লাকসাম ও মনোহরগঞ্জে সবজির অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধি

জামাল উদ্দিন স্বপন:

কুমিল্লার লাকসাম ও মনোহরগঞ্জের বিভিন্ন হাটবাজারে চার-পাঁচ দিনের ব্যবধানে সবজির দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। এবার টানা বৃষ্টিতে সবজির খেত ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এবং আমদানী কম হওয়ায় বাজারে সবজির দাম বেড়ে গেছে। তাছাড়া, সড়ক-মহাসড়কগুলোর দুরবস্থার কারণে মালামাল পরিবহণ ব্যয় বেড়ছে দ্বিগুণ। ফলে এটিও সবজির দাম বৃদ্ধির ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলেছে। এমন মন্তব্য ব্যবসায়ীদের।

বুধবার লাকসাম, মনোহরগঞ্জসহ আশ-পাশের হাটবাজার গিয়ে বেশি দামে ব্যবসায়ীদের সবজি বিক্রি করতে দেখা গেছে। ওইদিন পাইকারি ও খুচরা বাজারে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ২৪০ থেকে ২৬০ টাকা, বেগুন ৫০ থেকে ৫৫ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, করলা ৬০ থেকে ৬৫ টাকা, বরবটি ৬০ থেকে ৬৫ টাকা, শসা ৫৫ থেকে ৬০ টাকা, ঝিঙা ৪৬ থেকে ৫০ টাকা, লাল শাক ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, কচু ৩০ থেকে ৩৪ টাকা, পটোল ৪০ থেকে ৪৬ টাকা, চিছিঙা ৪২ থেকে ৪৫ টাকা, পেঁপে ১৬ থেকে ২০ টাকা, টমেটো ৭৫ থেকে ৮০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ২৮ থেকে ৩২ টাকা, কাঁচা কলা (প্রতি হালি) ২৫ থেকে ৩০ টাকা, আলু ১৬ থেকে ১৮ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

অথচ পাঁচ দিন আগেও এসব হাটবাজারেকেজি কাঁচামরিচ ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা, বেগুন ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, করলা ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, বরবটি ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, শসা ২৮ থেকে ৩০ টাকা, ঝিঙা ৩৬ থেকে ৪০ টাকা, লাল শাক ২০ থেকে ২২ টাকা, কচু ২০ থেকে ২৪ টাকা, পটল ৩০ থেকে ৩২ টাকা, চিছিঙা ২২ থেকে ২৫ টাকা, পেঁপে ৬ থেকে ৮ টাকা, টমেটো ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ২০ থেকে ২২ টাকা, কাঁচা কলা (প্রতি হালি) ১২ থেকে ১৪ টাকা, আলু ১৪ থেকে ১৬ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

লাকসাম পৌর শহরের দৌলতগঞ্জ বাজরের কাঁচামাল ব্যবসায়ী মো. রফিকুল ইসলাম জানান, আমাদের এ অঞ্চলে সবজির আবদ অত্যন্ত কম। দেশের উত্তরাঞ্চল থেকে বিভিন্ন ধরণের সবজি এনে আমরা এখানে সামান্য লাভে পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীদের নিকট বিক্রি করে থাকি। এবার ওইসব অঞ্চলেই সবজির দাম বেশী। কারণ টানা বৃষ্টিতে অধিকাংশ স্থানে সবজি খেত নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে বেশী দামে কিনতে হয় বলে এখন বাজারে খুুচরা বিক্রেতারা বেশী দামে সবজি বিক্রি করছেন।

একই বাজারের কাঁচামাল ব্যবসায়ী মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, একদিকে বৃষ্টিতে নষ্ট হয়ে গেছে। অপর দিকে সড়ক-মহাসড়কগুলোর দুরবস্থার কারণে মালামাল পরিবহণ ব্যয় বেড়ছে দ্বিগুণ। সবজির দাম বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এটিও প্রভাব ফেলেছে।

রিক্সা চালক মো. আবদুর রহমান বলেন, আমরা নিম্ন আয়ের মানুষ। বাজারে সবজির দাম এত চড়া। চাল,এবং নিত্য প্রযোজনীয় অন্যান্য জিনিষ কেনার পর সামান্য তরি-তরকারি কেনার অবস্থা থাকেনা।

লাকসাম উপজেলার দরবেশপাড়া গ্রামের কৃষক রেয়াজ উদ্দিন জানান, তিনি এ মৌসুমে বাহাত্তর শতক জমিতে বেগুন, ধনেপাতা ও লাল শাকের আবাদ করেছেন। কিন্তু টানা বৃষ্টিতে ওইগুলো নষ্ট হয়ে গেছে।

উপজেলার মজলিশপুর গ্রামের কৃষক আবদুল হামিদ জানান, এ বছর তিনি ত্রিশ শতক জমিতে মরিচ ও ধনেপাতা, আটত্রিশ শতক জমিতে বেগুন, ষাট শতক জমিতে লাউ এবং করলা আবাদ করেন। টানা বৃষ্টিতে মরিচ ও ধনেপাতা খেত পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। বেগুন, লাউ এবং করলা খেতেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

মনোহরগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী মো. মোতালেব হোসেন বলেন, এই এলাকা এমনিতেই জলাঞ্চল (নিম্নাঞ্চল) হিসেবে পরিচিত। এখানে শুকনা মৌসুমে কিছু সবজির আবাদ হলেও চাহিদার তুলনায় একবারে কম। আর বর্ষা মৌসুমে সবজির আবাদ হয়না বললেই চলে। এখানের লোকজন বাজারের ওপর নির্ভর। একই কথা বলেন ওই উপজেলার লক্ষণপুর বাজারের ব্যবসায়ী আবদুল হাকিম।

লাকসাম কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে উপজেলার ১৩৮ হেক্টর জমিতে সবজির আবাদ করা হয়েছে। টানা বৃষ্টিতে অধিকাংশ সবজির খেত নষ্ট হয়েছে। তবে ক্ষয়-ক্ষতির পরিমান নির্ণয়ে মাঠ পর্যায়ে কাজ চলছে।

Check Also

মনোহরগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত

  আকবর হোসেন, মনোহরগঞ্জ প্রতিনিধি:– কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের বর্ধিত সভা মনোহরগঞ্জ স্কুল এন্ড ...

Leave a Reply