কুমিল্লা রেল ষ্টেশনে যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে : কালোবাজারে টিকেট বিক্রি

কুমিল্লা সংবাদদাতা :
২০১১কুমিলা রেল ষ্টেশনের সার্বিক অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। রেল পথে সারাদেশের সাথে যোগাযোগ রক্ষার কেন্দ্র স্থল কুমিলা রেল স্টেশনকে বর্তমানে ডেঞ্জার জোন হিসেবে আখ্যায়িত করা যায়। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সমূহের অন্যতম স্থাপনা হিসেবে পরিচিতি রেল স্টেশন এলাকায় বর্তমানে কোন নিয়ম শৃঙ্খলা নেই। আইনের প্রয়োগ তো দূরের কথা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকজন নিজেরাই অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছেপুরো এলাকায়। শুধু তাই নয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকজনই পুরো রেল ষ্টেশনের অভ্যন্তর এবং বাহির এলাকায় সকল প্রকার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রধান শেল্টার দাতা। টিকেট কালোবাজারীরা ওপেন সিক্রেট তাদের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। রেলওয়ে পুলিশের কর্মকর্তারা কালোবাজারিদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিতে পারছেন না। টিকেট সহ কালোবাজারীদের গ্রেফতার করা হলে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়েরের বিধান রয়েছে। কোতোয়ালি থানায় কালোকাবাজারীদের টিকেটসহ গ্রেফতার করে বিশেষ ক্ষমতা আইনে কয়েকটি মামলা করেছিলেন। কিন্তু বর্তমান কর্মকর্তাদের সেই ক্ষমতা নেই। রেল ষ্টেশনের পাট ফরমে অর্ধ শতাধিক অবৈধ দোকানের অবস্থান। আরো ৩০/৩৫ জন ভ্রাম্যবান দোকানী পাটফরমের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে বিভিন্ন প্রকার দ্রব্য বিক্রি করে। যার খেসড়াত দিতে হয় যাত্রী সাধারণকে, হাঁটা চলার কোন উপায় থাকে না যাত্রীদের। এ ক্ষেত্রেও পাট ফরমে অবস্থানরত যাত্রীদের সুবিধা নিশ্চিত করতে রেলওয়ে বিভাগে কর্মকর্তা ও রেলওয়ে পুলিশের কোন ভূমিকা নেই। এছাড়া টিকেট কাউন্টারের সামনে বসানো হয়েছে কয়েটি ফলের দোকান যেগুলোর কোন বৈধতা নেই। তদুপরি বহাল তবিয়তে রয়েছে দোকান পাট ফরমের বাইরে যেখানে সরকারি গাড়ি রাখার নির্ধারিত স্থান সেখানে গড়ে উঠেছে অবৈধ রিক্সা গাড়ি। সরকারি সং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গাড়ি রাখার অবৈধ ষ্ট্যান্ড ইজারা দিয়েছে রেলওয়ে পুলিশ। এ ব্যাপারে কেউ জিঞ্জেস করলে উত্তর দেয়া হয় স্থানটির রেলওয়ে পুলিশের নয়, জেলা পুলিশের। কুমিলা রেলষ্টেশনের পাট ফরমসহ আশ পাশে এলাকা ছিনতাইকারীরাদের অবাঁধ বিচরন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। চিহ্নিত ছিনতাইকারীরা রেলওয়ে পুলিশের শেল্টারে থাকে। পকেট চোরদের একটি নেটওয়ার্ক রয়েছে রেলষ্টেশনেএটাও নিয়ন্ত্রণ করে রেলওয়ে পুলিশ। রেলষ্টেশন দিয়ে চোরাচালান ও মাদক এবং পতিতাদের ব্যবসা হয় ওপেন সিক্রেট।

গতকাল শুক্রবার থেকে গোধুরী ট্রেন কুমিলা ষ্টেশনে যাত্রা বিরতি হওয়ায় যাত্রীদের দুর্ভোগ আরেক প্রকার বেড়ে গেছে। বসার কোন জায়গা নেই। নেই কোন নিরাপদ আশ্রয়স্থল। যাত্রীরা মালামাল নিয়ে ফ্লাটফরমসহ বিভিন্ন খোলা জায়গা আতঙ্কের মধ্যে ট্রেনের অপেক্ষা গুনছে। অপরদিকে রেল কর্মকর্তাদের সরকারি চাকরি শেষে অবসর যাওয়ার পরও প্রায় ১ বছর যাবত চাকরিতে বহাল রয়েছেন আব্দুল খালেক নামের এক বুকিং ক্লার্ক। কারণ কাউন্টারে জনবল নেই বলেই তিনি বহাল। অন্যদিকে যাত্রীদের নিত্য হয়রানির চিত্রই সরকারকে সমালোচনার মুখে ফেলে দিচ্ছে। সরকার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিলেও ধরাছোয়ার বাইরে চলে যাচ্ছে মুখোশধারী প্রভাবশালী দুর্নীতিবাজরা। রেলওয়ে বিভাগের সব কটি খাতে দুর্নীতি অনিয়ম এর অভিযোগ গোপন থাকলেও বুকিং কাউন্টার খাতটিই রেলওয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করে চলেছে। এই খাতে মাসে অতিরিক্ত অর্থ আদায় হচ্ছে কমপক্ষে দুই লক্ষ টাকা।

রেলওয়ের দায়িত্বশীল একটি সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, কাউন্টারে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করার কারণে যাত্রীদের হয়রানির শিকার হতে হয়। এই অর্থ রেলওয়ের চট্রগ্রাম বিভাগীয় কয়েকজন কর্মকর্তা ও কুমিলা স্টেশন মাস্টারসহ ক্লার্করা মিলে ভাগবাটোয়ারা করে থাকে। দায়িত্বশীল অপর একটি সূত্র জানান, কুমিলা রেলওয়ে ষ্টেশনে গত ১ যুগের মধ্যে বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক তদন্ত টিম তদন্ত করতে এসে অজ্ঞাত কারণে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেন নি।

এবিষয়ে স্টেশন মাস্টার মোহাম্মদ হোসেন মজুমদার এ বিষয়ে কোন সদত্তোর দিতে পারেনি। তার বক্তব্যে বুঝা যায় যত খুশি লিখতে পারে কোন সমস্যা নেই। এ শত বার লেখা হলে তার কিছুই হবে না বলে অদৃশ্য শক্তির ইঙ্গিত দেন। গতকাল শুক্রবার গোধুলী ট্রেনের অপেক্ষা শত শত যাত্রীদের ভয়াবহ ভোগান্তির চিত্র। স্টেশন মাষ্টারের কক্ষ ও ভিআইপ কক্ষের সামনে যাত্রীদের হেলান দিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে দেখা যায়। বসার জন্য ব্যবস্থা থাকলেও তা একমাত্র পরিচিত ভিআইপদের দখলে বলে জানা গেছে। গতকালের চিত্র এতটাই ভয়াবহ ছিল যে সংশিষ্টরা দুর্নীতিতে নিমজ্জিত থাকায় এসব দেখার সুযোগ পাচ্ছে না।এছাড়াও গতকাল যাত্রীর সংখ্যা বেশি থাকায় ক্লার্করা এক ট্রেনের টিকেট বিক্রির নামে অন্য ট্রেনের টিকেট কিনতে বাঁধ্য করছেন যাত্রীদের। সকালে বেশ কয়েকজন যাত্রী মহানগর প্রভাতির টিকেট কিনতে আসলে ক্লার্করা না বলে বিধায় দেয় এবং চট্রলা টিকেন কেনার জন্য বলে। বাঁধ্য হয়ে যাত্রীরা এসব কিনতে হচ্ছে।





Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply