সরাইলে দু’দল গ্রামবাসীর সংঘর্ষে আহত ৭০: ভাংচুর লুটপাট

আরিফুল ইসলাম সুমন, সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)॥

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে দুই দল গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ৭০ ব্যক্তি আহত হয়েছে। ৩ ঘন্টা স্থায়ী সংঘর্ষে স্থানীয় টেম্পু ষ্ট্যান্ডের অফিস, সিএনজি-টেম্পু, ঘর-বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাংচুরসহ লুটপাট চালায় দাঙ্গাবাজরা। সংঘর্ষের কারণে ফসলি মাঠের প্রায় ৩০ বিঘা ধানী জমি নষ্ট হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল শনিবার সকালে উপজেলার সদর ইউনিয়নের বেপারিপাড়া ও দক্ষিণ আরিফাইল গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, গতকাল সকাল ১১টার দিকে সরাইল-অরুয়াইল সড়কের বেপারী পাড়া নামক স্থানে যাত্রীবাহী একটি টেম্পু রিকশাকে ধাক্কা দেয়। এসময় রিকশাচালক বেপারিপাড়া গ্রামের এবারন মিয়া ও টেম্পুচালক দক্ষিণ আরিফাইল গ্রামের রুবেল মিয়ার মধ্যে প্রথমে বাকবিতন্ডা পরে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। বেপারিপাড়ার কিছু যুবক রুবেলকে মারধর করে। খবর পেয়ে কাছেই প্রাতঃবাজার টেম্পু ষ্ট্যান্ডের কিছু শ্রমিক ঘটনাস্থলে পৌঁছে। এসময় শ্রমিকদের সাথে গ্রামবাসীর ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলে। শ্রমিকরা ক্ষুব্ধ হয়ে প্রাত:বাজারে গিয়ে বেপারিপাড়া গ্রামের সকল মাছ বিক্রেতার ওপর আক্রমণ চালিয়ে মাছ ও নগদ টাকা লুটপাট করে। সংঘর্ষটি একসময় দুই গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে। উভয় গ্রামের প্রায় সহস্্রাধিক দাঙ্গাবাজ গ্রামের পাশের ফসলী জমিতে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। দাঙ্গাবাজরা উত্তর আরিফাইল গ্রামের বাসিন্দা নুরু মিয়ার বাড়ীর দু’টি ঘরে লুটপাট চালায়। এছাড়াও বাজারের আবিদ মিয়ার রাইছ মিল, টেম্পু ষ্ট্যান্ডের অফিস ঘরসহ ৫/৭টি সিএনজি-টেম্পু ভাংচুর করে। সংঘর্ষে সরাইল-অরুয়াইল সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। উত্তর আরিফাইল গ্রামের নুরু মিয়া বলেন, সংঘর্ষ দুই গ্রামের। আমাদের গ্রামের কোনো লোক এ সংঘর্ষে জড়িত নন। পূর্ব শত্র“ুতার জের ধরে দক্ষিণ আরিফাইল গ্রামের হানিফ ও কবিরের নেতৃত্বে কিছু লোক আমার বাড়িতে হামলা চালিয়ে দুই লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে। টেম্পুষ্ট্যান্ডের লিয়াকত আলী জানান, বেপারীপাড়ার লোকজন অফিস ঘরের মালামাল ভাংচুরসহ সমিতির টাকাপয়সা লুট করেছে। বেপারীপাড়া গ্রামের মাছ ব্যবসায়ী জাহাদ আলী জানান, দক্ষিণ আরিফাইল গ্রামের লোকজন মাছ বাজারে হামলা চালিয়ে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার মালামাল নিয়ে গেছে। সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনতে সরাইল থানা পুলিশ ব্যর্থ হলে জেলা থেকে দাঙ্গাপুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ব্যাপক লাঠিপেটা ও ১৭ রাউন্ড রাবার বুলেট এবং ৩৫ রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে দুপুর ২টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫জন ভর্তি হয় এবং ৩৫জন চিকিৎসা নিয়েছেন। বাকিরা জেলা হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।





Check Also

আশুগঞ্জে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মরদেহ উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :– ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মো. হারুন মিয়া (৪৫) নামে দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামির ...

Leave a Reply