কুমিল্লার ময়নামতি রেশম শিল্প : ২০১০-১১ অর্থবছরে রাজস্ব আয় ৬ লক্ষ ৩৭ হাজার টাকা

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী,কুমিল্লাঃ

কুমিল্লার ময়নামতিতে অবস্থিত বস্ত্র মন্ত্রনালয় নিয়ন্ত্রিত ও বাংলাদেশ সিল্ক ফাউন্ডেশন পরিচালিত রেশম উৎপাদন ,গবেষনা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি রেশম চাষে সফলতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। এ রেশম শিল্প উৎপাদন আর গবেষনা কেন্দ্রটি ১৯৬২ সালে প্রায় ১৬ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত হয়। এ রেশম কেন্দ্রটি মাতৃ পিতৃ জাত সংরক্ষনেও ব্যাপক সফলতা অর্জন করেছে। বাংলাদেশ সিল্ক ফাউন্ডেশন কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ময়নামতি,ঝিনাইদহ এবং ঠাকুরগাও জেলায় অবস্থিত রেশম উৎপাদন, প্রশিক্ষণ ও গবেষনা কেন্দ্রগুলো পরিচালনা করছে।

ময়নামতির রেশম কেন্দ্রে জনবল সংকট নেই বলে কর্তৃপক্ষ জানায়। এ কেন্দ্রে জনবলের মধ্যে ৪ জন সরকারী আর কাজের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রতিদিন ৮/১০ জন নারী-পুরুষ শ্রমিক নিয়ে উৎপাদন কার্যক্রম চলছে। এ রেশম কেন্দ্রে দৈনিক মুজুরীর ভিত্তিতে ৮/১০ জন নারী পুরুষ তাদের জীবিকা নির্বাহ করছে। এ রেশম কেন্দ্রে যখন নতুন গাছ লাগানো হয় তখন ২৬/২৭ জন আর জমি খুড়ার সময় ১৪/১৫ জন নারী-পুরুষ শ্রমিক দৈনিক ৮ ঘন্টা হিসেবে জনপ্রতি ১৪০ টাকা মুজুরীর ভিত্তিতে কাজ করে। ময়নামতির এ রেশম কেন্দ্রের মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব আয় হবার পাশাপাশি প্রশিক্ষনের মাধ্যমে স্থানীয় শত শত লোককে স্বাবলম্বী হবার স্বপ্ন দেখাচ্ছে । প্রতি মাসে বিভিন্ন এনজিওর অধীনে প্রায় দুটি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে । এর মধ্যে একটি প্রশিক্ষণ ১৫ দিনের এবং আরেকটি ২১ দিনের। প্রতি বেইসে ২৫/২৬ জন নারীকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। এ প্রশিক্ষণে শুধু গ্রামের বা শহরের অশিক্ষিত ও স্বল্প শিক্ষিত নারীদেরকেই তুত চাষ ও পলু (রেশম কীট) সম্পর্কে হাতে-কলমে শিক্ষা দেয়া হয়। এ রেশম কেন্দ্রে বাৎসরিক ১২৫/১৫০ জন নারীকে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার লক্ষ্যমাত্রা থাকে বলে কর্তৃপক্ষ জানায়। এখানে স্বল্প পুঁজি বিনোয়োগ করে তুত গাছ ও রেশম কীট নিয়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগে রেশম উৎপাদনের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হবার বেশ সুযোগ রয়েছে।

কুমিল্লার ময়নামতি রেশম উৎপাদন গবেষনা কেন্দ্রে মাতৃ-পিতৃ জাত রেশম উৎপাদনের গবেষনার দিকে অধিক গুরুত্ব দেয়া হয় বলে কর্তৃপক্ষ জানায়। এ কেন্দ্রে ২৫টি উন্নত জাতের রেশম কীট রয়েছে, যার মাধ্যমে নারী – পুরুষ জাতের ক্রসের মাধ্যমে প্রজনন প্রক্রিয়ায় উন্নত জাতের রেশম ডিম ও বাচ্চা (রেশম কীট) উৎপাদন করে । ২৫টি উন্নত জাতের রেশম কীটের মধ্যে পিওর জাতের ১৪টি, দেশি ৬টি, বিদেশী ৮টি, হাইব্রিড ৯টি । এখানকার রেশম কীট দেশের বিভিন্ন শিল্প ইউনিটে বিশেষ করে ঝিনাইদহ, ঠাকুরগাও, আইআই আরডি (এনজিও), ব্র্যাক, কারিদাস ইত্যাদি স্থান ও এনজিওগুলোতে তাদের চাহিদা অনুযায়ী প্রেরণ করা হয়। এখানে গরমের দিনে উন্নত দেশী ও নিু দেশী, শীতের সময় উন্নত দেশী ও উন্নত বিদেশী এবং বর্ষার সময় উন্নত দেশী রেশম উৎপাদন করা হয়।

জানা যায়, বিন্দু আকৃতির ডিম, ডিম থেকে রেশম কীট আর এ রেশম কীট এ রেশম কেন্দ্রের ভিতর চাষকৃত তুত পাতা খেয়ে তৈরী হয় রেশম গুটি, আর রেশম গুটি থেকে তৈরি হয় মূল্যবান সুতা। এখানে একটি রেশম মথ থেকে ৪০০/৫০০ ডিম সংগ্রহ করা হচ্ছে। এখানে আগে একশ’ ডিমে মাত্র ২০/২৫ কেজি রেশম গুটি উৎপাদন হলেও জাত উৎপাদন ও গবেষনার মাধ্যমে বর্তমানে একশ’ ডিমে উৎপাদন হচ্ছে ৫০-৫৫ কেজি রেশম গুটি।

এ কেন্দ্রে ২০১০-১১ সালের অর্থ বছরে অর্থাৎ ২০১০ সালের জুলাই মাস থেকে ২০১১ সালের জুন মাস পর্যন্ত ময়নামতির এ কেন্দ্রে ৬ লক্ষ ৩৭ হাজার টাকা রাজস্ব আয় হয়েছে। ২০০৯-১০ অর্থবছরে ৫ লক্ষ ৫ হাজার ২৫২ টাকা এবং ২০০৮-০৯ অর্থবছরে প্রায় ৬ লাখ টাকার রাজস্ব আয় হয়েছে বলে জানা গেছে।

সিল্ক ফাউন্ডেশন এ রেশম কেন্দ্র পরিচালনার দায়িত্ব নেবার পর গবেষনার মাধ্যমে এবং রাজশাহী রেশম গবেষনা কেন্দ্র থেকে উন্নত জাতের তুত গাছ সংগ্রহ করার মাধ্যমে উৎপাদনে সফলতা পেয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। দেশে এবং বিদেশে রেশমী সুতার ব্যাপক চাহিদা থাকলেও অন্তহীন সমস্যায় বন্দী এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সরকারের আরো সূদূর প্রসারী পরিকল্পনা নেয়া উচিত বলে সংশ্লিষ্টরা অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

ময়নামতি রেশম প্রশিক্ষণ ও উৎপাদন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক মোঃ আবদুল মালেক জানান, এখানে রেশম উৎপাদনের পাশাপাশি প্রশিক্ষণ ও গবেষনায় গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এখানে তহবিল সংকট রয়েছে। তহবিল সংকট না থাকলে আমরা অনেকদূর এগিয়ে যাবো।




Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply