মুরাদনগরে জনস্বার্থে নির্মিত একটি রাস্তা নিয়ে আবারো সংঘর্ষ আহত-১০

মোঃ শরিফুল আলম চৌধূরী, মুরাদনগর (কুমিল্লা) :
মুরাদনগর উপজেলার কাজিয়াতল গ্রামে জনস্বার্থে নির্মীত একটি কাঁচা রাস্তা নিয়ে বিরোধের জের ধরে একটি সন্ত্রাসী গ্রুপের হামলায় অন্ততঃ ১০ব্যক্তি মারাত্মক আহত হয়েছেন। আহতদের কুমেক হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তী করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার রাত ১০টায় কাজিয়াতল গ্রামের ‘রহিম-রহমান উচ্চবিদ্যালয়’ মসজিদ থেকে তারাবির নামাজ শেষে মোঃ হারুন মিয়া(৩৬), মোস্তফা কামাল(৩২), শহীদমিয়া(৪৮), নুরুমিয়া(৪৮), আলআমীন(২২)সহ বেশ কয়েকজন বাড়ি ফেরার পথে পূর্ব থেকে উৎপেতে থাকা মোঃ খোরশেদ আলম(৫০)র নেতৃত্বে,- সফিকুল ইসলাম মূন্সী(৪৮), মোঃ নজরুল ইসলাম (৩৬), মোঃ গিয়াস উদ্দিন(৩৮), শহীদুল ইসলাম মূন্সী(৪৫), মোঃ রবিউল্লাহ(২৫) ফারুক আহমেদ(২৮)সহ প্রায় ১৫/২০ জনের একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসীদল কোঁচ্, টেটা, দা, লাঠিসহ বিভিন্ন মরনাস্ত্র নিয়ে বর্বরোচিত ভাবে অতর্কীত হামলা চালায়।

এসময় টেটা এবং এলোপাথারী কুপের আঘাতে মারাত্মক আহত মোঃ হারুন মিয়া(৩৬) ও মোস্তফা কামাল(৩২)কে আশংকা জনক অবস্থায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং শহীদমিয়া (৪৮), নুরুমিয়া(৪৮), আলআমীন(২২), ফেরদৌসী আক্তার(২৪), জাহাঙ্গীর আলম(৩৮), শাহআলম(৪৫), শাহিন মিয়া(২৬)সহ অন্যান্য আহতদের দেবীদ্বার ও মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে।

হামলা চলাকালে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং আকামত আলীর বাড়ির আঙ্গীনা রক্তে লাল হয়ে যায়। সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনলেও গ্রামবাসীরা ওই সন্ত্রাসী হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীতে এখন একাট্টা হয়ে আছে। সন্ত্রাসীরা গ্রাম ছেড়ে পালালেও যে কোন মুহুর্তে বড়ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা করছেন স্থানীয়রা।

রমুজা বেগম(৭০) ও তাহেরা বেগম(৪২) জানান, বিকেল থেকেই আকামত আলীর বাড়ির সামনে একদল লোক কোঁচ্, টেটা, দা, লাঠিসহ বিভিন্ন অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে হামলার জন্য তৈরী হচ্ছিল। কেউ আমার কথার গুরুত্ব দেয়নি। রক্তের ফিনকি দেখে ভোর রাতে সেহেরী খেতে পারি নাই।

স্থানীয়রা আরো জানান, গ্রামবাসীর সেচ্ছাশ্রমে এবং নিজেদের টাকায় প্রায় ৬মাস পূর্বে প্রায় ১০০গজ দৈর্ঘ্য এবং ১০ফুট প্রসস্ত “পাইঞ্জত আলীর বাড়ি থেকে সুপার মার্কেট সংযোগ রাস্তা” নামে একটি রাস্তা নির্মান করেছে। রাস্তাটি নির্মানে প্রায় দু’লক্ষাধীক টাকা ব্যয় হয়েছে। ওই সময় বন্দবস্ত আনা যৌথ মালিকানাধিন ১নং খাস খতিয়ান ভূক্ত ৭৫ শতাংশ জায়গার এক পাশ দিয়ে রাস্তা নির্মানে জমির মালিকানা দাবীদারদের পক্ষ থেকে কোন আপত্তি না থাকলেও গ্রামের খোরশেদ আলমসহ কিছু লোক ঈর্ষান্বিত হয়ে উঠে। একাধিকবার বহিরাগত ভাড়াটে সন্ত্রাসী দিয়ে রাস্তা কেটে ফেলা, তারকাটার বেড়া দিয়ে জনগনের চলাচলে বাঁধা সৃষ্টি করা, হামলা-মামলাসহ বিভিন্নভাবে হয়রানী করে আসলেও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষপাতমূলক আচরনে সন্ত্রাসীরা একের পর এক ঘটনা ঘটিয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয় ১৯নং দারোরা ইউপি’র সাবেক চেয়ারম্যান কাজী আব্দুল লতীফ জানান, জনস্বার্থে নির্মিত একটুকরু রাস্তা ও এর পেছনের মানুষগুলোর বিবেক ও আচরন নিয়ে ভাবতে অবাক লাগছে।

কবির আহমেদ জানান, রাস্তাটি জনস্বার্থে গ্রামবাসীদের নিয়ে নিজেদের শ্রমে এবং অর্থব্যয়ে নির্মান করেছি।একটি সুবিধাভোগী মহল বহিরাগত ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের দিয়ে রাস্তাটি কাটা’ই নয়, ওরা আমাদের হয়রানী করতে নুরজাহান বেগমকে বাদী করে লুটপাট ভাংচুর ও শ্লীলতাহানীর অভিযোগ এনে আদালতে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে।

হারুন অররশীদ জানান, আমাদের গ্রামটি থানা সদর থেকে প্রায় ১৫কিলোমিটার দূরে, পুলিশ আসতে প্রায় দেড়-দু’ঘন্টা সময় লাগে, ভাড়াটে সন্ত্রাসী দিয়ে যে কোন সময় আমাদের উপর হামলা এবং জীবন নাশের চেষ্টা চালাতে পারে, তাই দলবদ্ধ হয়ে আমাদের চলতে হয়, সন্ধ্যার আগেই আমাদের ঘরে ফিরতে হয়। আমরা সন্ত্রাসীদের কাছে জিম্মি। ৭জুলাইর ঘটনায় থানায় অভিযোগ জমা দিলেও টাকার অভাবে মামলা রেকোর্ড হয়নি। মায়া আপাও ১০ হাজার টাকা নিয়ে মামলা রেকোর্ড করেননি। পুলিশের নিরব ভ’মিকায় আবারো আর একটি ঘটনা ঘটাল।

প্রতিপক্ষের খোরশেদ আলম জানান, বৃহস্পতিবার রাতে হামলার ঘটনায় আমি জড়িত ছিলামনা, তবে ঘটনা দূর থেকে পর্যবেক্ষন করেছি। আহতদের হাসপাতালে দেখতে এসেছি।

মুরাদনগর থানার অফিসার ইনচার্জ(সার্বিক) মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, একটুকরো রাস্তা নিয়ে এলাকার লোকজন হামলা-মামলায় জড়িয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে প্রতিপক্ষের হামলার ঘটনায় কেউ মামলা করতে আসেনি, তবে হামলার সাথে জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।





Check Also

করিমপুর মাদরাসায় বোখারী শরীফের খতম ও দোয়া

মো. হাবিবুর রহমান :– কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার করিমপুর জামিয়া দারুল উলূম মুহিউস্ সুন্নাহ মাদরাসায় ১৪৪০ ...

Leave a Reply