তিতাসে ইউএনওকে প্রত্যাহারের দাবিতে স্মারক লিপি প্রদান

নাজমুল করিম ফারুক, তিতাস :
কুমিল্লা জেলার তিতাস উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বিভিন্ন প্রকল্পের সভাপতিগণ উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে তাহার বর্তমান কর্মস্থল থেকে প্রত্যাহারের দাবীতে উপজেলা চেয়ারম্যানের মাধ্যমে জেলা প্রশাসকের নিকট আজ ১৬ আগষ্ট মঙ্গলবার স্মারক লিপি প্রদান করেন।

স্মারক লিপি থেকে জানা যায়, তিতাস উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের উন্নয়নমূলক প্রকল্পের অনুকূলে আসা বরাদ্দ তোলার পূর্ব স্বাক্ষকের জন্য প্রকল্প সভাপতি/চেয়ারম্যান ইউএনও নিকট স্বাক্ষকের জন্য গেলে তিনি ‘পরে আসেন’ বলে ঘুরায় এবং শতকরা হারে টাকা দাবী করেন। বিভিন্ন প্রকল্পের সভাপতি/চেয়ারম্যানগণ উক্ত বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য এম.কে আনোয়ারকে অবহিত করলে তিনি স্বাক্ষর দেয়ার জন্য ইউএনওকে মোবাইল করলে ইউএনও আরো ক্ষিপ্ত হয়। বিশেষ করে প্রতিটি খারিজা থেকে ইউএনও স্বাক্ষর বাবদ নগদ ১ হাজার টাকা নেয়ার কথা উল্লেখ করে স্বারক লিপিতে বিভিন্ন প্রকল্পের ৮০ জন সভাপতি/ চেয়ারম্যান স্বাক্ষর করে উপজেলা চেয়ারম্যানের মাধ্যমে জেলা প্রশাসকের নিকট প্রদান করেন।

এদিকে উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সাথে ইউএনও অসৌজন্যমূলক আচরণ ও সর্বক্ষণ অকর্থ্য ভাষায় গালমন্দ করা এবং সড়ক দুর্ঘটনায় তাহার যে ২০/২৫ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে তা বিভিন্ন প্রকল্প, সভা-সেমিনারের অনুকূলে আসা বরাদ্দ থেকে জোগার করে দিতে তাগিদ দেন এবং না দিলে তাদের দেখে নেওয়ার হুমকি দেয় মর্মে স্মারক লিপি প্রদান করে তাহার বর্তমান কর্মস্থল থেকে প্রত্যাহারের দাবী জানান। স্বারক লিপিতে আরো জানা যায়, এ বিষয়েও স্থানীয় সংসদ সদস্য এম.কে আনোয়ার, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যানদ্বয়কে অবহিত করলে ইউএনও আরো ক্ষিপ্ত হয় যার পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৭ জুলাই কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ কর্ম বিরতি রেখে পরিষদের সভাকক্ষে এক প্রতিবাদ সভা ও ইউএনওকে প্রত্যাহারের দাবি জানান। তখন উপস্থিত ভাইস চেয়ারম্যান মুন্সি মজিবুর রহমান পরিষদের অন্যান্য সদস্যদের সমন্বয়ে সুষ্ঠু ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিলে তারা কর্মস্থলে ফিরে যান। এ ব্যাপারে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পারভেজ হোসেন সরকার বলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে ইতিপূর্বে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এখন দু’টি স্মারক লিপি আমার কাছে জমা পড়েছে আমি তা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবো। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে আমি জেলা প্রশাসকের নিকট লিখিত অভিযোগ করলে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আবুল বাসার আমার বিরুদ্ধে এ সমস্ত কাজ করছেন যার কোন ভিত্তি নেই।





Check Also

কুমিল্লায় তিন গৃহহীন নতুন ঘর পেল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ– কুমিল্লা সদর উপজেলায় গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে ৪নং আমড়াতলী ইউনিয়নের গৃহহীন নুরজাহান বেগম, ...

Leave a Reply