পৃথিবীর সবচেয়ে খাটো মহিলা হতে পারেন তাছলিমা বেগম

মোঃ শরিফুল আলম চৌধুরী,মুরাদনগর(কুমিল্লার প্রতিনিধি) :

বয়সে ছোট দুই খালার মাঝে খাটো মহিলা তাছলিমা
এক লিটার কোকের বোতলের ন্যায় উচ্চতা নিয়ে জন্মগ্রহণ করেছিল বাংলাদেশের এক শিশু। নাম তাছলিমা। ক্ষুদ্রাকৃতির এই শিশুটির আকৃতি নিয়ে প্রথম থেকেই চিন্তায় পড়ে যায় তার বাবা-মা। তার পর একটু একটু করে যখন সে হাটতে শুরু করে তখনই তার দৈহিক বৃদ্ধিও বন্ধ হয়ে যায়। তার দৈহিক বৃদ্ধির জন্য ডাক্তার দেখানো হয়, কিন্তু কিছুতেই কিছু কাজ হয়নি। এ প্রতিবেদন প্রকাশের যখন প্রস্তুতি চলছিল তাছলিমা পা রাখল ১৪ বছর বয়সে। উচ্চতা মাত্র ৩২ ইঞ্চি, ওজন ৮ কেজি। এতেই হইচই পড়ে যায় কুমিল্লা জুড়ে, লোকমুখে আলোচনা চলছে তাছলিমাই বিশ্বের সবচেয়ে খাটো মহিলা। তাছলিমার বর্তমানে তার বাবা-মা বড় দুই বোন এক ভাইয়ের সাথে বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলার কাজিয়াতল গ্রামে বসবাস করেন। কাজিয়াতল (দঃ) পাড়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার চতুর্থ শ্রেনীর ছাত্রী তাছলিমা। স্মরণশক্তি অত্যন্ত প্রখর তাছলিমার। সে মুখস্ত বিদ্যায় পারদর্শী। তাছলিমাকে নিয়ে তার বাবা-মার অনেক গর্ব। তারা বলেন, তাছলিমা জন্মের পূর্বে তাদের পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থা ছিল খুবই খারাপ এবং ক্রমশ খারাপের দিকে যাচ্ছিল। কিন্তু তাছলিমা জন্মের পর তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়, এবং অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা বৃদ্ধি পায়।

তাছলিমার বাবা আবুল কাশেম বলেন, ২ বছর বয়স থেকে তাছলিমার শারিরীক বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যায়। এর পরও তিনি বিশ্বাস করেন, তার কন্যা এ পৃথিবীর কেহ নন, বিশেষ একটা কিছু। তিনি বলেন, আমার কণ্যাকে বিশ্বের সবচেয়ে খাটো মানুষ অথবা খাটো মহিলা স্বীকৃতি দিলে আমরা আরও খুশি হব। তাছলিমা আমাদের পরিবারের সৌভাগ্যের জাদুকাঠি। তার সৎ মা নাজমা বেগম বলেন, তাছলিমার বয়স যখন দুই বছর তখন তার আপন মা মারা গেলে পরে আমি তার মায়ের দায়িত্ব পালন করি। তাছলিমাকে নিয়ে আমরা গর্ববোধ করি। তাছলিমার প্রিয় খাদ্র ভাজা মাছ ও পান্তা ভাত। তাছলিমা তার অনুভূতি প্রকাশ করেন এভাবে- আমি ছোট, কিন্তু আমি একজন মানুষ। আমি লেখাপড়া করতে চাই। ২০১০ সালে বিশ্বের খাটো মানুষ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল নেপালের খগেন্দ্র খাপা নগরের নাম। খগেন্দ্রের উচ্চতা ২৬ ইঞ্চি। সে তাছলিমার চেয়ে ছয় ইঞ্চি বেশি লম্বা।

মাদ্রাসার শিক্ষকরা জানান, তাছলিমা ৫-৬ বছর বয়সেই ছেলেমেয়েদের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিয়েছে। সে মেধাবী। চমৎকার হাতের লিখা, পড়াশোনায়ও ভীষন মনোযোগী। চলাফেরা ও খেলাধূরা করে স্বাভাবিকভাবেই। সখ্য রয়েছে আশেপাশের মানুষের সঙ্গে।

একই গ্রামের আবদুল হান্নান সম্পর্কে তাছলিমার বড় দুলাভাই এ প্রতিবেদককে জানান, তাছলিমার একটি প্রতিবন্ধী ভাতা হলে তার লেখাপড়ার খরচ কিছুটা হলেও লাঘব হবে। তিনি আরও জানান, সমাজের বিত্তশালী পরিবাররা তাছলিমার লেখাপড়ার জন্য সহযোগীতার হাত বাড়ালে তার লেখাপড়ার পথ আরও সুগম হবে।





Check Also

দেবিদ্বারের সাবেক চেয়ারম্যান করোনা আক্রান্ত হয়ে ঢাকায় মৃত্যু: কঠোর নিরাপত্তায় গ্রামের বাড়িতে লাশ দাফন

দেবিদ্বার প্রতিনিধিঃ কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ভাণী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান (৫৫) করোনায় আক্রান্ত ...

Leave a Reply