দুই শিশুসহ মায়ের আত্মাহুতি বিজয়নগরে বাবার বাড়িতে মাতম

লিটন চৌধুরী.ব্রাহ্মণবাড়িয়াঃ-
জেলার বিজয়নগর উপজেলার সেজামোড়া গ্রামে ফেরদৌসী আক্তারের বাবার বাড়ি। ওই বাড়িতে সোমবার সকাল থেকেই চলছে শোকের মাতম। নিহতের মা-বাবা আত্মীয় এমনটি পাড়াপ্রতিবেশিরাও শোকে ক্ষোভে স্তব্দ।

বুধবার বিকেলে সেজামোড়া গ্রামের ওই বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে নিহতের বৃদ্ধা মা রাবিয়া খাতুন বিলাপ করছেন- ভালো ঘর দেইখ্যা মাইডারে বিয়া দিছিলাম, নাতি, নাতনিডির লাইগ্‌গা ঈদের জামা-কাপড় কিনামম কইছি- তোরা আমার মাইয়া আর নাতি-নাতনিদের আইন্না দে। এমন সব কথা বলে বার বার মোর্ছা যাচ্ছেন তিনি। ¯^Rb ও পাড়া পরশী কেউই তাকে শান্তনা দিয়ে থামাতে পারছেন না।

বাড়িতে জড়ো হওয়া পড়শীরাও শোকে স্তব্দ । সবার চোখ ছল ছল করছে, কারো কারো ঝরছে পানি। এইডা কেমন বিচার, চাইরডা ছেলে মেয়েসহ মাইয়াডারে গ্রাম ছাড়া করার ফতোয়া। দেশের আইন কি মইরা গেছে। সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে এমন করেই কথা বলছিলেন গ্রামের জাহেরা বেগম (৪৮)।

তাঁর মতো আরো অনেকে কাছে এসে বললেন, ভাই, স্যার যারার কারণে বালা এই মাইডা চাইরটা পোলা, মাইয়া লইয়া টেরেইনের নিচে ঝাপ দিছে আমরা হেরার বিচার চাই। হেই সমাজ নষ্টকারীরার ফাঁসি চাই।

ফেরদৌসীর বাবা ফজলুর রহমান সোমবার থেকেই নির্বাক। শুধু ফেল ফেল করে তাকিয়ে থাকেন। পরিচয় দিয়ে কথা বলতে গেলে তিনি বলেন, এখন আর কি হইব রে বাবা। আমার তো সব শেষ। আমি বিচার চাই। হাই কোর্ট আপনার মেয়ের ঘটনায় হাই কোর্ট নয়জনকে তলব করেছে। এই ঘটনার বিচার হবে। আমি জানি না বাবা। কেউ বিচার না করলে আমি আল্লাহর দরবারে নালিশ করুম। এমন দিন যেন কোন মা বাবারে দেখতে না হয়।

সোমবার ভোরে হবিগঞ্জের শাহপুর রেলস্টেশনের কাছাকাছি এলাকায় ফেরদৌসী আক্তার চার শিশু সন্তান নিয়ে চলন্ত ট্রেনের নিচে ঝাপ দেন। এতে দুই সন্তানসহ ওই মায়ের মৃত্যু হয়। অপর দুই সন্তান ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ফেরদৌসীর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পর্কের অভিযোগ এনে এক সালিসে তাঁকে কান ধরে ওঠবস করান গ্রামের মাতব্বরেরা। এ অপমান সইতে না পেরে সোমবার ভোরে চার শিশু সন্তানসহ তিনি চলন্ত ট্রেনের নিচে ঝাপ দেন।

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার সুলতানপুর গ্রামের আবদুল আজিজ মিয়ার ছোট ছেলে জিলন মিয়ার সাথে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার মুকুন্দপুর সেজামোড়ার গ্রামের ফজলুর রহমানের মেয়ে ফেরদৌসী আক্তারের প্রায় ১৪ বছর আগে বিয়ে হয়।

ফেরদৌসী আক্তারের ছোট ভাই মো. মিয়া মুঠোফোনে রাতে বলেন, হবিগঞ্জে তার বোন ও ভাগ্নে ভাগ্নির ময়নাতদন্ত শেষে তিনি তাদের লাশ বুঝে নিয়েছেন। রাত আটটার পর এদের লাশ বিজয়নগরের সেজামোড়ায় পৌঁছাছে। এখানেই তাদের দাফন করা হবে। তিনি মাধবপুর থানায় এই ঘটনায় মামলা করার জন্য আছেন বলে জানান।





Check Also

আশুগঞ্জে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মরদেহ উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :– ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মো. হারুন মিয়া (৪৫) নামে দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামির ...

Leave a Reply