এর নাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া-কুমিল্লা মহাসড়ক

লিটন চৌধুরী.ব্রাহ্মণবাড়িয়াঃ-

বড় বড় গর্ত আর খানা খন্দ। নড়বড়ে ব্রীজ, কোথাও ব্রীজের গুড়ায় ফাঁটল। নানা জোড়াতালি সড়কজুড়ে। এটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-কুমিলা মহাসড়ক।

ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ককে সংযোগকারী গুরম্নত্বপূর্ণ এই সড়কটির এ চিত্র নতুন নয়। বছরের পর বছর ধরেই দুর্ভোগ আর দুর্দশা সয়ে মানুষ আর যানবাহন চলছে এ সড়ক দিয়ে। সড়কের কোনো কোনো স্থান হয়ে উঠেছে মৃত্যুফাঁদ।

গত ৫০ বছরেও উলেখযোগ্য কোনো উন্নয়ন হয়নি এ সড়কে। অথচ এই সময়ে সড়কে যানবাহনের চাপ বেড়েছে, বেড়েছে গুরুত্ব। আগে সিলেট থেকে ঢাকা, কুমিলা ও চট্টগ্রাম এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে চট্টগ্রাম ও কুমিলা যাতায়াত করত অল্পসংখ্যক বাস, ট্রাক। এখন বৃহত্তর সিলেট ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া ছাড়াও কিশোরগঞ্জ ও ময়মনসিংহ থেকে শত শত যাত্রীবাহী বাস চলাচল করছে এ রোড দিয়ে।

পূর্বাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটিতে নানা কারণেই গাড়ির চাপ এখন অত্যাধিক। সিলেট থেকে ঢাকা বা ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যাওয়ার বিকল্প সড়ক বলতে এটিই। ঢাকা-চট্টগ্রাম সড়ক কোনো কারণে বন্ধ হলে চলাচলের বিকল্প পথ যেমন এটি তেমনি আবার সিলেট থেকে ঢাকা যেতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পরে কোনো সমস্যা হলে এ সড়কটিই একমাত্র বিকল্প পথ হয়ে উঠে।

স্থানীয় সড়ক বিভাগ থেকে প্রাপ্ত এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১৫ হাজারেরও বেশি যানবাহন চলাচল করে। আর এ সড়ক দিয়ে চলাচল করে ১০ হাজারেরও বেশি যানবাহন। তারপরও বেহাল এ সড়ক। নজর নেই কারোরই। প্রকল্পের পর প্রকল্প হয়েছে। কিন্তু কোনোটাই বাস্তবায়িত হয়নি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সড়ক বিভাগ সূত্র জানায়, ষাটের দশকে নির্মিত হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া- কুমিলা মহাসড়ক। সরাইলের বিশ্বরোড মোড় থেকে কুমিলা ময়নামতি পর্যন্ত সড়কটির দৈর্ঘ্য ৮২ কিলোমিটার। এর মধ্যে কসবার কালামুড়া পর্যন্ত ৪২ কিলোমিটার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অংশ। এই অংশের অবস্থাই সবচেয়ে খারাপ। যানবাহন চলাচল করছে ঝুঁকি নিয়ে। সূত্র আরো জানায়, সড়কটি প্রথমে নির্মাণ করেছিল জেলা পরিষদ। তখন একেক জায়গায় একেক রকম কাজ হয়েছিল। স্থানীয় সড়ক বিভাগ কর্মকর্তারা সড়কের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেছেন।

তাদের একজন জানিয়েছেন, সড়কের কোথাও ম্যাকাডমের নিচে সরাসরি মাটি। কোথাও ম্যাকাডমের নিচে বালি ও খোয়া মিশ্রিত সাব বেজ। শুধু বালি দিয়ে আরেকটি সাব বেজ করার কথা থাকলেও তা অনেক জায়গায় নেই। কোথাও রড দিয়ে ঢালাই দেওয়া। তাছাড়া সড়কটি ফ্ল্যাড লেভেলের কাছাকাছি। এটি কমপক্ষে ৩ ফুট উঁচু করতে হবে। সড়কের প্রশস্থতাও কম। সড়ক বিভাগের ঐ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ২০০৮ সালে এডিপির বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীর আওতায় সড়কটির নির্মাণ কাজ হওয়ার কথা ছিল। তখন কয়েকটি ব্রীজ, কালভার্ট হওয়ার পর তা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে আরেকটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল। নানা প্রক্রিয়া শেষে টেন্ডার হওয়ার মুহুর্তে তাও বন্ধ হয়ে যায়।

এখন সড়কের বিভিন্ন স্থানে কয়েকটি ব্রীজ, কালভার্ট নির্মাণের কাজ ছাড়া এ সড়ক উন্নয়নের আর কোনো কাজ নেই। সূত্র জানায়, জেলায় সড়ক বিভাগের জন্য বছরে দেড় দু’কোটি বা তারও বেশি যে বরাদ্দ আসে এর অর্ধেকের বেশি খরচ হয় এ সড়ক সংস্কারে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নামমাত্র গাতা-গর্ত ভরাট করে এর বেশিরভাগ অর্থই লুপাট করা হয়। কাজের কাজ কিছুই হয় না। দুদিন যেতে না যেতেই সড়ক আবার ভাঙ্গাচুরা চেহারায় ফিরে আসে। এ ব্যাপারে সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ জাহাঙ্গীর আলম এর সঙ্গে কথা বলার জন্য বৃহস্পতিবার তার অফিসে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। জানানো হয় তিনি ঢাকায় আছেন।

মৃত্যুফাঁদ তন্তর বাসষ্ট্যান্ড ঃ এ সড়কের তন্তর বাসষ্ট্যান্ডটি পরিণত হয়েছে মৃত্যুফাঁদে। বড় বড় গর্ত আর খানাখন্দে এখানে সড়কের রূপ হয়েছে ভয়ংকর। তন্তর বাসষ্ট্যান্ডের দু’পাশেই বাজার, দোকানপাট। এপার-ওপারে মানুষের যাতায়াতে প্রায়শই ঘটছে দুর্ঘটনা। স্কুলগামী ছাত্রছাত্রীরা রাস্তা পার হতে গিয়ে শিকার হচ্ছে দূর্ঘটনার। এখানে গত কয়েক বছরে হতাহতের ঘটনা আছে বহু। স্থানীয় আনিছুর রহমান, শাফিজুল হক, সাইফুর রহমান জানান, গতি নিয়ন্ত্রক না থাকায় প্রায়ই ঘটছে দূর্ঘটনা। তাদের দেওয়া তথ্য মতে, এখানে দূর্ঘটনার শিকার হয়ে পঙ্গু হয়েছে স্কুল ছাত্রী ফেরদৌস আরা, করিম মিয়া ও সাইমন সরকার। মারা গেছে জুলহাস, আতিক হাসান, আরিফুল ইসলাম।





Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply