ঈদ উপলক্ষে বেপরোয়া চৌদ্দগ্রামের মাদক ব্যবসায়ীরা : প্রশাসনের উদ্ধার সিকি পরিমাণ

জামাল উদ্দিন স্বপন:
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে চৌদ্দগ্রামের মাদক ব্যবসায়ীরা। প্রতিদিন ও রাতে মাদক ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্যে জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহল উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। কিছুতেই দমন করা যাচ্ছেনা মাদকে জড়িত মূল হোতাদের। মাঝে মধ্যে শ্রমিক/পাচারকারী আটক হলেও আইনের ফাঁক ফোকরে বেরিয়ে পড়ে আবার পাচার কাজ চালায়। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ৪৪ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে মাত্র ২’শ গজ থেকে তিন কিলোমিটারের মধ্যে ভারতীয় সীমানা হওয়ায় মাদক পাচার নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে।

বিভিন্ন সুত্রে ও প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, উপজেলার আলকরা ইউনিয়নের দত্তসার, সোনাইছা, কাইচ্ছুটি, জগন্নাথদিঘী ইউনিয়নের সাতঘড়িয়া, বেতিয়ারা, জগন্নাথ, উজিরপুর ইউনিয়নের চকলক্ষীপুর, জগমোহনপুর, কালিকাপুর ইউনিয়নের শ্রীপুর, মিরশান্নী, নোয়াপুর, ঘোলপাশা ইউনিয়নের মতিয়াতলী, আমানগন্ডা, বাবুর্চি, চৌদ্দগ্রাম পৌরসভার জামে মসজিদ রোড, রামরায় গ্রাম, নোয়াপাড়া, বাতিসা ইউনিয়নের কালিকাপুর, আনন্দপুর, চিওড়া ইউনিয়নের ডিমাতলী, সুজাতপুর দিয়ে সবচেয়ে বেশী চোরাচালান হয়।

অভিযোগ রয়েছে, এসব এলাকা দিয়ে বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বিজিবি ও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বিএসএফ’র এক শ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তার সহায়তায় মাদকদ্রব্যসহ বিভিন্ন ধরনের চোরাচালান বাংলাদেশে আসছে। উল্লেখযোগ্য মাদক হলো- হেরোইন, গাঁজা, ফেনসিডিল, অফিসার্স চয়েজ, হুইস্কি, মদ ইত্যাদি। অপরদিকে বিজিবি দাবী করছে, বিজিবির সদস্য সংখ্যা কম হওয়ায় চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। সীমান্ত অতিক্রম করার পর মাদক ব্যবসায়ীরা মাদক পাচার ও ব্যবসার জন্য বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মাদক ব্যবসায়ীরা ১৯ কৌশলে মাদক ব্যবসা নির্দ্বিধায় চালিয়ে যাচ্ছে। কৌশলগুলোর অন্যতম হলো- মুদি, চা, ভাঙ্গারী ব্যবসার অন্তরালে, টিফিন ক্যারিয়ার, গাড়ির চাকার টায়ার, পায়ের জুতা, পানের ঝুড়ি, ধানের বস্তা, ঘাসের খাছি, স্কুল ব্যাগের ভিতর, পুরুষ ও মহিলাদের বডি ফিটিং, মাইক্রোবাস, সিএনজি, ঔষধ কোম্পানীর রিপ্রেজেন্টেটিভ/গাড়ী, ব্রিফকেস, নিজেরা নয় সাধারণ মানুষকে ব্যবহার, মহাসড়কের পশ্চিম পাশে নিয়ে যাওয়া, বিজিবিকে তথ্যের নামে বিভ্রান্তি ও রাজনৈতিক পরিচয় দেওয়া। এসকল কৌশলে মাদক পাচার ও ব্যবসার সময় র‌্যাব, পুলিশ (থানা, হাইওয়ে, ডিবি) ও বিজিবি বিপুল পরিমাণ মাদকসহ পাচারকারীদের আটক করতে সক্ষম হয়েছে। আরো নতুন কৌশল আবিস্কার করতে না পারায় মাদক ব্যবসায়ীরা আইন শৃংখলা রক্ষাকারী ৫ বাহিনীর কতিপয় অসাধু কর্মকর্তাদের মাসোহারা দিয়ে ব্যবসা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফলে চৌদ্দগ্রাম এলাকা থেকে সাম্প্রতিক সময়ে মাদকদ্রব্য আটক হচ্ছে খুবই কম। এদিকে গত সপ্তাহে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনের উপস্থিতিতে বিজিবি ৩৩ রাইফেলস্ ব্যাটেলিয়ানে ৮ কোটি টাকা মূল্যের মাদকদ্রব্য ধ্বংস করা হয়।

সচেতন মহল জানান, চৌদ্দগ্রামে যে পরিমাণ মাদক উদ্ধার হয় তা পাচার হওয়া মাদকের সিকি পরিমাণ। বিপুল পরিমাণ মাদক চৌদ্দগ্রামের উপর দিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার হচ্ছে। প্রশাসনের সহায়তায় মাদকদ্রব্য সহজলভ্য হওয়ায় স্কুল কলেজের ছেলেরাও মাদকের সাথে জড়িয়ে পড়ছে। এ অবস্থা থেকে নিরসনের জন্য সচেতন মহল উর্ধ্বতন প্রশাসনের নিকট জোরদাবী জানিয়েছে।




Check Also

কুমিল্লায় তিন গৃহহীন নতুন ঘর পেল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ– কুমিল্লা সদর উপজেলায় গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে ৪নং আমড়াতলী ইউনিয়নের গৃহহীন নুরজাহান বেগম, ...

Leave a Reply