মুরাদনগরে সন্তানের পিতৃপরিচয় চান রবিয়া বেগম : মামলা নিচ্ছেনা পুলিশ

শরিফুল আলম চৌধুরী, মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:

মায়ের পাশে অন্ত:সত্বা রবিয়া
গর্ভের অনাগত সন্তানের চিন্তায় রবিয়া (১৪) ও তার পরিবার। সন্তান ভূমিষ্ট হয়ে কার পরিচয়ে বড় হবে, কি হবে তার পিতৃপরিচয় এসব চিন্তায় দিন দিন সে এবং তার পরিবার অসুস্থ্য হয়ে পড়েছে। রবিয়া বর্তমানে পাঁচ মাসের অন্ত:সত্বা। লজ্জায় সমাজে মুখ দেখাতে পারছেনা সে। গর্ভের অনাগত সন্তানের পিতৃপরিচয় আদায়ের জন্য সমাজপতিদের দ্বারে দ্বারে ধর্ণা দিচ্চে রবিয়া। এ ব্যাপারে থানায় অভিযোগ করার পর পুলিশ ঘটনার সত্যতা পেলেও দেড় মাসেও মামলা নিচ্ছে না।

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার দারোরা ইউনিয়নের কাজিয়াতল গ্রামের মৃত মোছলেম উদ্দিনের কণ্য রবিয়া বেগম তার উপর লোলুপ দৃষ্টি পড়ে একই গ্রামের হোসেন মিয়ার পুত্র শিপন মিয়া(১৮) শিপনের বাড়ি পাশাপাশি হওয়ায় প্রায়ই রবিয়ার বাড়িতে আসা যাওয়া করত শিপন। সুযোগ পেলেই রবিয়াকে প্রেম নিবেদন করে। সুযোগ পেয়ে এক রাতে আল্লাহকে সাক্ষী রেখে রবিয়াকে বিয়ে করে শিপন। পরে তার সাথে দৈহিক সম্পর্ক স্থাপন করে। এক পর্যায়ে রবিয়া অন্তসত্বা হয়। শিপনকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে সে টালবাহানা শুরু করে। কোন উপায় না দেখে রবিয়া তার মায়ের কাছে ঘটনা খুলে বললে এলাকাবাসী শিপনকে ডেকে ঘটনা জিজ্ঞেস করলে সে ঘটনা অস্বীকার করে। পরে সুযোগ বুঝে বাড়ী ছেড়ে পালিয়ে যায় শিপন।

রবিয়ার মাতা রোকেয়া বেগম বলেন, আমার কণ্যার কপারে সুখ নেই। সে মাত্র আট বছর বয়সে তার পিতাকে হারায়, ফলে আমি হই অল্প বয়সে বিধবা। রোকেয়া বেগম আরো বলেন, স্বামীকে হারানোর পর দুই সন্তান নিয়ে তিনি নানামুখী সমস্যায় পড়েছেন। সন্তান ও নিজের ভরণপোষনের জন্য তাকে বাড়ী বাড়ী ভিক্ষে করে জীবিকা নির্বাহ করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, আমাদের বাড়ীর হোসনে মিয়ার পুত্র শিপন মিয়া আমাকে চাচী বলে ডাকত। এবং আমার ঘরে আসা যাওয়া করত। গত বছরের ১০ অক্টোবর রাতে আমি অন্য গ্রাম হতে ভিক্ষে করে বাড়ী আসতে রাত হওয়ায় কারণে সে আমার কণ্য রবিয়াকে জোর করে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তার সাথে দৈহিক সম্পর্ক স্থাপন করে। এখন আমার কণ্যা পাঁচ মাসের অন্তসত্বা। আমরা বিষয়টি গ্রামের সরদার, মাতব্বরদেরকে জানিয়েছি। আমি চাই শিপন মিয়া আমার কণ্যা রবিয়াকে বিয়ে করে স্ত্রীর মর্যাদা দিয়ে ঘরে তুলুক।

রবিয়া বলেন, গত বছরের ১০ অক্টোবর শিপন মিয়া আল্লাহকে স্বাক্ষী করে আমাকে বিয়ে করে। এর পর থেকে তার সাথে আমার শারীরিক সম্পর্ক অব্যাহত থাকে। আমি অন্তসত্বা হয়ে পড়লে তাকে বিয়ের জন্য চাপ দেই। সে টালবাহানা শুরু করলে আমার পরিবারের লোকজনকে ঘটনা খুলে বলি। রবিয়া বলেন, আমি আমার গর্ভের সন্তানের পিতৃপরিচয় চাই। এ ব্যাপারে ৯ নং ওয়ার্ডের পুলিশিং কমিটির সভাপতি মোঃ আবু তাহের বলেন, একজন ভিক্ষুকের কণ্যার উপর এই ঘটনা ঘটিয়ে আমাদের মত সমাজপতিদের প্রহসনের কারণে ন্যায্য বিচার হতে বঞ্চিত হবে একটি অসহায় পরিবার তা অত্যন্ত লজ্জাজনক বিষয়। আমি নিজেও চেষ্টা করে অন্যান্য সমাজ পতিদের সমন্বয় ও সমঝোতার অভাবে এ ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ নিতে না পেরে তাকে আইনী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলেছি। রবিয়ার ওয়ার্ডের নব নির্বাচিত ইউপি সদস্য নায়েব আলীও বলেন, সমাজের অন্যান্য মাতব্বরদের অনিহার কারণে এটা সামাজিকভাবে মীমাংশা করতে ব্যর্থ হয়েছি। তবে আমিও চাই অসহায় রবিয়া তার ইজ্জত হরণের বিচার পাক। মুরাদনগর উপজেলার মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রওশন আরা বলেন, আমার নিকট লিখিতভাবে অভিযোগ দিলে আমি এ ব্যাপারে আইনগত সর্বাত্মক সহযোগিতা করব। এ ব্যাপারে মুরাদনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, এখন ব্যস্ত আছি, পরে কথা বলব।





Check Also

করিমপুর মাদরাসায় বোখারী শরীফের খতম ও দোয়া

মো. হাবিবুর রহমান :– কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার করিমপুর জামিয়া দারুল উলূম মুহিউস্ সুন্নাহ মাদরাসায় ১৪৪০ ...

Leave a Reply