চৌদ্দগ্রামে ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বারসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা

চৌদ্দগ্রাম সংবাদদাতা :
চৌদ্দগ্রামে এক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও দুই মেম্বারসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে এক শিল্পপতির ভাইয়ের ২০ লাখ টাকার চাঁদাবাজী ও মারধরের অভিযোগে দায়েরকৃত একটি মামলায় গ্রেফতার এড়াতে গত ৬ দিন ধরে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন অভিযুক্তরা। ফলে ওই ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে এসেছে। ভোগান্তিতে পড়েছে এলাকার সাধারণ জনগণ। এলাকাবাসীর দাবি মাদক ব্যবসায়ীদের উৎসাহিত করতে চেয়ারম্যান-মেম্বারদের বিরুদ্ধে এ মামলা দায়ের করা হয়েছে।

জানা গেছে, উপজেলার উজিরপুর ইউনিয়নের ভারত সীমান্তবর্তী কোমারডোগা গ্রামের আলী আহাম্মদের ছেলে অহিদ মিয়া দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় মাদক ব্যবসা করে আসছে। পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে ওই গ্রামের লোকজন অহিদ মিয়াকে মাদক ব্যবসা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেও কোন প্রতিকার পায়নি। পরবর্তীতে গত ১২ আগস্ট (শুক্রবার) গ্রামের লোকজন অহিদকে মারধর করে।

এসময় অহিদও কয়েকজনকে ব্যাপক মারধর করে আহত করে। খবর পেয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম বিষয়টি ওই ওয়ার্ডের ইউপি মেম্বার বাছেদ মিয়াকে দায়িত্ব দিয়ে রাতেই তা মিমাংসা করা হয়। কিন্তুপরদিন শনিবার দুপুরে বিষয়টি নিয়ে মাদক ব্যবসায়ী অহিদ তার আত্নীয় বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি ও ড্রাগন গ্র“পের মালিক শিল্পপতি মোস্তফা গোলাম কুদ্দুসের ছোট ভাই মোস্তফা গোলাম ইয়াহিয়া লিটনসহ কয়েকজনকে নিয়ে স্থানীয় ইউপি কার্যালয়ে গিয়ে চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম ও মেম্বার বাছেদ মিয়ার কথা কাটা-কাটির একপর্যায়ে তারা চেয়ারম্যান ও মেম্বারকে মারধর করে। পরবর্তীতে চেয়ারম্যানসহ অপর মেম্বাররাও এক জোট হয়ে মোস্তফা গোলাম ইয়াহিয়া লিটনকে মারধর করে আটক রাখে।

এসময় খবর পেয়ে মোস্তফা গোলাম ইয়াহিয়া লিটনের আতœীয়-স্বজনসহ তাদের লোকজন ইউপি কার্যালয়ে তাকে উদ্ধার করতে গেলে চেয়ারম্যান পক্ষের লোকজনের সাথে সংঘর্ষ বাঁধে। এসময় উভয় পক্ষের সংঘর্ষে চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম, তার ভাই খোরশেদ আলম, মেম্বার বাছেদ মিয়া, মোস্তফা গোলাম ইয়াহিয়া লিটনসহ ১০ আহত হয়। পরে স্থানীয় মিয়া বাজারের ব্যবসায়ীদের দোকান-পাট বন্ধ করে দেয়। খবর পেয়ে চৌদ্দগ্রাম থানার এসআই অলক বড়-য়ার নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশ পরদিন রোববার সকালে উভয় পক্ষকে থানায় ডেকে আপস-মিমাংসার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। কিন্তু একটি প্রভাবশালী মহলের ইন্দনে রোববার বিকালে মোস্তফা গোলাম ইয়াহিয়া লিটন বাদী হয়ে চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলামকে প্রধান আসামি করে ইউপি মেম্বার বাছেদ মিয়া, আক্তার হোসেন ও চেয়ারম্যানের ভাই তাজুল ইসলাম খোরশেদসহ পাঁচ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরো ১০/১৫ জনের বিরুদ্ধে চৌদ্দগ্রাম থানায় চাঁদাবাজী ও মারধরের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম নির্বাচন চলাকালীন মোস্তফা গোলাম ইয়াহিয়া লিটনের নিকট ২০ লাখ টাকা চাঁদাদাবি করেন। দাবিকৃত চাঁদা দিতে লিটন অস্বীকৃতি জানালে ঘটনার দিন চেয়ারম্যান তাকে খবর দিয়ে ইউপি কার্যালয়ে এনে আবারও ২০ লাখ টাকা চাঁদাদাবি করে। এতেও লিটন অপারগতা প্রকাশ করলে উল্লেখিত আসামিরাসহ তাকে বেঁধে রেখে মারধর করে।

এ বিষয়ে চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও পলাতক থাকায় তা সম্ভব হয়নি এবং ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়।

এদিকে সরজমিনে ইউপি কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, মামলার হওয়ার পর থেকে পুলিশি গ্রেফতার এড়াতে চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম পালিয়ে বেড়ানোর কারণে ওই ইউনিয়নে সার্বিক কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে এসেছে। ইউনিয়নের জনগণ বিভিন্ন প্রয়োজনে ইউপি কার্যালয়ে গিয়ে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে। এতে জনগণের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।

এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চৌদ্দগ্রাম থানার এসআই অলক বড়-য়া জানান, মামলাটি নিয়ে আমরা বড় বিপাকে পড়েছি। এর থেকে আর বেশি কিছু মন্তব্য করতে তিনি রাজি হননি।




Check Also

কুমিল্লায় তিন গৃহহীন নতুন ঘর পেল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ– কুমিল্লা সদর উপজেলায় গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে ৪নং আমড়াতলী ইউনিয়নের গৃহহীন নুরজাহান বেগম, ...

Leave a Reply