তিতাসে ফের পলিথিনের ছড়াছড়ি ॥ পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা

নাজমুল করিম ফারুক, তিতাস :
তিতাসের বিভিন্ন হাট-বাজারে ব্যবসায়ীদের মাঝে আবার ফিরে এসেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত পলিথিন। অবাধ পলিথিনের ছড়াছড়ির কারণে পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বর্তমান শহরের পাশাপাশি তিতাসের বিভিন্ন গ্রামের মানুষের জন্যও পরিবেশ দূষণ একটি বড় ধরণের সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে পলিথিন। তিতাসের কড়িকান্দি বাজার, বাতাকান্দি বাজার, মাছিমপুর বাজার, কলাকান্দি বাজার, দুলারামপুর বাজার ও আসমানিয়া বাজারের এমন কোন মুদী, তরকারী ও হোটেল নেই যেখানে পলিথিন পাওয়া যায় না। তবে আগের পলিথিনের চেয়ে এবারের বাজারে আসা পলিথিনের সাইজ বড় এবং মোটা। বেশ ক’বছর পূর্বে সাধারণ জনমনে উচ্চস্বরে আলোচিত বিষয় ছিল পরিবেশ দুষণকারী পলিথিন শপিং ব্যাগ বন্ধ করা, বন্ধ হয়েও ছিল, বর্তমানে প্রশাসনের নজরদারীর অভাবে তা আবার বাজারে ফিরে এসেছে আগের নিয়মে। একাধিক দোকানদারদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, পলিথিন উৎপাদনের উপর যদি নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয় তাহলে উৎপাদন হয় কিভাবে? যেহেতু উৎপাদন হয় সেহেতু এটা ব্যবহারের দোষের কিছু নেই। আর পাবলিক তো তা নিচ্ছে।

পরিবেশ দুষণকারী উপাদান বিশেষ করে প্লাষ্টিক দ্রব্য পচে না বলে পলিথিন পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর তা বেশ কিছু দিন পূর্বে প্রমাণিত হয়েছে তা সর্বজন স্বীকৃত। তাই জনগণের চাপে এবং পরিবেশের গুরুত্ব বিবেচনায় ২০০২ সালে পলিথিন শপিং ব্যাগের উৎপাদন, ব্যবহার, বিপণন ও বাজারজাত করণের উপর আইন করে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। যা সারা দেশের জনগণ সানন্দে গ্রহণ করেছিল পাশাপাশি এ আইন প্রণীত হওয়ায় পরিবেশের উপর একটি ইতিবাচক প্রভাব পড়েছিল।

বর্তমানে নানা অজুহাতে এ পলিথিন আবারো বাজারে ছড়িয়ে পরেছে। প্রশাসনের নাকের ডগায় দিন দুপুরে অনেকের হাতেই এখন বাজারে উপাদান হিসেবে এ ব্যাগ দেখা যাচ্ছে। বিভিন্ন দোকানীরা বাজারের ব্যাগ হিসেবে এটাকে আবার ব্যবহার করতে শুরু করেছে। তাহলে প্রশ্ন এ ব্যাগ উৎপাদন নিষিদ্ধ হলেও তা আবারো আসছে কোথা থেকে। সরকার যদি এর বাজারজাত করা নিষিদ্ধ করে আইন করে থাকে তাহলে তার যথাযথ প্রয়োগ হচ্ছে না কেন?

প্রশাসনের দূর্বলতার কারণে পলিথিনের ব্যবহার দিন দিন আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। যা পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখনও বাজারে গেলে দেখা যায় খাবার সামগ্রী, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র এমনকি কাঁচা বাজার পর্যন্ত পলিথিনের সুদৃশ্য প্যাকেটে বাজারজাত করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার পাশাপাশি পলিথিনের বিকল্প হিসেবে ব্যপক হারে পাট, কাপড়, কাগজ ও চটের ব্যাগ উৎপাদন ও সারাদেশে সকল জায়গায় সহজ লভ্য করতে হবে। চিকিৎসা সরঞ্জাম ব্যাতীত একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে হবে। পাশাপাশি এ জাতীয় দ্রব্য উৎপাদনের প্রয়োজনীয় কাঁচামালের উপর আমদানী শুল্ক বাড়াতে হবে। শুধু তাই নয় সরকারী ও বেসরকারী বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক কর্মসূচিতে প্লাষ্টিক জিনিসপত্রের ব্যবহার বন্ধ করে দেশীয় মাটি, কাঁচ ও সিরামিকের জিনিসপত্র ব্যবহার ও উপহার সামগ্রী হিসাবে বিতরণের উপযুক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে। এজন্য জনসচেতনতা বাড়াতে হবে।

পরিশেষে বলা যায় দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে পরিবেশ রক্ষা করা একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। দেশের যে কোন উন্নয়নে পদক্ষেপ নেয়ার সময় তা যাতে দীর্ঘ স্থায়ী হয় সে বিষয়ে বিবেচনা করতে হবে। কারণ সাময়িক সুখ লাভের জন্য আমরা আমাদের ভবিষ্যতকে এক সীমাহীন অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিতে পারি না। ব্যক্তিগত লাভ লোকসানের বিষয়টিকে মুখ্য না করে ক্ষুদ্র স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে জাতীয় স্বার্থে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও তা বাস্তবায়নে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।





Check Also

কুমিল্লায় তিন গৃহহীন নতুন ঘর পেল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ– কুমিল্লা সদর উপজেলায় গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে ৪নং আমড়াতলী ইউনিয়নের গৃহহীন নুরজাহান বেগম, ...

Leave a Reply