মুরাদনগরে ভোরের কাগজ সাংবাদিকের হাত-পা কেটে ফেলার নির্দেশ !

কুমিল্লা অফিসঃ
দৈনিক ভোরের কাগজ পত্রিকার কুমিল্লা মুরাদনগর উপজেলা প্রতিনিধি মোঃ শরিফুল আলম চৌধুরীর হাত-পা কেটে ফেলার জন্য এলাকার প্রায় ৫০ মাদক সেবীদের নির্দেশ দিয়েছেন। উপজেলার ১৯নং দারোরা ইউপ’র চেয়ারম্যান কাদের মোক্তার ও তার স্ত্রী শাহিনা আক্তার মায়া। গত বৃহস্পতিবার বিকেল চারটায় তিনি “কাজিয়াতল বড়পুল সেতু”তে এলাকার প্রায় অর্ধ শতাধিক মাদক সেবীদের নিয়ে মতবিনিময় শেষে মাদক সেবীদের প্রতি এ নির্দেশ দেন।

ভোরের কাগজ সাংবাদিক শরিফুল আলম চৌধুরী বলেন, দারোরা ইউননিয়নে মাদক সেবীদের সংখ্যা আগের তুলনায় বেড়ে যাওয়ায় কাজিয়াতল গ্রামের সচেতন নাগরিকেরা মিলিত হয়ে ওই গ্রামের মাদক যুক্ত উত্তম কুমারকে গত মঙ্গলবার (চাঁদ) রাতে আটক করে গণপিটুনী দিয়ে তার মাথার চুল ছেটে দেয়। পরদিন ঈদের নামায আদায় শেষে কাজিয়াতল গ্রামের ৩ ঈদগাহ্রে সহস্রাধিক মুসল্লীরা মাদকের আস্তানা কাজিয়াতলে রাখবনা শ্লোগানে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে দারোরা ইউপি চেয়ারম্যান কাদের মোক্তারের বাড়ীতে যায়। ওই মিছিলের ছবি তোলার কথা শুনতে পেরে মিছিল নিয়ে আসা উপস্থিত মুসল্লীদের উদ্দ্যেশ্যে চেয়ারম্যানের স্ত্রী শাহিনা আক্তার মায়া বলেন, ভোরের কাগজের সাংবাদিক শরিফের সাথে আপনারা কোন প্রকার যোগাযোগ করবেন না। সে আপানাদের ছবি তুলে পুলিশের হাতে দিয়ে আপানাদেরকে গ্রেপ্তার করাবে। এবং আমার সাথে ওই এলাকার কেউ কথাবার্তা বল্লে তার পরিণাম খারাপ হবে বলে জানিয়ে দেন। ঈদের জামাত শেষে এই প্রথম কাজিয়াতল গ্রামে মাদকের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে এতবড় মিছিল নিয়ে চেয়ারম্যানের বাড়ীতে যেয়ে সমাবেশ করাকে নিয়ে এলাকায় তোলপাড় শুরু হলে চেয়ারম্যান আবদুল কাদের মোক্তার ও তার ঘনিষ্ঠ ২ জন সহচরকে নিয়ে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে কাজিয়াতল বড়পুলের উপর এলাকায় প্রায় ৫০ মাদক সেবীদের সাথে মতবিনিময় করে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালি গালাজ , হাত-পা কেটে ফেলার নির্দেশ এবং কিভাবে এই এলাকায় সাংবাদিকতা করি তা তিনি দেখে নেবেন বলে শাসিয়ে যান। এব্যাপারে চেয়ারম্যান কাদের মোক্তার বলেন, সাংবাদিকের শুধু হাত-পা কাটা কেন প্রয়োজনে এর চেয়েও বড় কিছু অঘটনের খবরও জানতে পারবেন। সাংবাদিক কেন কোন ব্যক্তিই মদ-গাজাঁ নিয়ে আমার ইউনিয়নের মাদক সেবীদেরকে উদ্যেশ্য করে কোন সমলোচনা করে পাড় পাবেনা। ইতিপূর্বে ঐ চেয়ারম্যান এর পক্ষে ভোরের কাগজের সাংবাদিক তার নির্বাচনিয় সময়ে ভোট না চাওয়ার কারনে সাংবাদিক তার হাতে লাঞ্চিত হতে হয়। ওই ঘটনায় ইতিপূর্বে সাংবাদিক শরিফুল আলম চৌধুরী বাধী হয়ে মুরাদনগর থানায় চেয়ারম্যান কাদের মোক্তারকে অভিযোক্ত করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। যার নং ১১৮২ তারিখঃ২৮-০৫-২০১১ইং।





Check Also

করিমপুর মাদরাসায় বোখারী শরীফের খতম ও দোয়া

মো. হাবিবুর রহমান :– কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার করিমপুর জামিয়া দারুল উলূম মুহিউস্ সুন্নাহ মাদরাসায় ১৪৪০ ...

Leave a Reply