সরাইলে স্কুলছাত্রীকে যৌনহয়রানি : মামলা তুলে নিতে পুলিশের উপস্থিতিতে বাদীকে হুমকি

আরিফুল ইসলাম সুমন, সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)॥
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে স্কুলছাত্রী যৌন হয়রানির ঘটনায় মামলার তদন্তকালে পুলিশের উপস্থিতিতেই প্রকাশ্যে বাদীকে মামলা তুলে নিতে হুমকি দিয়েছে বখাটেদের প্রভাবশালী স্বজনরা। এসময় প্রভাবশালীরা পুলিশের কাছে মামলার স্বাক্ষীদের সাক্ষ্য দিতেও বাধা দেয়। হড্ডগোলের একপর্যায়ে পুলিশ অসহায় হয়ে ফিরে আসে। ঘটনাটি ঘটেছে, গতকাল শুক্রবার দুপুরে উপজেলার কালীকচ্ছ ইউনিয়নের নাথপাড়া গ্রামে ওই স্কুলছাত্রীর বাড়িতে।

প্রত্যক্ষদর্শী লোকজন জানান, গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সরাইল থানার এসআই ফারুক সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে স্কুলছাত্রীর বাড়িতে আসেন। এসময় পুলিশের সঙ্গে মামলার আসামি বখাটে সজীবের পিতা গ্রাম্য মাতব্বর কাছু মিয়া ও সাদ্দামের পিতা মো. কাঙ্গাল বেপারীসহ কিছু প্রভাবশালী লোকও ছিল। মামলার বাদিনী স্কুলছাত্রীর মা এবং তার মেয়েসহ স্বাক্ষীরা যখন পুলিশের কাছে সাক্ষ্য দিতে শুরু করে, তখনই গ্রাম্য মাতব্বর কাছু মিয়া উত্তেজিত হয়ে স্কুলছাত্রীর মা ও তার মেয়ের ওপর চড়াও হয়। কাছু মিয়া স্কুলছাত্রীর পরিবারকে মামলা তুলে নিতে হুমকি দেয়। পুলিশ স্কুলছাত্রী(ভিকটিম)সহ জাহেরা খাতুন ও আঁখি বেগমের সাক্ষ্য নিতে পারেনি। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পুলিশ চলে আসে। স্কুলছাত্রীর মা জানান, প্রভাবশালীদের কারণে থানায় অভিযোগ দেয়ার ৪দিন পর পুলিশ মামলা রেকর্ড করেন। এখন পুলিশের উপস্থিতিতেই তারা হুমকি দিয়েছে। মামলা তুলে নিতে বখাটেদের স্বজনরা এলাকার মেম্বারসহ ক্ষমতাবান লোকদের দিয়ে আমাদের চাপ সৃষ্টি করছে। স্কুলছাত্রীর বড় চাচী জাহেরা খাতুন বলেন, বখাটে সজীবের পিতা কাছু মিয়া পুলিশের দারোগার সামনেই উত্তেজনা দেখিয়ে গেছে। বাড়িতে কোনো পুরুষ লোক নেই। আমরা মহিলা মানুষ। পুলিশ তাদের কিছুই বলেন নি। স্বাক্ষীদের সাক্ষ্য নেন নি।

উলে¬খ্য, গত ৩০ আগষ্ট মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলার কালীকচ্ছ বেপারি পাড়ার কাছু সর্দারের বখাটে পুত্র সজীবের নেতৃত্বে ক’জন বখাটে যুবক কালীকচ্ছ পাঠশালা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ট শ্রেণীর একছাত্রীকে তার বাড়ি সংলগ্ন রাস্তায় যৌন হয়রানির ঘটনা ঘটায়। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করায় ওই দিন রাতেই স্কুলছাত্রীর বড় চাচাতো দুই ভাইকে বখাটেরা পিটিয়ে আহত করে। যৌন হয়রানির ঘটনায় পরদিন বুধবার(ঈদের দিন) স্কুলছাত্রীর মা বাদী হয়ে সরাইল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। মামলা নং-০৩, তাং- ০৩/৯/২০১১ইং
এ ব্যাপারে জানতে এসআই ফারুকের মুঠো ফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি রিসিভ করেন নি।





Check Also

আশুগঞ্জে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মরদেহ উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :– ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মো. হারুন মিয়া (৪৫) নামে দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামির ...

Leave a Reply