যাত তবলা বাদক বিশ্ব ঘোষ তবলার মুন্সীয়ানা দেখান। ‘মোর ভাবনারে কি হাওয়ায় মাতালো’ ও ‘ মোর বীনায় উঠে’ শীর্ষক রবীন্দ্র সঙ্গীতের সঙ্গে তবলার ফিউশনে দর্শকদের মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখেন এ তবলা বাজিয়ে। সে সময় তাকে সহযোগিতা করেন বাংলাদেশের শামা রহমান, সুশান্ত রায় চৌধুরী, পন্ডিত এস শেখর, পুলক সরকার, অমরেশ দাস প্রমুখ।




Check Also

রিয়াদে জ্যাবের ‘অমর একুশে’ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

ষ্টাফ রির্পোটার :– “অমর একুশের চেতনায় গন মানুষের মনে জেগে উঠুক উজ্জলতা উৎকৃষ্টতা” শীর্ষক আলোচনা ...

Leave a Reply