দেবিদ্বারে কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত পৌর ভবন এখন পরিত্যাক্ত

মোঃ ফখরুল ইসলাম সাগর,দেবিদ্বার(কুমিল্লা) :

দেবিদ্বারের গুনাইঘরে কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত পরিত্যাক্ত পৌরভবন
১৫ টি ইউনিয়ন ও ১ টি পৌরসভাকে নিয়ে গঠিত দেবিদ্বার উপজেলা। আর এই উপজেলাকে উন্নত করার লক্ষে দেবিদ্বারের সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব ইন্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর উদ্যেগে ২০০২ সালে জোট সরকারের আমলে ১ কোটি ৫ লাখ টাকা ব্যায়ে উপজেলা সদরের অদুরে গুনাইঘর এলাকায় নির্মিত করা হয় দেবিদ্বার পৌর ভবন। এই পৌরসভায় দির্ঘদিন যাবত ৭৩ টি পদ শূন্য থাকায় পৌর কার্যক্রম ব্যহত এবং অনিয়ম, স্বজনপ্রিতী, দূর্নীতি ও নানা সমস্যায় জর্জরীত দেবিদ্বার পৌরসভা।

জানা যায়,২০০২ সালের ৪ সেপ্টেম্বর দেবিদ্বার পৌরসভার গ্যাজেটে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরএ কই বছরের ১৩ই সেপ্টম্বর পৌরসভার কার্যক্রম শুরু হয়। কিন্তু এই উপজেলাকে উন্নত করার লক্ষ্যে পৌরসভার কার্যক্রম চালু হলেও দির্ঘদিন ধরে উপজেলা সদর ও পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় উন্নয়নের ছোয়া লাগেনি।

উপজেলা গেইট থেকে নিউমার্কেট বাসষ্টেসন পর্যন্ত রাস্তার দু’পাশের ড্রেনগুলো সময় মত পরিস্কার ও পানি নিস্কাসনের ব্যবস্থা না থাকায় একটু বৃষ্টি হলে ড্রেনের ময়লা পানি রাস্তায় উপরে উঠে আসে। ডাস্টবিন গুলো সময়মত পরিস্কার না করায় ময়লার পচাঁ দূর্গন্ধে রাস্তা দিয়ে যাতায়াতে সমস্যা হয়। এবং চান্দিনা রোড থেকে হিলফুল ফুজুল আদর্শ স্কুল পর্যন্ত আধাকিলোমিটার রাস্তায় পানি জমে থেকে রাস্তাটিতে জনসাধারনের চলা চলে অনুপযোগি হয়ে পড়ছে।

এখন পর্যন্ত পৌর এলাকার পোনরা – হোসেনপুর সংযোগ রাস্তাটি পাকা করাতো দুরের কথা একমুঠো মাটিও ফেলা হয়নি । রাস্তার অর্ধেক অংশের মাটি পুকুরে ধ্বসে পড়ায় একটি খালি রিক্সা চালকদের টেনে নিতে কষ্ট হয়। ওই ভাঙ্গা রস্তায় ভারি যানবাহন নিয়ে চলাচল করতে না পারায় এলাকার জনসাধারনের যাতায়াতের ব্যপক সমস্যা হচ্ছে।এই মৌসুমে খানাখন্দে ও রাস্তার কিছু অংশ নিচু থাকায় পানি নিস্কাসনের ব্যবস্থা না থাকায় ডুবে থাকে।

প্রাকৃতিক দূর্যোগও অগ্নী নির্বাপনের জন্য নদী-নালা-পুকুর খাল-বিল ডোবাও পানি নিস্কাসনের জন্য ব্রীজ কালভাটের গতিপথ পরিবর্তন এবং ভরাট না করার জন্য সরকারের নির্দেষ থাকলেও পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে পুকুর-ডোবা ভরাট করে বাসা বাড়ি নির্মান করায় জলাবদ্বতার সৃস্টি হচ্ছে। অথচ পৌর কতৃপক্ষের সেদিকে কোন দৃষ্টি নেই। এলাকায় রাস্তা গুলোতে নেই কোন বৈদ্যুতিক বাতি, অন্ধকারের কারনে বাড়ছে দিন দিন চুরি ডাকাতি।

পৌর এলাকায় নেই কোন নির্দিষ্ট জবাই খানা। উপজেলা প্রানীসম্পদ কর্মকর্তার সিল ছাড়াই রোগাক্রান্ত গরু জবাই করে দিনে রাতে মাংস বিক্রি করছে বিক্রেতারা । গরু জবাইয়ের নিয়ম নীতি থাকলেও কাগজে কলমে তা সিমাবদ্ধ। সেদিকেও ডাক্তারের কোন দৃষ্টি নেই। নির্দিষ্ট জবাই খানা না থাকার কারনে বারেরা বাসষ্টেশন আড়ং এর রাস্তার পাশে ফেলে রাখা হয় গরু জবাইএর বর্জগুলো।

এর দূর গন্ধ বাতাসে মিশে রোগ জীবানুর সৃষ্টি হচ্ছে ও পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, এবং পৌর এলাকাগু লোতে নেই কোন নিরাপদ পানির ও গ্যাসের ব্যবস্থা, অতচ পৌর বাসী কোন সুযোগ সুবিধা না পেয়ে প্রতিবছর পৌর কর, ভ্যট, ট্যাক্স পরিশোধ করতে হচ্ছে।

সারেজমিনে খবর নিয়ে জানা যায় ২০০৯ সালের তত্যাবধায়ক সরকারের সময় পৌর বাসীদের নাগরীক সেবার সুবিদার্থে জনগনের যাতায়তের সমস্যার কারনে অস্থায়ী ভাবে মাজেদা আহসান মুন্সী পৌর পাঠাগারে দেবিদ্বার পৌরসভার কার্যক্রম শুরু করে এবং কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত পৌর ভবন ব্যবহার না করায় এখন গরু ছাগলের চারন ভুমি ও বখাটেদের আড্ডা স্থলে পরিনত হয়েছে।

নষ্ঠ হয়ে যাচ্ছে লাখ লাখ টাকার প্রয়োজনীয় আসবাব পত্র। যদি ও পৌর বাসীদের কম সময়ে সেবা পাওয়ার জন্য উপজেলা গেইট পাঠাগার ভবনে কার্যক্রম চালু হলে ও নির্বাচিত পৌর চেয়ারম্যান না থাকায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ পৌর প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করেন ।

তবে প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কার্যক্রমে তিনি ব্যাস্থ থাকায় পৌর কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা প্রয়োজনীয় নাগরীক সনদ, জন্ম সনদ, ট্রেড লাইসেন্স সহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের জন্য বারবার যাতায়তে বাড়তি অর্থ ব্যায় হচ্ছে। এতে পৌর বাসীদের পোহাতে হচ্ছে চরম দূর্ভোগ।

অপর দিকে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী সহ সকল স্তরের জনসাধারন সকাল ও বিকালে অবসরে পাঠাগারে বই , প্রত্রিকা পড়ে সময় কাটাতেন কিন্তু পঠাগারটি বন্ধ হয়ে যওয়ায় এলাকার বিভিন্ন রাস্তার চা স্টলে এবং স্কুল-কলেজ রোডে আড্ডা দিয়ে মূল্যবান সময় নস্ট করছে, প্রকারান্তরে বাড়ছে ইভটিজিং সহ নানা প্রকারের অপরাধ ।

উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান এ কে এম সফিকুল ইসলাম জানান, কে বা কাহারা কবে পাঠাগার চালু করবে তা আমি জানিনা। তবে আমি মনে করি ছাত্র ছাত্রীদের জ্ঞ্যান অর্জন ও উজ্জল ভভিষ্যতের জন্য পাঠাগারটি অতি শীঘ্রই চালু করা দরকার। দেবিদ্বার উপজেলার সুশিল সমাজ ও অভিভাবকরা ছাত্র/ছাত্রীদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার লক্ষে অতি শিগ্রই পৌর সভার কার্যক্রম অন্য স্থানে স্থানাস্থরীত করে পাঠাগারটি উন্মক্ত করার জন্য কতৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করছেন।

এব্যপারে পৌর সচিব মোঃ শহিদুল ইসলাম জানান, রাজনৈতিক কারনে গুনাইঘরে নির্মিত পৌরভবন অফিসটি ব্যাবহার করা হচ্ছেনা। তাই পৌর পাঠাগারেই পৌরসভার অস্থায়ী কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। নির্বাচন মামলায় জটিলতার কারনে প্রায় ৯ বছর ধরে ঝুলছে পৌরসভার ভাগ্যও । নির্বাচিত পৌর চেয়ারম্যান না থাকায় বিশ্ব ব্যাংক, এশিয়া উন্নয় ব্যাংক সহ দাতা সংস্থাগুলো অবকাঠামো উন্নয়নে এগিয়ে না আসার কারনে উন্নয়নমূলক কাজ হচ্ছে না।

Check Also

নিউইয়র্কের চিকিৎসক ফেরদৌস খন্দকারে দেওয়া খাদ্য পাচ্ছে দেবিদ্বারের ১ হাজার পরিবার

দেবিদ্বার প্রতিনিধিঃ করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে লকডাউনের কারনে কর্ম হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছে দেশের হাজার হাজার ...

Leave a Reply