বিজয়নগরে পানির নিচে পুতে রাখা তরুনের লাশ উদ্ধার


লিটন চৌধুরী.ব্রাহ্মণবাড়িয়াঃ-


বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার পর হাত-পা বাঁশের সাথে বেঁধে বিলের পানির নিচে পুতে রাখা হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার চরইসলামপুর গ্রামের তরুন ব্যবসায়ী আল-আমিনকে (৩২)। গত সাত আগস্ট রাতে এ ঘটনা ঘটে।

ওই দিন রাতেই পরিবারের লোকজন তাঁর খোঁজ না পেয়ে বিজয়নগর থানায় অভিযোগ দিলে অপহরণ মামলা হয়। ঘটনার সাতদিন পর রোববার রাত দশটার দিকে বাড়ির পাশের বিল থেকে ওই ব্যবসায়ীর গলিত লাশ উদ্ধার করে বিজয়নগর থানার পুলিশ। সোমবার সকালে পাঠানো হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতাল মর্গে।

বিজয়নগর থানার পুলিশ সূত্রে জানাগেছে, নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে, তাঁর হাত পা বাঁধা ছিলো। পানির নিচ থেকে ফুলে ওই লাশ ভেসে উঠে।

থানার পুলিশ ও নিহতের পরিবারের লোকজনের সাথে কথা বলে জানাগেছে, একই গ্রামের আক্তার মিয়া ওরফে ইন্তা মিয়াসহ (৩৫) কয়েকজনের সাথে বাঁশের ব্যবসা করতো নিহত আল-আমিন। ব্যবসার লাভের টাকার ভাগ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। গত সাত আগস্ট বাড়ি থেকে আল-আমিনকে আক্তার মিয়া ডেকে নেয় তাঁর বাড়িতে। সেখানে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

হত্যার পর ওই রাতেই আল-আমিনের লাশের হাত পা বাঁধা হয়। পরে একটি বাঁশের সাথে তাঁর লাশ বেঁধে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ২০০ গজ দুরে বিলের পানির নিচে পুতে ফেলা হয়। সেখানে কচুরী পানার জট ছিলো। ঘটনার সাতদিন পর লাশ ফুলে ভেসে উঠলে আশ-পাশের এলাকায় গন্ধ ছড়িয়ে পরে। এই খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। নিহতের পরিবারের লোকজন ত সনাক্ত করে।

পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত একই গ্রামের ইয়াছিন মিয়া স্ত্রী আওলিয়া বেগমকে (৩৮) আটক করেছে। কারা কিভাবে এই ঘটনা ঘটিয়েছে এই বিষয়ে তিনি পুলিশের কাছে তথ্য দিয়েছেন।

বিজয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তদন্ত মো. মোস্তাফিজ বলেন, আক্তার মিয়ার বাড়ি গিয়ে আল-আমিন নিখোঁজ হয়েছিলো। এই ঘটনায় ওই ব্যক্তিসহ এগার জনের বিরুদ্ধে থানায় যে অপহরণ মামলা রয়েছে তা হত্যা মামলায় রূপ নিয়েছে। আসামীদের ধরতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।





Check Also

আশুগঞ্জে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মরদেহ উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :– ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মো. হারুন মিয়া (৪৫) নামে দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামির ...

Leave a Reply