তিতাসে যুবকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি

নাজমুল করিম ফারুক, তিতাস :

তিতাসের বালুয়াকান্দি গ্রামের আঃ খালেক এর পুত্র সাহবুদ্দিনের লাশ বাড়ীতে পৌছলে স্বজনরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে এবং সমস্ত গ্রামে শোকের ছায়া নেমে আসে।
কুমিল্লার তিতাস উপজেলার বালুকয়াকান্দি গ্রামের আঃ খালেকের পুত্র সাহবুদ্দিন (২২) একই গ্রামের হানিফ মেম্বারের নারিকেল গাছ থেকে পড়ে গতকাল ১২ আগষ্ট মৃত্যুবরণ করলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং উক্ত ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে ইতিমধ্যে একটি গ্র“প মরিয়া হয়ে ওঠেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গেলে নিহতের পিতা আঃ খালেক জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় বালুয়াকান্দি গ্রামের আঃ খালেকের পুত্র সাহবুদ্দিনকে একই গ্রামের হানিফ মেম্বারের স্ত্রী হেলানী বেগম নারিকেল পারার জন্য জোর করে গাছে উঠায়। গাছ থেকে নীচে পড়ে মারাত্মকভাবে আহত হলে মুমূর্ষ অবস্থায় শাহবুদ্দিনকে প্রথম দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে আশংকজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজে নেয়া হয়। গতকাল সকাল পৌনে ৯টায় সাহবুদ্দিন মারা যায়। সাহবুদ্দিনের বড় ভাই ফারুক হোসেন জানান, আমার ভাই নাইকেল গাছ থেকে পড়ার পর আমাদেরকে হানিফ মেম্বার ও তার স্ত্রী জানায়নি। প্রায় দেড় ঘন্টা পর পাশের ঘরের ইউসুফ দেখতে পায় আমার ভাইকে হানিফ মেম্বার, তার স্ত্রী হেলানী বেগম ও মেয়ে লাকী আক্তার চুল ধরে টানছে, শরীরের বিভিন্ন অংশে কিল-থাপ্পর এবং বুকে চাপ দিচ্ছে এবং মাথায় পানি ঢালছে। তখন খবর পেয়ে আমরা হানিফ মেম্বারের বাড়ী গিয়ে তাৎক্ষণিক ডাক্তারের কাছে নেয়ার জন্য বললে হানিফ মেম্বার আমাকে মারধর করে।

এদিকে বালুয়াকান্দি গ্রামের অনেকেই নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, যদি কেউ না দেখতো তাহলে হানিফ মেম্বার ও তার স্ত্রী সাহবুদ্দিনকে গুম করে ফেলতো। এলাকাবাসী প্রশ্ন তুলেন- সাহবুদ্দিনকে যদি গুমই না করতো তাহলে তারা তাৎক্ষণিক বিষয়টি সকলকে জানালেন না কেন? বিষয়টিকে ধামাচাপা দিতে নবনির্বাচিত মেম্বার মোঃ বাচ্চু মিয়া স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ ও প্রশাসনের সাথে রফাদফা করতেছেন এবং মামলা না করার জন্য সাহবুদ্দিনের পরিবারকে চাপ দিচ্ছেন বলে নিহতের পরিবার অভিযোগ করেন। তবে এ ঘটনায় সাহবুদ্দিনের পিতা খালেক মিয়া থানায় মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন। থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নূরুল আলম তালুকদারের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, এ পর্যন্ত কেউ আমাদের সাথে উক্ত ব্যাপারে যোগাযোগ করেনি তবে কেউ অভিযোগ দিলে এ ব্যাপারে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব। উল্লেখ্য, আঃ খালেকের দুই ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে সাহবুদ্দিন দ্বিতীয়। সে গত দেড় মাস পূর্বে বিয়ে করেন।





Check Also

কুমিল্লায় তিন গৃহহীন নতুন ঘর পেল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ– কুমিল্লা সদর উপজেলায় গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে ৪নং আমড়াতলী ইউনিয়নের গৃহহীন নুরজাহান বেগম, ...

Leave a Reply