সরাইলে বিএনপি’র ঈদ শুভেচ্ছা কর্মসূচিতে পুলিশের বাধা

আরিফুল ইসলাম সুমন, সরাইল :
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে পুলিশ প্রশাসনের বাধার মুখে বিএনপি’র নেতা-কর্মীরা ঈদ শুভেচ্ছা কর্মসূচি পালন করতে পারেন নি। উপজেলা বিএনপিতে দীর্ঘ দিনের কোন্দল ও গ্র“পিংয়ের কারণে দুই গ্র“পের মাঝে সংঘর্ষের আশঙ্কায় গত শুক্রবার সকাল থেকেই এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অতিরিক্ত দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হয়। বিকেলে বিএনপি’র নেতা-কর্মীরা ঈদ শুভেচ্ছা কর্মসূচি পালন করার প্রস্তুতি নিলে পুলিশ বাধা দেন। এতে নেতা-কর্মীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করে।

জানা যায়, সাবেক প্রতিমন্ত্রী বিএনপি’র প্রভাবশালী নেতা উকিল আবদুস সাত্তার ভূঁইয়া স্থানীয় বিএনপি’র এক নেতার আমন্ত্রণে ও ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়ের জন্য শুক্রবার বিকেলে সরাইলে আসার কথা ছিল। সাবেক প্রতিমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষ্যে তার গ্র“পের উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন মাস্টারসহ অন্যান্য নেতা-কর্মীরা নানা প্রস্তুতি গ্রহন করেন। অন্যদিকে স্থানীয় বিএনপি’র একটি গ্র“প দলে দীর্ঘ আড়াই বছর যাবত গ্র“পিং-কোন্দল ও নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে হামলা-মামলার জন্য উকিল আব্দুস সাত্তার ভূঁইয়াকে দায়ী করেন। শুক্রবার বিকেলে ওই নেতার আগমন, ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় ও রাজনৈতিক শোডাউন প্রতিহত করতে উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুর রহমান গ্র“পের নেতা-কর্মীরা প্রস্তুতি নেন। বিএনপি’র দুই গ্র“পের পাল্টাপাল্টি প্রস্তুতির কারণে উপজেলা সদরে শুরু হয় টানটান উত্তেজনা। সম্ভাব্য রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এড়াতে দৌড়ঝাপ শুরু করেন প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা। এ পরিস্থিতিতে পুলিশি বাধায় উকিল আব্দুস সাত্তার ভূঁইয়া সরাইলে তার আগন সহ অন্যান্য কর্মসূচি বাতিল করেন। ওই দিন সন্ধ্যায় সাত্তার ভূঁইয়ার সমর্থিত নেতা-কর্মীরা উপজেলা সদরে পুলিশ প্রহরায় মিছিল করেন। অপরদিকে আবদুর রহমান সমর্থিত প্রায় ৩ শতাধিক নেতা-কর্মী মিছিল নিয়ে উপজেলা সদরে প্রবেশের চেষ্টা করলে স্থানীয় অন্নদা স্কুল মোড়ে পুলিশ তাদের আটকে দেয়।

প্রসঙ্গত, দলীয় কোন্দলের কারণে দীর্ঘ দিন যাবত নিস্তেজ হয়ে আছে সরাইল উপজেলা বিএনপি। জিয়াউর রহমানের মৃত্যু বার্ষিকী পালনেও তারা দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েন। ইফতার কর্মসূচি পালনে জড়িয়ে পড়ে সংঘর্ষে। অতিসম্প্রতি দুই গ্র“প আলাদাভাবে হরতাল কর্মসূচি পালনকালে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে লিপ্ত হন। সমগ্র সরাইল হয়ে পড়ে আতঙ্কগ্রস্থ। তিন দিনের সংঘর্ষে আহত হয় ৩ শতাধিক লোক। ভাংচুর করা হয় ঘর-বাড়ি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। উভয় পক্ষের দায়ের করা একাধিক মামলায় আসামি হয় অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মী। এ ঘটনার পর থেকেই প্রায় দেড় বছর যাবত সরাইলে বিএনপি’র কোনো কর্মসূচি পালিত হচ্ছে না। এসব কারণে দলের তৃণমুল পর্যায়ের ত্যাগী নেতা-কর্মীরা উপজেলা ও জেলার সিনিয়র নেতাদের ওপর চরমভাবে ক্ষুব্ধ। এ প্রসঙ্গে অরুয়াইল ইউনিয়ন বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ডা. শহীদুল্লাহ বলেন, গ্র“পিং ও কোন্দলের কারণে দলের চরম ক্ষতি হচ্ছে। আবদুস সাত্তার ভূঁইয়া প্রবীণ নেতা হয়েও তিনি দলের সমস্যা সমাধানে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। তিনি শুধু আবদুর রহমানের প্রতিপ্ক্ষ হয়ে কাজ করছেন। আমরা দলের এ সমস্যার সমাধান চাই। পানিশ্বর ইউনিয়নের সভাপতি আতিকুর রহমান বলেন, আবদুস সাত্তার উপজেলা বিএনপিকে দুই ভাগ করেছেন। জেলা থেকে এসে উপজেলার আহবায়ক হওয়ার প্রসঙ্গে বলেন, তিনি এসপি’র চাকুরি ছেড়ে দিয়ে থানার চাকুরি করতে এসেছেন। ২৫ বছর এমপি থেকে তিনি আমাদের জন্য কিছুই করেন নি। উপজেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহবায়ক আনিছুল ইসলাম ঠাকুর বলেন, গত শুক্রবার উকিল আবদুস সাত্তার সরাইলে আসবেন বা দলীয় কোন কর্মসূচি ছিল এমনটি আমার জানা নেই। অপর যুগ্ম আহবায়ক আনোয়ার হোসেন মাস্টার বলেন, গত শুক্রবার সরাইলে দলের কোন কর্মসূচি ছিল না। অযথা একটি ষড়যন্ত্রকারী মহল মিথ্যা তথ্য মাঠে ছেড়ে দিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে। যুগ্ম আহবায়ক অ্যাভোকেট আবদুর রহমান বলেন, আমার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে উকিল আবদুস সাত্তার ভূঁইয়া সরাইল উপজেলা বিএনপিতে কোন্দল সৃষ্টি করেছেন। তিনি ২২ বছর যাবত জেলা বিএনপি’র সভাপতির দায়িত্ব পালন করে সরাইল বিএনপি’র আহবায়ক হয়েছেন। দলের কর্মসূচি পালন করতে গেলে তার সমর্থিত লোকজন নেতা-কর্মীদের ওপর চড়াও হয়। এ ব্যাপারে উপজেলা বিএনপি’র আহবায়ক ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী উকিল আবদুস সাত্তার ভূঁইয়া বলেন, শুক্রবার সরাইলে আমার কোনো কর্মসূচি ছিল না। নেতা-কর্মীদের বিভিন্ন অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ওয়ান-ইলেভেনে গোয়েন্দারা টাকা দিয়ে বিএনপি’র রাজনীতি উলটপালট করে দিয়েছে। আমার বিরুদ্ধে যারা বলছেন তারা শয়তান ইবলিশ।





Check Also

আশুগঞ্জে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মরদেহ উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :– ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মো. হারুন মিয়া (৪৫) নামে দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামির ...

Leave a Reply