আশুগঞ্জে অবিরাম বর্ষণে ৫ শতাধীক চাতাল কল বন্ধ :১০ কোটি টাকা ক্ষতির আশংকা

লিটন চৌধুরী.ব্রাহ্মণবাড়িয়াঃ-

গত ১০ দিনের টানা ভারী বর্ষনে দেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলের বৃহত্তম ধান-চালর মোকাম ব্রাহ্মনবাড়িয়ার আশুগঞ্জ ও সরাইল উপজেলার প্রায় ৫ শতাধিক চাতালকল বন্ধ হয়ে গেছে। রোদ না থাকায় এসব চাতালে হাজার হাজার মণ সেদ্ধ ধান পঁচে নষ্ট হচ্ছে। এতে প্রায় ১০ কোটি টাকা ক্ষতির আশংকা করছেন চাতাল মালিকরা। ইতিমধ্যেএর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ধান চালের বাজারে। কাজ না থাকায় চাতাল শ্রমিকরা অগ্রিম শ্রম বিক্রি করে অর্ধেক খেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে ১০দিন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আকাশে সূর্যের দেখা মেলেনি। অবিরাম বৃষ্টিতে আশুগঞ্জ ও সরাইল উপজেলার চাতালকল গুলো বন্ধ থাকায় ধান চালের ব্যবসায় নেমে এসেছে স্থবিরতা। চাতালকলের ভেজা ও সেদ্ধ ধান রোদ না থাকায় শুকানো যাচ্ছে না। প্রবল বর্ষণের কারণে এসব ধান পলিথিন ও টুকরি দিয়ে ঢেকে রেখেও শেষ রক্ষা হচ্ছে না। হাউজের পানিতে ভিজিয়ে রাখা এসব ধানে শেকড় গজিয়ে ওঠায় চাতাল মালিকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে। আর এ অবস্থায় কম পূজির ব্যবসায়ীরা চোখে অন্ধকার দেখছেন। এখন কি করবেন ভেবে পাচ্ছেন না অনেকেই।আরো কয়েকদিন বৃষ্টি থাকলে প্রায় ১০ কোটি টাকার ধান নষ্ট হওয়ার আশংকা করছেন চাতাল মালিকরা। চাতালকল গুলোতে ধান শুকিয়ে চাল উৎপাদন করতে না পারায় বাজারে চালের সরবরাহও যেমন কমে গেছে তেমনি দামও বাড়তে শুরু করেছে।অন্যদিকে চাতালকল গুলোতে কাজ না থাকায় অত্র এলাকার প্রায় ২০ হাজার শ্রমিক অর্থ কষ্টে মানবেতর জীবনযাপন করছে। এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে না পারলে আগামী বছর অধিকাংশ চাতাল বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

চাতাল শ্রমিক মোঃ এনামুল জানান গত ১০ দিন যাবত কাজ নেই বেতনও নেই। মালিকে কাছে অগ্রিম শ্রম বিক্রি করে কোন রকম সংসার চালাচ্ছি।স্ত্রী সন্তানদের ঠিক মত খেতে দিতে পারছি না। ধান পচে ব্যাপক লোকসান হওয়ায় মালিকের কাছে সুখ দুখের কথা বলতে পারছি না। চাতাল মালিক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক মোঃ জাকির হোসেন জানান প্রত্যেকের চাতালকলে এক হাজার থেকে দেড় হাজার মন ধান রয়েছে। এর মধ্যে অর্ধেক ধান সিদ্ব করা আর অর্ধেক ধান হাউজে ভিজিয়ে রাখা হয়েছে। রোদ না থাকায় সিদ্ব ধান পচে নষ্ট হচ্ছে আর হাউজের ধানে চারা জেগে উঠেছে। এসব ধানে আর আশানারুপ চাল পাওয়া যাবে না। ফলে প্রতিটি চাতাল কলে দেড় থেকে ২ লাখ টাকা করে লোকসান হবে। এতে খুচরা চালের বাজারেও প্রভাব পড়তে পারে।

চাতাল কল মালিক সমিতি সভাপতি হাজী মোঃ রফিকুল ইসলাম জানায় সরাইল ও আশুগঞ্জ উপজেলায় ৫ শতাধীক চাতালকল রয়েছে। অবিরাম বৃষ্টির কারণে প্রায় ৫ কোটি টাকার ধান নষ্ট হয়ে গছে। এভাবে আর কয়েক দিন চলতে থাকলে চাতাল মালিকদের ক্ষতির পরিমান ১০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। এর প্রভাবে আগামী বছর অনেক চাতাল বন্ধ হয়ে যেতে পারে।





Check Also

আশুগঞ্জে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মরদেহ উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :– ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মো. হারুন মিয়া (৪৫) নামে দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামির ...

Leave a Reply