কুমিল্লা- ব্রাক্ষণবাড়িয়া রুটের ১০ স্টেশনে ট্রেনের নিরাপত্তায় ব্যাঘাত

জামাল উদ্দিন স্বপন:

সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত প্রয়োজনে অনির্ধারিত জায়গায় চেন টেনে চলন্ত ট্রেন থামানো এবং হোস পাইপ খুলে নেওয়া ও দুষ্কৃতকারীদের কারণে কুমিল্লা থেকে ব্রাণবাড়িয়া পর্যন্ত ১০টি স্টেশনে ট্রেনের নিরাপত্তা বিঘ্নীত হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন ট্রেন গন্তব্যস্থলে পৌঁছাতে দেরি হচ্ছে অন্যদিকে ট্রেন থামিয়ে চোরাই মালামাল উঠানো হচ্ছে। বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে এসব অপতৎপরতা রোধ করা রেলওয়ের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না উল্লেখ করে এ ব্যাপারে যাত্রী এবং প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন পূর্বালের প্রধান যান্ত্রিক প্রকৌশলী আখতারুজ্জামান হায়দার। এছাড়া অনাকাখিত কোনো দুর্ঘটনার জন্য ভাঙচুর ও অগ্নি সংযোগ থেকে নিবৃত্ত থাকার অনুরোধ করে এসব ক্ষেত্রে যাত্রীদের সহানুভূতি কামনা করেছেন তিনি। রেলওয়ের নিরাপত্তা সপ্তাহ উদ্বোধন উপলে চট্টগ্রাম রেল স্টেশনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন । যাত্রী, মালামাল ও রেলওয়ের সম্পদের নিরাপত্তা বিধান এবং যাত্রীসেবার মান উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে রোববার থেকে শুরু হয়েছে রেলওয়ে পূর্বালের নিরাপত্তা সপ্তাহ। বেলা ১১টায় চট্টগ্রাম রেল স্টেশনে সপ্তাহব্যাপী এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন পূর্বালের প্রধান যান্ত্রিক প্রকৌশলী আখতারুজ্জামান হায়দার। তিনি বলেন, যাত্রী ও রেলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই সপ্তাহ পালনের মূল ল্য হলেও একমাত্র উদ্দেশ্যে নয়।

পাশাপাশি পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করা এবং ট্রেন পরিচালনার কোড, ম্যানুয়াল সেফটি ও নিয়মবিধি যথাযথভাবে পালিত হচ্ছে কিনা সেগুলো নিশ্চিত করা হয়। যাত্রীদের মাঝে সচেতনা সৃষ্টি করে রেলওয়ের নিরাপত্তা ব্যাপারে তাদের সম্পৃক্ত করাই এর অন্যতম লক্ষ্য। তিনি বলেন, যাত্রীরা সচেতন না হলে রেলওয়ে শুধু নিরাপত্তা সপ্তাহ পালন করলেই নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না। নির্বিঘ্নে ট্রেন চলাচল নিশ্চিত করতে পাথর ছোড়া, চেন টেনে ট্রেন থামানো বন্ধ, ইঞ্জিনের সামনে যাত্রীদের না ওঠার ব্যাপারে সচেতন হতে হবে। দুর্ঘটনা প্রতিরোধে রেলওয়ের প্রত্যেক বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তিনি স্ব স্ব দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট থাকার আহবান জানান। রেলওয়ের চট্টগ্রাম বিভাগীয় ব্যবস্থাপক একেএম মাহবুব-উল আলম জানিয়েছেন, নিরাপত্তা সপ্তাহ পালন উপলে পূর্বালের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে ৮টি টাস্কফোর্স রোববার থেকে কাজ শুরু করছে। এ টাস্কফোর্স বিভিন্ন রুটের ট্রেন ও স্টেশন পরিদর্শন করে যাত্রী সেবার মান উন্নয়ন, অপারেটিং স্টাফদের দতা নিশ্চিকরণ ও রেলের সম্পদ যথাযথ রাবেণের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবেন। একই সময় কোন অনিয়ম চোখে পড়লে টাস্কফোর্সের সদস্যরা তাৎণিকভাবে ব্যবস্থা নেবেন এবং নিরাপত্তা সপ্তাহ পালন শেষে সুপারিশ পেশ করবেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় কমান্ড্যান্ট শাহ আলম ভুইয়া, বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান, বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা জাকির হোসেন, বিভাগীয় যান্ত্রিক কর্মকর্তা সাদেকুর রহমান, সংকেত কর্মকর্তা সুশীল চন্দ্র হাওলাদার প্রমুখ।




Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply