এক কোটি ৭৫ লাখ টাকার কাজ ভাগবাটোয়ারা!

জামাল উদ্দিন স্বপন:
কুমিল্লার বরুড়া পৌরসভার সড়ক নির্মাণের এক কোটি ৭৫ লাখ টাকার কাজ ভাগাভাগি করে নিলেন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। বুধবার কুমিল্লা নগরের নানুয়া দিঘিরপাড়ের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হক ইন্টারন্যাশনালের নামে ওই কাজ বরাদ্দ নেন তাঁরা। এ নিয়ে দরপত্র না পাওয়া সরকারদলীয় নেতা-কর্মীরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

এদিকে হক ইন্টারন্যাশনালের নামে কাজ বরাদ্দ হলেও কাজগুলো করবেন বরুড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মনিরুজ্জামান বাবুল, বরুড়া শহীদ স্মৃতি সরকারি কলেজের ছাত্রলীগ থেকে নির্বাচিত সাবেক সহসভাপতি (ভিপি) আবদুল মান্নান এবং বরুড়া পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও পৌর আওয়ামী লীগের সদস্য আলমগীর হোসেন আলম।

বরুড়া পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ হাসিবুল ইসলাম জানান, বরুড়া পৌরসভার ২০১১-১২ অর্থবছরে বিশ্ব ব্যাংকের সহযোগিতায় ২ দশমিক ১৭ কিলোমিটার সড়ক পাথর দিয়ে ঢালাইয়ের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। তিনটি অংশের ওই কাজের দরপত্র বিক্রি শুরু হয় ২৮ জুলাই। গত মঙ্গলবার বিকেল তিনটা ৩০ মিনিট পর্যন্ত দরপত্র বিক্রি করা হয়। গতকাল বেলা ১১টায় দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ছিল। বেলা একটায় দরপত্র খুলে দেখা যায়, মাত্র তিনটি আবেদন জমা পড়েছে। এতে সর্বনিম্ন দরদাতা হক ইন্টারন্যাশনালের আবেদনটি প্রাথমিকভাবে গ্রহণ করা হয়। মূল্যায়ন কমিটির বৈঠকের পর চূড়ান্তভাবে ওই কাজের অনুমোদন দেওয়া হবে। এসব কাজ আগামী ছয় মাসের মধ্যে শেষ করার কথা রয়েছে।

বরুড়া পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ওই কাজের ১ দশমিক ২৫ কিলোমিটার বরুড়া পৌরসভা থেকে কালিঙ্গাপাড়া, পৌরসভার হাজিবাড়ি সড়কের ৩০৫ মিটার এবং ভাউকসার সড়ক থেকে বরুড়া সুন্নিয়া মাদ্রাসা পর্যন্ত ৬১৭ মিটার অংশ রয়েছে। তিন নেতার মধ্যে ওই কাজগুলো ভাগ করে দেওয়া হয়েছে।

বরুড়া উপজেলা প্রকৌশল দপ্তরের হিসাবরক্ষক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের এখানে মাত্র দুটি দরপত্র বিক্রি হয়েছে।’ এত কম দরপত্র বিক্রি হওয়ার কারণ কী এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। এদিকে বরুড়া পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ হাসিবুল ইসলাম বলেন, ‘কয়টি দরপত্র বিক্রি হয়েছে, তা আমি জানি না। আমরা মাত্র তিনটি দরপত্র জমা পেয়েছি। বেশি দরপত্র কেনা হলে বরুড়া পৌরসভা প্রচুর পরিমাণ রাজস্ব পেত।’

স্থানীয় ঠিকাদাররা দাবি করেছেন, এত বড় কাজে কমপক্ষে ১৫০টি দরপত্র বিক্রি হতো। প্রতিটি দরপত্রের দাম পাঁচ হাজার টাকা করে নির্ধারণ করা আছে। সবাই দরপত্রে অংশ নিতে পারলে পৌরসভার রাজস্ব আয় হতো কমপক্ষে সাড়ে সাত লাখ টাকা।

জানতে চাইলে বরুড়া পৌরসভার মেয়র জসিম উদ্দিন পাটওয়ারী বলেন, ‘স্থানীয় এমপি মহোদয়ের নির্দেশে কাজগুলো ভাগ করে দেওয়া হয়। বিরোধী দলের মেয়র হিসেবে আমি তো কিছু করতে পারি না। দরপত্র বেশি বিক্রি হলে পৌরসভা লাভবান হতো।’

কুমিল্লা-৮ (বরুড়া ও সদর দক্ষিণের একাংশ) আসনের সাংসদ নাছিমুল আলম চৌধুরীর সঙ্গে গতকাল বিকেলে মুঠোফোনে কয়েক দফা যোগাযোগ করেও তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।





Check Also

কুমিল্লায় তিন গৃহহীন নতুন ঘর পেল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ– কুমিল্লা সদর উপজেলায় গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে ৪নং আমড়াতলী ইউনিয়নের গৃহহীন নুরজাহান বেগম, ...

Leave a Reply