মহাসড়কে চোরাই চক্র সক্রিয় : কাভার্ডভ্যান থেকে রসুন চুরির সময় চৌদ্দগ্রামে আটক ৬

জামাল উদ্দিন স্বপন:

পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সক্রিয় হয়ে উঠেছে পণ্য ও পণ্যবাহী গাড়ি চোরাই চক্র। গত এক সপ্তাহে মহাসড়কের বিভিন্ন জায়গায় চাল বাহী ট্রাকসহ ১৩ টি গাড়ি চুরি ও ছিনতাই হয়েছে। কতিপয় অসাধু ট্রাক-কাভার্ডভ্যান মালিক, চালক ও পুলিশদের যোগসাজশে এসব পণ্য ও পণ্যবাহী গাড়ি চুরি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ট্রান্সপোর্ট মালিক সমিতি ও ব্যবসায়ীরা। অপরদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে মহাসড়কের কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ঢাকাগামী বিদেশী উন্নত মানের রসুন ভর্তি একটি কাভার্ডভ্যানে চালকের যোগসাজশে রসুন চুরির সময় চালকসহ চোরাই চক্রের ৬ সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ।

চৌদ্দগ্রাম থানা সুত্রে জানা গেছে, গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে চট্টগ্রাম বন্ধর থেকে এমবি কার্গো সার্ভিসের একটি কাভার্ডভ্যান (চট্টমেট্রো-ট-১১-৩০৩৮) ৭’শ ১৪ বস্তা বিদেশী রসুন ভর্তি করে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা করে। পথিমধ্যে চালকের যোগসাজশে চৌদ্দগ্রামের সাতঘড়িয়া এলাকায় চোরাই চক্রের একটি দল ১৬ বস্তা রসুন অপর একটি কাভার্ডভ্যানে করে চট্টগ্রাম পাঠিয়ে দেয়। আরো ১৪ বস্তা রসুন চুরির জন্য কাভার্ডভ্যানের ভিতরে ঢুকে বস্তায় ভর্তি করার সময় চৌদ্দগ্রাম থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই আবদুল্লাহ আল মাহফুজ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চৌদ্দগ্রাম বাজারে কাভার্ডভ্যানটি আটক করে। এসময় উৎসুক জনতার ভীড়ের মধ্যে পুলিশ কাভার্ডভ্যানটি তল¬াশী চালিয়ে রসুন চুরির সময় ৫ সদস্যসহ ৬ জনকে আটক করে। আটককৃতরা হলো- কাভার্ডভ্যান চালক ফেনী জেলার দাগুনভূঞা থানার নয়নপুর গ্রামের অহিদুর রহমানের ছেলে মাহবুব, চোরাই চক্রের সদস্য ভোলা সদরের মুলারচর গ্রামের আবদুল মালেকের ছেলে শাহজাহান, লাল মোহন থানার চরবতুয়া গ্রামের আমিন হোসেনের ছেলে মফিজুল ইসলাম প্রকাশ আকবর, কক্সবাজারের রামু থানার নয়াপাড়া গ্রামের মৃত ছালে আহমদের ছেলে নুরুল ইসলাম মানিক, নেত্রকোনা জেলার মহোনগঞ্জ থানার পাবই গ্রামের সাইদুল হকের ছেলে এনামুল হক শিপন, বাগেরহাটের মংলা থানার কুমারখালী গ্রামের হাবিবুর রহমান হাওলাদারের ছেলে নাছির উদ্দিন। আটককৃতরা জানায়, তাদের সাথের একটি গ্রুপ ওই কাভার্ডভ্যান থেকে ১৬ বস্তা রসুন চুরি করে চট্টগ্রাম চলে যায়। তারা আরো ১৪ বস্তা চুরির সময় পুলিশ তাদের আটক করে।

এব্যাপারে চট্টগ্রাম ট্রান্সপোর্ট ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি আল্লহাজ্ব নুরুল বাহার বলেন, মহাসড়কে পণ্য চুরি ও ছিনতাই এখন নিত্য দিনের ঘটনা। পুলিশ চোরাই চক্রের সদস্যদের আটক করলেও মূলহোতাদের গ্রেফতার না করায় পণ্য চুরি বাড়ছেই। কতিপয় অসাধু মালিক ও চালক এ চক্রের সাথে জড়িত রয়েছে। মূলহোতাদের গ্রেফতার করে মহাসড়কে পণ্য ছিনতাই রোধে আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহবান জানান তিনি।

চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুল হাসান জানান, পণ্য ও পণ্যবাহী ট্রাক চোরাই চক্রের ৬ সদস্যকে আটক করা হয়েছে। তবে মূলহোতাদের গ্রেফতার করতে পারলে মহাসড়কে পণ্যবাহী ট্রাক ও পণ্য ছিনতাই অনেকটা কমে আসবে।





Check Also

কুমিল্লায় তিন গৃহহীন নতুন ঘর পেল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ– কুমিল্লা সদর উপজেলায় গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে ৪নং আমড়াতলী ইউনিয়নের গৃহহীন নুরজাহান বেগম, ...

Leave a Reply