সন্ত্রস্থ সরাইলের ৩০ গ্রাম

লিটন চৌধুরী.ব্রাহ্মণবাড়িয়া :
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল অরুয়াইল ও পাকশিমূল ইউনিয়নের ৩০ গ্রাম এখন সন্ত্রস্থ। সর্বত্রই বিরাজ করছে উত্তেজনা। একের পর এক মারধরের ঘটনা ঘটেই চলেছে। ১০ সহস্রাধিক মানুষ এখন মারমুখি অবস্থানে। স্থানীয় এমপি, উপজেলা প্রশাসন ও জেলার পুলিশ প্রশাসন রয়েছেন সতর্ক অবস্থায়। ফের দাঙ্গায় লিপ্ত হলে শুরু হবে চিরুনি অভিযান। গত শনিবারের সংঘর্ষের পর থেকে গ্রামগুলোতে চলছে টানটান উত্তেজনা। সংঘর্ষের কারণে ত্রিশ গ্রামের সাধারণ মানুষের একমাত্র নৌচলাচল ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেছে। ঈদের ছুঁটিতে বাড়িতে আসা লোকজন পড়েছেন চরম বিপাকে। আর যেন সংঘর্ষের ঘটনা না ঘটে সেজন্য পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন দৌঁড়ঝাপ চালিয়ে যাচ্ছেন। সোমবার স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জিয়াউল হক মৃধা এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রী বিএনপি নেতা উকিল আবদুস সাত্তার ভূ্‌ইঁয়া সহ নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। নেতারা গ্রামবাসীকে শান্ত থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন। বিষয়টি সামাজিকভাবে নিস্পত্তি করতে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলেছেন।

সরেজমিনে জানা যায়, একটি প্রেম ঘটিত বিষয় ও স্থানীয় ছাত্রলীগের দুই নেতার বিরোধের জের ধরে সংঘর্ষের সূত্রপাত। গত শনিবার সকালে উপজেলা চেয়ারম্যান রফিক ঠাকুর, উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আবদুল হালিম, প্রফেসর মু. মুজিবুর রহমান, শিক্ষক নেতা মনসুর আলী, অরুয়াইল ও পাকশিমূল ইউনিয়নের বর্তমান ও সাবেক চেয়ারম্যানরা বিষয়টি নিস্পত্তির জন্য দু’পক্ষের নেতাদের সঙ্গে পৃথকভাবে বৈঠক করেছেন। কিন্তু এলাকার দাঙ্গাবাজরা শান্তির সকল প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করে দিয়ে একগুঁয়েমি করে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। শনিবার দুপুরে অরুয়াইল বাজার এলাকায় প্রথমে সংঘর্ষ শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যে দুই ইউনিয়নের ত্রিশ গ্রামে তা ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে পুলিশ কর্মকর্তাসহ অন্তত দেড় শতাধিক নারী-পুরুষ আহত হয়। বর্ষাকাল চারদিকে পানি থই থই। দাঙ্গাবাজরা সংঘর্ষের কাজে কয়েক শতাধিক নৌকা ব্যবহার করে। পুলিশ শত শত রাউন্ড টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট ছুঁড়েও পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হয়। একপর্যায়ে দাঙ্গাবাজদের কাছে পুলিশ অসহায় হয়ে পড়েন। সংঘর্ষ চলাকালে ওসি সহ ক’জন পুলিশ সদস্য আহত হলে পুলিশ নিস্ক্রিয় হয়ে পড়ে। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হেলাল উদ্দিন, সহকারী পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সঞ্জয় সরকার ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সহায়তায় রাত ৮টার দিকে সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনেন। এলাকার একাধিক প্রবীণ ব্যক্তি জানান, ভয়াবহ এমন সংঘর্ষ অতীতে দেখিনি। সংঘর্ষে পুলিশ সহ বহু নারী-পুরুষের রক্ত ঝড়লেও এ বিষয়ে সরাইল থানায় কোনো মামলা হয়নি। পুলিশ কাউকে গ্রেফতারও করেনি।

মঙ্গলবার সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) আব্বাস উদ্দিন জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় দু’পক্ষের কেউই থানায় মামলা দেয়নি। পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেনি। এদিকে গত রোববার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সল মাহমুদ ও সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হেলাল উদ্দিন দুই ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম পরিদর্শন করে তারা গ্রামবাসীদের শান্ত থাকার অনুরোধ জানান। বিষয়টি মীমাংসার জন্য ওই দুই কর্মকর্তা অরুয়াইল ও পাকশিমূল ইউনিয়নের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে পৃৃথক বৈঠক করেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সল মাহমুদ জানান, উভয় পক্ষ থেকেই শান্তিপূর্ণভাবে বিষয়টির মীমাংসার আশ্বাস দেয়া হয়েছে। এলাকাবাসী জানান, শনিবারের সংঘর্ষের পর থেকে অরুয়াইল বাজারে ব্যবসা-বাণিজ্য অনেকটা বন্ধ রয়েছে। পাকশিমূল ইউনিয়নের লোকজন ওই বাজারে যেতে পারছেন না। ব্যবসায়ীরাও বাজারে তাদের দোকানপাট খুলতে পারছে না। ওই এলাকায় সরকারি বিভিন্ন অফিসেও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্কুল-কলেজ বন্ধ রয়েছে। ইউনিয়নের দু’টি বাজার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভূতুড়ে অবস্থা বিরাজ করছে। রাতের বেলা গ্রামগুলো হয়ে পড়ে পূরুষ শূন্য। এলাকার কিছু পয়েন্টে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

Check Also

আশুগঞ্জে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মরদেহ উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :– ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মো. হারুন মিয়া (৪৫) নামে দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামির ...

Leave a Reply