দেবিদ্বারে আতরের গন্ধে ২০স্কুল শিক্ষার্থী অসুস্থ্ : এলাকায় আতঙ্ক

মোঃফখরুল ইসলাম সাগর,দেবিদ্বার সংবাদদাতা :

দেবিদ্বার উপজেলার ‘বড়আলমপুর মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে’র প্রায় ২০শিক্ষার্থী আতরের গন্ধে অসুস্থ্য হয়ে পড়েছেন। স্কুল কর্তৃপক্ষ অসুস্থ্য অনুভবকারী ১০/১২শিক্ষার্থীকে বাড়িতে চলে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে মারাত্মক অসুস্থ্য নিলুফা আক্তার, আখী আক্তার, আসমা আক্তার, সুমি আক্তার, জোহরা বেগম, আখী বেগম, আকলিমা ও আলআমীনসহ ৮জনকে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি করিয়েছেন। অসুস্থ্য সবাই ওই স্কুলের পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী। এদের বয়স ১০-১১বছর। সুমি আক্তা ছাড়া সবার বাড়ি স্কুল সংলগ্ন বড়আলমপুর গ্রামে, সুমির বাড়ি ভিংলাবাড়ি গ্রামে। আহত শিক্ষার্থীদের, শ্বাসকষ্ট, জ্বর, হাত পা বাঁকা, বমি বমি ভাব এবং শরিরে কাপুনী দেখা দেয়ায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এউদ্ভট পরিস্থিতিতে কর্তৃপক্ষ স্কুল ছুটি ঘোষনা করেছেন।

স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জানান, পঞ্চম শ্রেণীর জুয়েল নামে এক শিক্ষার্থী একটি জানাযার অনুষ্ঠান থেকে আতর লাগিয়ে শ্রেণী কক্ষের ঢোকার পর ওই আতরের গন্ধে একে একে ছাত্রীরা অসুস্থ্য হতে থাকেন। প্রথমে শিক্ষকগন মনে করেন, ওই সুগন্ধি মেয়েদের জন্য অসয্যকর ছিল। বিকেল সাড়ে ৩টায় আলআমীন নামে আরো এক শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে নিয়ে আসার পর আরো বেশী আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। সংবাদ পেয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ সামসুল আলম বুধবার সন্ধ্যায় সাড়ে ৬ টায় উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে অসুস্থ্য শিক্ষার্থীদের দেখতে আসেন। এসময় তিনি জানান, শিক্ষার্থীরা আশংকামুক্ত। অতিরিক্ত গরম, মৃত্যুসংবাদ এবং আতরের গন্ধে মানুষিক বিক্রিয়ায় অসুস্থ্য হয়ে পড়েছিল।

আতর বহনকারী জুয়েল জানান, আমার পাশের বাড়ির শাহজাহান মিয়ার ১৮মাস বয়সী কণ্যা ‘মিম’ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাড়ির পাশের একটি পুকুরে ডুবে মারা যায়। বুধবার সকালে ওই নিহত শিশুর জানাযা ছিল। শ্রেণী কক্ষে ঢুকার পর মেয়ে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ্য হতে থাকে কিন্তু আমার কোন অসুবিধা হয়নি, জানাযার অনুষ্ঠানে ওই আতর লাগানো হয়েছিল। শ্রেণী কক্ষের শিক্ষক আব্দুর রব মিয়াজি জানান, আতরের গন্ধে ছাত্রীদের মধ্যে কাশি এবং বমির ভাব দেখতে পাই, কোন কোন ছাত্রীর হাত-পা বাঁকা হয়ে আসতে থাকে, কেউ কেউ শ্বাস কষ্ট অনুভব করতে থাকে, কারোর কারোর কাপুনি দেখা দেয়, শরীরের তাপ মাত্রা বেড়ে যেতে থাকে। দ্রুত তাদের হাসপাতালে নিয়ে যাই।

স্কুল প্রধান শিক্ষক মোঃ আমীর হোসেন জানান, দুপুর ১২টায় স্কুলের দ্বিতীয় সিফটের ক্লাশ শুরু হয়। শ্রেণী কক্ষের শিক্ষার্থী ছিল একশত পাঁচজন। এসময় একই শ্রেণীর জুয়েল পাশের বাড়ির একটি জানাযা অনুষ্ঠান থেকে সরা সরি শ্রণী কক্ষে ঢুকে পড়ে। তার মাথার টুপিতে এবং হাতে খুবই উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন সুগন্ধি মাখা ছিল। অসুস্থ্য অনুভবকারী কিছু শিক্ষার্থীকে বাড়িতে যেয়ে বিশ্রাম নেয়ার পরামর্শ দেই এবং ৭ছাত্রীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাই। বিকেলে আরো একজন ছাত্র অসুস্থ্য হলে সর্বমহলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে স্কুল ছুটি দিয়ে দেই।

কর্তব্যরত চিকিৎসক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে’র মেডিকেল অফিসার ডাঃ কামরুজ্জামান জানান, এটা মাস্ক পিপল হিষ্টিরিয়া এবং মনস্তাত্বিক রোগ, একজনের দেখা দেখি আর একজন অসুস্থ্য হয়ে পড়েন। ওই আতরের সুগন্ধি মেয়েদের জন্য অসহ্যকর ছিল। আতর ব্যাহারকারী ছাত্র জুয়েলকে ডেকে এনে তার মাথার টুপি এবং হাতে লাগানো সুগন্ধ পরিক্ষা করেছি, নিজেও শুকেছি, ওই ছাত্রের যেমন কিছু হয়নি আমার ও কিছু হয়নি। এতে আতঙ্কিত হবার কারন নেই, শ্বাস কষ্টের রুগীকে অক্সিজেন দেয়া হয়েছে, বাকীদের সেলাইনসহ চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে। বিকেলে আরো একজন ছেলে রুগী আসার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, এমূহুর্তে আমি ডিউটিতে নাই, এব্যাপারে কিছু বলতে পারছিনা।

দেবিদ্বার থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) তারেক মোহাম্মদ হান্নান জানান, গরমের মধ্যে পিটি শেষে শিক্ষার্থীরা ক্লান্ত হয়ে ক্লাশে ঢুকার পর জুয়েল নামে এক ছাত্র একটি আতরের সিসি থেকে সবার হাতে আতর লাগিয়ে দেয়, অতিরিক্ত গরমে এবং ক্লান্ত শিক্ষার্থীরা ওই সুগন্ধিটা সহ্যকরতে পারেনি। তবে ওই আতরে বিষাক্ত কিছু ছিলনা বলে চিকিৎসক জানিয়েছেন।





Check Also

নিউইয়র্কের চিকিৎসক ফেরদৌস খন্দকারে দেওয়া খাদ্য পাচ্ছে দেবিদ্বারের ১ হাজার পরিবার

দেবিদ্বার প্রতিনিধিঃ করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে লকডাউনের কারনে কর্ম হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছে দেশের হাজার হাজার ...

Leave a Reply