সরাইলে সরকারি সড়কের গাছ কেটে নিচ্ছে প্রভাবশালীরা

আরিফুল ইসলাম সুমন, সরাইল :

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার সরকারি বিভিন্ন সড়কের মূল্যবান গাছ কেটে নিচ্ছে প্রভাবশালীরা। একের পর এক সড়কের গাছ প্রভাবশালী ব্যক্তিরা কেটে বিক্রি করে কামিয়ে যাচ্ছে লাখ লাখ টাকা। রহস্যজনক কারণে সংশিষ্ট কর্তৃপক্ষ নীরব রয়েছেন। একাধিক সূত্র জানায়, প্রশিকার নাম সর্বস্ব স্থানীয় অসাধু ব্যক্তিদের যোগসাজশে সরকারি সড়কের গাছগুলো কাটা হচ্ছে। এ কাজে তারা প্রশিকার সীলযুক্ত ভূয়া কাগজপত্র ব্যবহার করছে। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, কুমিলা প্রশিকা নামক সংস্থাটি প্রায় দীর্ঘ দিন পূর্বে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। স্থানীয় এনজিও সমাজ উন্নয়ন কেন্দ্রের পরিচালক মো. মমিন হোসেন জানান, বর্তমানে সরাইলে প্রশিকার কোনো কার্যক্রম নেই। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৫ বছর আগে প্রশিকা সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও, শাহবাজপুর, কালীকচ্ছ, শাহজাদাপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন সরকারি সড়কের দু’পাশে কাঠের গাছ রোপন করেছিল। প্রশিকা বিলুপ্ত হওয়ায় বর্তমানে কোটি কোটি টাকা মূল্যের গাছগুলো এখন সরকারি সম্পত্তি। বর্তমানে প্রশিকা নামধারী কিছু ব্যক্তি বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে ও নিজের আখের গুছিয়ে নিতে সরকারি সড়কের মূল্যবান গাছ একের পর এক কেটে বিক্রি করে যাচ্ছেন। এতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সমপ্রতি সরাইল সদর ও শাহজাদাপুর ইউনিয়নে চুরি করে সরকারি গাছ কাটার দায়ে থানায় একাধিক মামলা হয়েছে। মামলায় অপরাধীদের বিরুদ্ধে উলেখযোগ্য কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় অসাধু ব্যক্তি এখন আরো বেপরোয়া।

অতিসমপ্রতি সরজমিনে দেখা যায়, সরাইল-অরুয়াইল সড়কের বিশুতারা নামক স্থানে প্রভাবশালীরা প্রায় ৪০ হাজার টাকা মূল্যের কয়েকটি কাঠেরগাছ কেটে ফেলে। সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে অনেকেই দ্রুত সটকে পড়েন। কথা হয় বিশুতারা গ্রামের বাসিন্দা মো. মনু মিয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন, সমস্যা সৃষ্টি হওয়ায় প্রশিকার স্থানীয় কর্মকর্তা আশরাফ উদ্দিন ও জামাল মিয়ার নির্দেশে গাছগুলো কাটা হচ্ছে। এসময় মনু মিয়া একটি কাগজ দেখান। প্রশিকা বিলুপ্ত হলেও কাগজে আশরাফ উদ্দিনের স্বাক্ষর ও তারিখের(২/০৯/১১) নিচে প্রশিকার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সরাইল লিখা একটি সীল রয়েছে। অপরদিকে জামাল মিয়া নিজেকে প্রশিকার স্থানীয় সুপারভাইজার হিসেবে দাবী করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার একাধিক ব্যক্তি জানান, প্রায়ই সরকারি সড়কের গাছ কেটে বিক্রি করছে চিহ্নিত কিছু প্রভাবশালী। এ বিষয়ে মো. আশরাফ উদ্দিন নিজেকে প্রশিকার সরাইল উপজেলার বর্তমান ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দাবি করে বলেন, সমস্যা যুক্ত গাছগুলো কেটে একত্র করে রাখি। পরে টেন্ডারের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়। সড়কে অনেক স্থানীয় লোকের গাছ রয়েছে। এগুলো মাঝে মধ্যে তারা কেটে নিয়ে যায়। প্রশিকা বিলুপ্ত হয়নি। আমাদের বেতন-ভাতা বন্ধ রয়েছে। জামাল মিয়া নিজেকে প্রশিকার সরাইল উপজেলার সুপারভাইজার দাবী করে বলেন, সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ গাছগুলো মাঝে মধ্যে কাটা হয়।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

Check Also

আশুগঞ্জে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মরদেহ উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :– ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মো. হারুন মিয়া (৪৫) নামে দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামির ...

Leave a Reply