সরাইলের মিনি কক্সবাজার : ঈদে বিনোদন প্রিয় মানুষের ঢল

আরিফুল ইসলাম সুমন, সরাইল :

প্রতিদিন জমে উঠছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের মিনি কক্সবাজার। ঈদ-উল ফিতরের ছুটির দিনে বিনোদন প্রিয় মানুষের ঢল নেমেছে সেখানে। ভ্রমণকারীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উটেছে ধরন্তীর আকাশী হাওর। অতিসম্প্রতি সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই সড়কের কালীকচ্ছ ধরন্তী নামক স্থান থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার হাওর এলাকার জায়গা জুড়ে জমে উঠেছে হাজার মানুষের মিলন মেলা। দুই দিকেই আকাশী হাওর। পানির কলকাকলিতে ভরে উঠে দর্শনার্থীদের মন। দুপুর গড়িয়ে যখন বিকেল হয়, বাড়তে থাকে ভ্রমণকারীর সংখ্যা। শুধু ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা নয়, অন্যান্য জেলার বিভিন্ন বয়সের নারী, পুরুষ ও শিশুরা নানা ধরণের যানবাহনে চড়ে এখানে ঘুরতে আসেন। দর্শনার্থীরা নানা অঙ্গঁ-ভঙ্গিঁ, সাজ ও গানে মাতিয়ে তুলে আকাশী হাওরের মিনি কক্সবাজার খ্যাত ওই স্থানটিকে। মনের আনন্দে রাস্তার দু’পাশে বসে গল্পে মাতোয়ারা থাকে প্রেমিক যুগল। অনেকে স্বচ্ছ পানিতে গোসল করে শান্তি পান। আবার অনেকে রাস্তার ব্লকে বসে দু’পা পানিতে ভাসিয়ে দিয়ে গান গাইতে গাইতে ঘুমিয়ে পড়েন। পাশে বসা প্রিয় মানুষটির হাতের স্পর্শে তার ঘুম ভাঙ্গে। ভ্রমণকারীদের উপস্থিতি এখানে নিয়মিত হলেও এ যাবৎকালের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভ্রমণকারীর আগমন ঘটেছে গত বুধবার ঈদের দিনে বিকেল বেলায়। প্রায় ৫ শতাধিক গাড়ি ও ৫০ হাজার লোকের উপস্থিতিতে এক সময় সড়কে দীর্ঘ যানজট বেঁধে যায়। সরেজমিনে দেখা যায়, কেউ হাঁটছে, কেউ কেউ বসে প্রিয়জনদের সঙ্গে গল্প করছেন। অনেকে নৌকায় ভ্রমণ করছে। পানিতে নেমে গোসল করতেও দেখা গেছে। ভ্রমণে আসা ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারী কলেজের অনার্স পড়–য়া দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী আকলিমা আক্তার জানায়, ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে হাজার মানুষের সাথে এখানে এসেছি। জীবনের প্রথম এখানে এসে সূর্য অস্ত যাওয়ার দৃশ্যটি উপভোগ করলাম। খুব ভাল লাগছে। তবে এখানে একটি পর্যটন কেন্দ্র স্থাপন জরুরি। বেড়াতে আসা দর্শনার্থী সদ্য প্রবাস ফেরত সরাইল সদরের উত্তর আরিফাইল গ্রামের বাসিন্দা মো. আব্বাস উদ্দিন জানান, সৌদী আরবে থেকে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে স্থানটি টিভিতে দেখতাম। ছুটিতে বাড়ি এসেছি। এখন পরিবারের লোকজন নিয়ে ঘুরতে আসছি। এখানে হাজার হাজার মানুষের সঙ্গে ঈদের আনন্দ উপভোগ করছি। এ যেন একটি স্বপ্ন। এদিকে স্থানটিতে বেড়াতে আসা ভ্রমণকারীদের অভিযোগও রয়েছে, অনেক দর্শনার্থী জানান-এখানে বখাটেদের উৎপাত রয়েছে। নেই কোনো হোটেল, রেস্তরা। বৃষ্টির সময় মোবাইল সেট, ক্যামেরা সহ প্রয়োজনীয় সবকিছু ভিজে যায়। রোদ-বৃষ্টি থেকে বাঁচার কোনো ব্যবস্থা নেই।





Check Also

আশুগঞ্জে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মরদেহ উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :– ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মো. হারুন মিয়া (৪৫) নামে দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামির ...

Leave a Reply