চৌদ্দগ্রামে মৎস্য বীজ খামার হতে সরকারী বরাদ্ধ আত্নসাতের অভিযোগ

জামাল উদ্দিন স্বপন:
চৌদ্দগ্রামে সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা বিল্লাল হোসেনের বিরুদ্ধে উম্মুক্ত জলাশয়ে দেশী মাছের পোনা অবমুক্ত না করেই সরকারী বরাদ্ধকৃত অর্থ তুলে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া উপজেলার প্রায় এক’শ কোটি টাকা মূল্যের বিশালাকার মৎস্য খামারে সরকারী লোকবল ও অর্থ বিনিয়োগ করে বাৎসরিক আয় মাত্র দেড় লাখ টাকা বলে জানা গেছে। অভিযোগে জানা গেছে, এবার উপজেলার উম্মুক্ত জলাশয়ে দেশী পোনা মাছ অবমুক্ত করার জন্যে ৩৯ হাজার সরকারী বরাদ্ধ আসে।

বরাদ্ধকৃত অর্থ দিয়ে মাছের পোনা অবমুক্ত না করেই ওই মৎস্য কর্মকর্তা উপজেলার গুনবতী ইউনিয়নের পরিকোট গ্রামের সোনালী মৎস্য চাষ প্রকল্পের সালাউদ্দিন রাসেল, দশবাহা মৎস চাষ প্রকল্পের মোঃ মোশারফ হোসেন, ফুলের নাওড়ী মৎস চাষ প্রকল্পের মতিউর রহমানের নামে দরপত্রের দাতা দেখিয়ে স্পট কোটেশানের মাধ্যমে সোনালী মৎস্য চাষ প্রকল্পের সালাউদ্দিন রাসেলকে সর্বনিু দরদাতা হিসেবে চিহ্নিত করে। প্রতি কেজি ৬’শ টাকা দরে ৬৫ কেজি মাছের পোনা গত ১২ জুন গুনবতী ইউনিয়নের বড়খাঁইয়া জলাশয়ে অবমুক্ত করা হয়েছে বলে ভূয়া কাগজপত্র তৈরি করে উল্লেখিত বরাদ্ধ ৩০ জুনের মধ্যে উত্তোলন করেন।

এবিষয়ে ওই মৎস্য কর্মকর্তা বিল্লাল হোসেন প্রথমে উক্ত টাকা দিয়ে ওই জলাশয়ে পোনা মাছ অবমুক্তের কথা বললেও পরক্ষণে বলেন, ৩০ জুনের পর উক্ত টাকা তামাদি হয়ে যাবে। এজন্যে কাগজপত্র তৈরি করে তা ব্যাংক থেকে উত্তোলন পূর্বক নিজ হেফাজতে রেখে দেন এবং বিষয়টি তিনি অন্যায় বলেও স্বীকার করেন। পরবর্তীতে এ টাকা দিয়ে তিনি মাছের পোনা অবমুক্ত করবেন বলে জানান। অপরদিকে উপজেলা সদরে ৮ একর সম্পত্তির উপর মৎস্য বীজ খামারে রয়েছে ৮টি পুকুর। খামারের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের টিএ, ডিএ এবং মাছের খাদ্য ক্রয়সহ সরকারী বরাদ্ধ প্রতি বছর আসে প্রায় লক্ষাধিক টাকা।

এ মৎস্য খামারের ৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন ভাতাও চালাচ্ছে সরকার। সরকারের উক্ত সম্পত্তির আনুমানিক মূল্য এক’শ কোটি টাকা। তার উপর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাসিক মোটা অংকের বেতন এবং প্রতি বছর পোনা উৎপাদনের নামে সরকারী বরাদ্ধ লক্ষাধিক টাকা। এত মোটা অংকের অর্থ বিনিয়োগের পর এবার ওই মৎস্য খামারে সরকারী টার্গেট অর্থ্যাৎ সরকারকে বাৎসরিক আয় দেয়া হবে মাত্র ১ লাখ ৪৫ হাজার ৫’শ টাকা।

মৎস্য কর্মকর্তা বিল্লাল হোসেন জানালেন, এর আগে গত অর্থ বছরে সরকারি টার্গেট ছিল ১ লাখ ৪৩ হাজার টাকা মাত্র। সুত্রের প্রশ্ন হচ্ছে, যেখানে সরকারের এক’শ কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে এবং ওই খামারে নিয়োজিত ৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সরকার মাসে মাসে বেতন দিয়ে পুষছে এবং প্রতি বছর পোনা উৎপাদনে একটা বরাদ্ধ দিচ্ছে। সেখানে সরকারের বাৎসরিক আয় ১লাখ ৪৫ হাজার ৫’শ টাকা হলে বিষয়টি হাস্যকর বটে।





Check Also

কুমিল্লায় তিন গৃহহীন নতুন ঘর পেল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ– কুমিল্লা সদর উপজেলায় গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে ৪নং আমড়াতলী ইউনিয়নের গৃহহীন নুরজাহান বেগম, ...

Leave a Reply