নাঙ্গলকোটে ডাকাতদের ছোঁরা বোমার আঘাতে ক্ষত-বিক্ষত প্রবাসী নজরুল :সৌদি আরবে আর ফেরা হলো না

জামাল উদ্দিন স্বপন:

সরেজমিনে জানা যায়, নাঙ্গলকোটের জোড্ডা ইউনিয়নের করপাতি দুয়ারীপাড়া গ্রামের নুরুল আমিনের বাড়িতে গত ১২ জুলাই গভীর রাতে একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল অস্ত্র-অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হানা দেয়। ডাকাতরা প্রথমে নুরুল আমিনের ঘরের সামনের ঘরগুলোর দরজায় আবস্থান করে অস্ত্রের অভ দেখিয়ে তাদেরকে ঘর থেকে বের হতে বাধা প্রদান করে। পরে ২৫/৩০ জনের ডাকাত দলের বড় অংশটি নুরুল আমিনের ঘরের কলাপসিবল গেটের তালা ভেঙ্গে ঘরে ঢুকে ৩ টি রুমের দরজা ভেঙ্গে ফেলেন। তারা প্রথমে নুরুল আমিনের আত্মীয় বেলীকে মারধর এবং গলায় চুরি ধরে গলার চেইন নিয়ে নেয়। পরে নুরুল আমিনের ঘরে প্রবেশ করে তার মাথা এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে রড দিয়ে পিটিয়ে আহত করলে তার প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। এ সময় ডাকাত দল নুরুল আমিনের স্ত্রী ছেনোয়ারা বেগমের (৫০) হাতে রড দিয়ে পিটিয়ে গলায় চুরি ধরে এবং হত্যার উদ্দেশ্যে গলা টিপে ধরেন। তাদের আত্মচিৎকারে পাশের রুম থেকে ছেলে নজরুল ইসলাম এগিয়ে আসলে ডাকাত দল তাকে মারধর করতে থাকেন। তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে ডাকাত দল তাদের কাছে রক্ষিত একটি বোমা নজরুল ইসলামের মুখের মধ্যে নিক্ষেপ করলে, তার সম্পূর্ণ মুখ বোমার ¯িপ্রন্টারে ক্ষত-বিক্ষত হয়ে মুখ ঝলসে গিয়ে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। তাকে আশংকাজনক অবস্থায় প্রথমে কুমিল্লার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় চক্ষু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ডাক্তাররা বাম চোখ অপারেশন করে বোমার ৯টি স্প্রিন্টার বের করেন। বর্তমানে ডাক্তাররা তার বাম চোখে দেখার আশা ছেয়ে দিয়েছেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা যায়। বাম চোখ ভালো না হওয়ায় ডান চোখ অপারেশন করা সম্ভব হচ্ছেনা। বর্তমানে নজরুলকে বাম চোখ, মুখ, গলা এবং কানের মধ্যে ¯িপ্রন্টারের যন্ত্রণা নিয়ে হাসপাতালের বেডে তীব্র যন্ত্রনায় কাতরাতে হচ্ছে। ডাকাত দল নজরুলের মায়ের কান এবং গলা থেকে প্রায় ৪ ভরি স্বর্ণালংকার এবং তার পিতা থেকে নগদ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে যায়। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় প্রায় ২ লক্ষাধিক টাকা বলে জানা যায়।

জানা যায়, ডাকাত দল গত ১ মাস থেকে ২ বার কলাপসিবল গেটের তালা কেটে ৪টি মোবাইল সেট নিয়ে যায়। তৃতীয়বার এসে তারা বড়ধরণের ডাকাতি সংঘটিত করে এবং নজরুলকে বোমা মেরে প্রাণে মেরে ফেলার চেষ্টা করে। পাবিবার থেকে বলা হচ্ছে, পূর্বপরিকল্পিতভাবে ডাকাতির নাম করে নজরুলকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। তার কারণ হিসেবে তারা বলছেন, তারা ৪ ভরি স্বর্ণালংকার এবং নগদ ৫০ হাজার টাকা ছাড়া অন্য কোন জিনিসপত্র নেন নাই। ডাকাতিই যদি তাদের উদ্দেশ্য থাকে তাহলে তারা জিনিসপত্র নিয়ে চলে যাবেন। কিন্তু নজরুলের মুখে বোমা মারবেন কেন? জানা যায়, ডাকাতির রাতে সন্ধায় নজরুলদের বাড়ির পার্শ্বে পুকুর ঘাটে একই গ্রামের মীর হোসেনের ছেলে রিক্সাচালক মহিন (২০) অপরিচিত ৫/৬ জন লোক নিয়ে আড্ডা দেয়। যার ফলে মহিনকে সন্দেহজনকভাবে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

জানা যায়, নজরুল গত ৮ বছর পূর্বে জীবিকার সন্ধানে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদিআরব যান। ইতিমধ্যে নিজের একটা ভালো আবস্থানও তৈরী করেন। সে সৌদিআরবে গাড়ির মেকানিক হিসেবে কর্মরত আছেন। তার অন্য একভাইও তার সাথে অবস্থান করেন। গত ৬ মাস পূর্বে সে ছুটিতে বাড়ি আসেন। গত ১৮ জুলাই সোমবার তার সৌদিআরব ফেরার কথা রয়েছে। কিন্তু ডাকাতনামধারী অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের নির্মমতায় নজরুলের জীবন প্রদীপ নিভে যাবার অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু সৃষ্টিকর্তার অপার রহস্যে প্রাণে বেঁচে গেলেও তার ২টি চোখই অন্ধ হবার পথে রয়েছে। নজরুলের স্ত্রী, ১ সন্তান, পিতা, মাতা, ভাই, বোন আত্মীয়স্বজন এবং এলাকাবাসী তার অসুস্থতায় শষ্যাশায়ী। তারা ডাকাত নামধারী সন্ত্রাসীদের বিচারের দাবীতে বোমার আঘাতে ক্ষত-বিক্ষত নজরুলের ছবি দিয়ে পোষ্টার ছেপে নাঙ্গলকোটের সর্বত্র ছড়িয়ে দিয়েছে। প্রশাসনের নিকট ডাকাতদের গ্রেফতার করে বিচার চেয়েছেন। বোমার আঘাতে ক্ষত-বিক্ষত নজরুলের ছবিটি বিবেকবান মানুষদের নাড়া দিয়েছে। তারাও ডাকাতদের শাস্তি দাবী করেন।




Check Also

নাঙ্গলকোটে সম্মেলন ঘিরে বিভক্ত ছাত্রলীগ; বিক্ষোভ ভাংচুর, স্মারকলিপি প্রদান

  বারী উদ্দিন আহমেদ বাবর :– কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলা ছাত্রলীগের কাউন্সিল ও সম্মেলনকে ঘিরে দু’গ্রুপে ...

Leave a Reply