কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২: ১ হাজার ৪১৬টি ট্রান্সফরমার ও বিপুল তার চুরি ॥ ক্ষতি প্রায় ৬ কোটি টাকা

কুমিল্লা প্রতিনিধি:
ইলেকট্রিক তার ও ট্রান্সফরমার চুরির কারণে বিপুল পরিমান আর্থিক তির সম্মুখীন হচ্ছে কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২। যার ফলে প্রতিষ্ঠানটির ৫ কোটি ৮৯ লাখ ১৩ হাজার ২২৪ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রতিবৎসর এ চুরির ঘটনা অপ্রত্যাশিতভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করার পরও কোনক্রমেই এসব চুরি প্রতিরোধ করা যাচ্ছেনা। সমিতির ভৌগলিক এলাকায় নতুন কর্মসৃষ্টির মাধ্যমে বেকার সমস্যার সমাধান ও গ্রাহক সদস্যগণের মাধ্যমে লাভ নয় লোকসান নয় ভিত্তিতে পরিচালিত বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা এ মহান উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে উত্তম গ্রাহক সেবার লক্ষ্যে স্বল্প পরিসরে ১৯৯৪ সালের ১লা এপ্রিল এ সমিতির যাত্রা শুরুর পর থেকে ২০১১ সালের জুন পর্যন্ত ১হাজার ৪১৬টি বিভিন্ন সাইজের ট্রান্সফরমার ও ২৬ লাখ ৯ হাজার ৬৯৭ মিটার তার চুরির ঘটনা ঘটেছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ কুমিল্লা জেলার ৮টি উপজেলায় ৫ হাজার ৬২৪ কিলোমিটার লাইন তৈরীর মাধ্যমে ২ লাখ ৫১ হাজার ৫৯৩টি বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান করেছে।

সূত্র জানায়,শুরু থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত ২৮৫টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে যার মূল্য ৭৯ লাখ ৩৫ হাজার ৪৬৪টাকা ও ১লাখ ৭৯ হাজার ৫৭০মিটার তার চুরি হয়েছে যার মূল্য ৬৬ লাখ ৭৯ হাজার ৪৬০টাকা। ২০০৪ সালে ৩৯টি ট্রান্সফরমার ও ২২ হাজার ৯৯মিটার তার,২০০৫ সালে ৮২টি ট্রান্সফরমার ও ১০ হাজার ৮৭৪ মিটার তার,২০০৬ সালে ২৪৮টি ট্রান্সফরমার ও ২১ হাজার ১১৪ মিটার তার,২০০৭ সালে ১৪৯টি ট্রান্সফরমার ও ১৮ হাজার ৫৩৬মিটার তার,২০০৮ সালে ১০৯টি ট্রান্সফরমার ও ১২ হাজার ১৫৬মিটার তার,২০০৯ সালে১৬৫টি ট্রান্সফরমার ও ৪ হাজার ২৭৮মিটার তার, ২০১০ সালে ২৬৪টি ট্রান্সফরমার ও ১৬১মিটার তার ও চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত ৭৫টি ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটেছে। এতে সর্বমোট ১ হাজার ৪১৬টি বিভিন্ন সাইজের ট্রান্সফরমার এবং ২৬ লাখ ৯ হাজার ৬৯৭মিটার তার চুরির ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের ৫ কোটি ৮৯ লাখ ১৩ হাজার ২২৪টাকার য়তি হয়েছে।

এ বিষয়ে কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী মোঃ মাহবুবুল আলম জানান,গ্রাহক সচেতন হলে ট্রান্সফরমার ও তার চুরির ঘটনা কিছুটা হলেও প্রতিরোধ করা সম্ভব হতো। তিনি আরও জানান ট্রান্সফরমার ও বৈদ্যুতিক লাইনের নিরাপত্তা বিধানকল্পে গ্রাহকদের নিজ দায়িত্বে নৈশকালীন পাহাড়ার ব্যবস্থা করতে হবে। সেচ মওশম শেষে সমিতির সহযোগীতায় ট্রান্সফরমার খুলে গ্রাহকদের নিজ হেফাজতে রাখতে পারে। তাছাড়াও সেচ গ্রাহকদের ট্রান্সফরমার নামানো উঠানো বাবদ প্রয়োজনীয় ফি সমিতির অনুকূলে জমা প্রদান করলে সমিতি এ ব্যাপারে সর্বাত্বক সহযোগীতা প্রদান করবে।





Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply