সরাইলে মাদক সেবনকে কেন্দ্র করে পৃথক সংঘর্ষে আহত-৪০

সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি ॥
গত শনিবার রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে মাদক সেবনকে কেন্দ্র করে পৃথক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পৃথক দু’টি সংঘর্ষে অন্তত ৪০ ব্যক্তি আহত হয়।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানান, শনিবার সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার খাঁটিহাতা গ্রামের ভান্ডারি মিয়ার পুত্র আলম এবং সরাইল উপজেলার কুট্টাপাড়া গ্রামের সোহেল সহ তাদের বন্ধুরা মিলে সিএনজি অটোরিকশা নিয়ে সীমান্ত এলাকা আখাউয়ায় ফেন্সিডিল সেবন করতে যায়। ফিরার পথে রাস্তায় আলম ও সোহেলের মধ্যে বাকবিতন্ডা ও হাতাহাতি হয়। রাত ১০টার দিকে তারা ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বিশ্বরোড মোড় এলাকায় পৌঁছে। এসময় আলম সিএনজি অটোরিকশাটি সহ সোহেল ও তার বন্ধুদের খাটিহাতা গ্রামে আটকে মারধর শুরু করে। খবর পেয়ে সোহেলের বাড়ি কুট্টাপাড়ার লোকজন দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বিশ্বরোড মোড়ে আসে। খাঁটিহাতা গ্রামের লোকজনও দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে বিশ্বরোড এলাকায় আসলে দু’গ্র“পের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। এতে দু’দলের অন্তত ১৫ ব্যক্তি আহত হয়। সংঘর্ষ চলাকালে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক বন্ধ হয়ে যায়। দুই দিকে শত শত যানবাহন আটকে পড়ে। পরে বিশ্বরোড হাইওয়ে, খাটিহাতা ফাঁড়ি ও সরাইল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি সামাল দেন।
অপরদিকে শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সরাইল উপজেলা সদরের প্রাত:বাজার এলাকায় মাদক সেবন করে কবির নামে এক যুবক মাতলামি করছিল। এসময় ইউনিয়নের উত্তর আরিফাইল গ্রামের মধু মিয়ার পুত্র আনোয়ার কে মাদকাসক্ত কবির ঘুষি মারে। এ ঘটনায় উপস্থিত বাজারের লোকজন কবিরের ওপর চড়াও হয়। এর জের ধরে কিছুণ পর কবিরের বাড়ি কাচারি পাড়ার লোকজন দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বাজার এলাকায় আনোয়ারের ওপর হামলা করে। খবর পেয়ে উত্তর আরিফাইল গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রাত:বাজারে আসলে দু’গ্র“প রক্তয়ী সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এসময় বাজারের সমস্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। দাঙ্গাবাজদের ইটপাটকেলে বেশকিছু দোকানের টিনসেড ঘর বিনষ্ট হয়। দেড় ঘন্টা স্থায়ী সংঘর্ষে দু’গ্রপের অন্তত ২৫ ব্যক্তি আহত হয়। খবর পেয়ে সরাইল থানার উপ-পরিদর্শক (এস আই) চন্দন চক্রবর্তীর নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ব্যাপক লাঠিপেটা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের মধ্যে ক’জন হলো- আ’লীগ নেতা হাজী ইকবাল হোসেন, আলমগীর, শফিক, কবির, আনোয়ার, কাজল, দুলাল, কাউছার, উজ্বল, শামিম, ইমরান, মফিজুল, নাছির। আহতদের সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়। এদের মধ্যে গুরুতর আহত দুলালকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply