সরাইলে স্কুল ছাত্রীকে যৌন নিপীড়ন : বিচার না পেলে আত্মহত্যার হুমকি

আরিফুল ইসলাম (সুমন), সরাইল :
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার কালীকচ্ছ পাঠশালা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ট শ্রেণীর এক ছাত্রী বখাটেদের দ্বারা যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে। এ সময় বখাটেরা স্কুল ছাত্রীকে অপহরণের চেষ্টাও করে। এ ঘটনায় প্রতিবাদ করায় প্রভাবশালী লাঠিয়াল বখাটেরা ও তাদের সমর্থিত লোকজন স্কুল ছাত্রীর চাচাত দুই ভাই সহ ৫ জনকে পিটিয়ে আহত করে। লাঠিয়ালরা সরাইল উপজেলা সদরের প্রাত:বাজার এলাকায় একটি বাড়ির মালামাল ভাংচুর সহ লুটপাট করে। ঘটনাটি ঘটেছে ঈদের আগের দিন মঙ্গলবার রাতে। এ ঘটনায় বুধবার ওই স্কুল ছাত্রীর মা বাদী হয়ে সরাইল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। যৌন নিপীড়নের শিকার ওই স্কুল ছাত্রীর অসহায় পরিবারের লোকজন জানিয়েছেন তারা এ ঘটনার বিচার না পেলে সপরিবারে আত্মহত্যা করবে।

মামলা সূত্র ও স্কুল ছাত্রীর পরিবার জানায়, সরাইল উপজেলার কালীকচ্ছ ইউনিয়নের নাথপাড়া গ্রামের এক প্রবাসীর কন্যা ওই স্কুলছাত্রীটি। একই ইউনিয়নের বেপারি পাড়া গ্রামের কাছু সর্দারের বখাটে পুত্র সজীব, কাঙ্গাল বেপারির পুত্র সাদ্দাম, জাহেদ আলী সর্দারের পুত্র বাদশা, ছাওয়াল বেপারির পুত্র কাইয়ূম ও এলেম বেপারির পুত্র তাজিম স্কুলছাত্রীকে প্রায়ই উত্যক্ত করতো। এ নিয়ে বখাটেদের পরিবারে বিচার চেয়েও কোনো সুফল পাওয়া যায়নি। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বখাটেরা ওই স্কুল ছাত্রীকে তার বাড়ি সংলগ্ন রাস্তায় যৌন নিপীড়ন ঘটায় এবং অপহরণের চেষ্টা করে। এসময় ওই বাড়িতে কোনো পুরুষ লোক ছিল না। মেয়েটির সুর-চিৎকার শুনে তার মা সহ বাড়ির অন্যান্য নারীরা এগিয়ে আসে এবং বখাটেদের কবল থেকে স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করে। ওই দিনই রাতে বখাটে সাদ্দাম ও সজীব স্কুলছাত্রীটির বাড়ির মুঠো ফোনে কল দিয়ে মেয়েটির মাকে হুমকি দেয়। বখাটেরা জানায়, এ ঘটনাটি নিয়ে কোনো অভিযোগ করলে পরিণতি ভাল হবে না। রাত ১১টায় স্কুলছাত্রীর চাচাত বড় ভাই সিএনজি অটোরিকশা চালক মো. আলমগীর বাড়ি ফিরে ঘটনাটি জানতে পারে। এসময় বখাটেরা স্কুলছাত্রীর বাড়ির মুঠো ফোনে দ্বিতীয় দফা কল করে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করে। রিসিভ কল সংগ্রহ করে আলমগীর তার ছোট ভাই আল আমিনকে সঙ্গে নিয়ে সরাইল সদরের প্রাত:বাজার এলাকায় এসে এ ঘটনার প্রতিবাদ জানায়। এতে বখাটেরা ক্ষিপ্ত হয়ে স্কুলছাত্রীর দুই ভাইকে মারধর শুরু করে। আত্ম-রক্ষার্থে আলমগীর ও আল আমিন প্রাত:বাজার এলাকায় একটি বাড়িতে আশ্রয় নেই। কিছুক্ষণ পর বখাটে সজীবের পিতা লাঠিয়াল কাছু সর্দারের নেতৃত্বে শতাধিক লোক ওই বাড়িতে হামলা চালায়। হামলায় আলমগীর, আল আমিন, রেনু মিয়া, গৃহকত্রী আশেদা বেগম ও রাশেল মিয়া আহত হয়।

এসময় লাঠিয়ালরা বাড়ির মালামাল ভাংচুর সহ লুটপাট করে। খবর পেয়ে সরাইল থানার এস আই চন্দন চক্রবর্তী ও এস আই বেলাল সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছলে লাঠিয়ালরা পালিয়ে যায়। পুলিশের সহযোগিতায় স্থানীয় লোকজন রাতেই আহতদের সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। এসময় পুলিশ ভাংচুরের কিছু আলামত থানায় নিয়ে যান।

স্কুলছাত্রীর অসহায় মাতা জানান, বছর দু’য়েক আগে আমার বড় ছেলে সড়ক দূর্ঘটনায় মারা যায়। স্বামী বিদেশে চাকুরি করেন। এখানে আমাদের কোনো গোষ্ঠি নেই। সুযোগে বখাটেরা আমার মেয়েটিকে রাস্তায়, পুকুর ঘাটে ও বাড়িতে উত্যক্ত করে আসছে। তাদের অত্যাচারে মেয়েটিকে ঠিকভাবে স্কুলে দিতে পারি না। ঈদের আগের দিন(মঙ্গলবার) সন্ধ্যায় বখাটেরা আমার মেয়েটিকে একা পেয়ে হামলা করেছে। অপহরণের চেষ্টাও করে তারা। প্রতিবাদ করায় আমার ভাসুর পুত্রদের পিটিয়ে আহত করেছে। বিচার কোথায় পাব ? পুলিশের কাছে গিয়েও ধমক খেতে হয়েছে। এখন মনে মনে ভাবছি এ ঘটনার আইনগত সুষ্ঠু বিচার না পেলে সপরিবারে আত্মহত্যা করবো। স্কুলছাত্রীর মা অভিযোগ করে বলেন, ঈদের দিন বুধবার বিকেলে আমি লিখিত অভিযোগ নিয়ে থানায় গেলে ডিউটি অফিসার দারোগা সহিদ আমাকে ধমকানো শুরু করেন। তিনি বলেন, তোমার মেয়ে খারাপ। নইলে ছেলেরা এমন করে কেন ? দারোগার এই বক্তব্যে আমি হতাশ হয়ে পড়ি। বিচার চাইতে গিয়ে উল্টো অপবাদ পেলাম। ঈদের সারাটি দিন মা-মেয়ের শুধু চোখের জলে কেটেছে। প্রভাবশালীরা এখন সালিশের জন্য চাপ সৃষ্টি করছে।

এ ব্যাপারে সরাইল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) চন্দন চক্রবর্তী জানান, স্কুলছাত্রীর মার দায়ের করা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। এ ঘটনায় আইনগত কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।





Check Also

আশুগঞ্জে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মরদেহ উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :– ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মো. হারুন মিয়া (৪৫) নামে দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামির ...

Leave a Reply