বাঞ্ছারামপুরে উদ্বোধনের আগেই মেঘনা গর্ভে চলে যাচ্ছে ফেরীঘাট ও সড়ক !

লিটন চৌধুরী.ব্রাহ্মণবাড়িয়াঃ-

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার কড়িকান্দি-আড়াইহাজারের বিষনন্দী ফেরীঘাটের উদ্বোদনের আগেই ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে নির্মাণাধীন ফেরী ঘাটের বেশ কিছু অংশ মেঘনা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ফলে ফেরীঘাটটি চলাচলের অনুপযোগি হয়ে পড়েছে।

ফেরীঘাট নির্মাণ কাজে নিন্মমানের নির্মাণ সামগী্র ব্যবহারের ফলে ফেরী ঘাটটিতে ভাঙ্গন দেখা দেওয়ায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাঞ্ছারামপুরের স্থানীয় সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ক্যাপ্টেন (অব.) এ বি তাজুল ইসলাম। এ ব্যাপারে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো.সিরাজুল ইসলাম বলেন, এলাকাবাসী সহজে ঢাকায় যাতায়াতের জন্য লাখ লাখ টাকা ব্যয় করে ফেরী ঘাট নির্মাণ করা হয়েছে মাত্র। কিন্তু কড়িকান্দি অংশের অবস্থা খুবই খারাপ। গত কয়েকদিন আগে সড়ক ও জনপথ বিভাগের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এসে সরেজমিন পরিদর্শন করে গেছে। ভাঙ্গন ঠেকাতে না পারলে পুরো রাস্তা নদী গর্ভে চলে যাবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলা হয়ে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে বাঞ্ছারামপুর উপজেলার সড়ক যোগাযোগ সহজ করতে মেঘনা নদীর উপর ফেরী স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয় সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ)।

ওই অফিস সূত্রে জানা গেছে যায়, ২০১০ সালের মে মাসে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার আইয়ূবপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী কড়িকান্দি এবং নারায়নগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার থানার বিষনন্দী স্থানে সড়ক যোগাযোগের উন্নয়নে ফেরীঘাট নির্মাণের কাজ শুরু হয়। গ্রামের সীমান্ত ঘেঁষে বয়ে যাওয়া মেঘনা নদীতে সহজে ঢাকা যাতায়াতের সুবিধার্থে দুইটি ফেরীসহ দুই পাশে রাস্তা নির্মাণ করা হয়। এ জন্য এক কোটি ৯৬ লাখ টাকা ব্যয় হয়। এরমধ্যে আড়াইহাজার অংশে এক কোটি ৩৮ লাখ টাকা এবং বাঞ্ছারামপুর অংশে ৫৮ লাখ টাকা ব্যয় হয়। কিন্তু প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই ফেরীঘাট নির্মাণকাজে নিম্মমানের সামগ্রি ব্যবহারের ফলে ফেরী ঘাটটি ভেঙ্গে পড়ছে।

ইতিমধ্যে বাঞ্ছারামপুর অংশের সড়ক মেঘনা নদীতে ভেঙ্গে যাচ্ছে। ঘাটটিকে নদী ভাঙ্গনের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য কোন প্রতিরক্ষার ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে বর্ষার শুরু হতেই ফেরী ঘাটের রাস্তার দুই পাশের মাটি ভেঙ্গে যাচ্ছে। এতে করে যানবাহনকে চরম ঝুঁকি নিয়ে ফেরীতে উঠতে হয়।

অভিযোগ উঠেছে, সওজের বাঞ্ছারামপুরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী তাহের উদ্দিনের যোাগসাজসে ঠিকাদাররা নিম্নমানের কাজ করে পার পেয়ে গেছে। জানা গেছে, ফেরী ঘাটের বাঞ্ছারামপুর অংশের কাজ করিয়েছে মেসার্স শফিকুল ইসলাম নামের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। কিন্তু তারা এটি সাব-কণ্ট্রাক্ট দেয় বাঞ্ছারামপুরের কানাইনগর গ্রামের মোঃ মতিউর রহমান নামের এক ব্যক্তিকে। যার ফলে কাজের গুণগত মান ছিল খুবই খারাপ। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসী অভিযোগ করলেও সাব-কণ্ট্রাক্টরের প্রভাবের কারণে কোন কাজ হয়নি।

বাঞ্ছারামপুরের আইয়ূবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম জানান, আমার ইউনিয়নের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়কটিই হচ্ছে এই ফেরীঘাট সড়ক। অথচ এই সড়কটি উদ্বোধনের আগেই ভাঙন দেখা দিয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, এ নিয়ে এলাকাবাসী প্রতিবাদ করলে ইঞ্জিনিয়ার তাহের এলাকার লোকজনদেরকে ইট,বালু চুরির মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। চেয়ারম্যানের অভিযোগ, ফেরীঘাট ও রাস্তার কাজের মান খুবই খারাপ হয়েছে। কিন্তু আড়াইহাজার অংশের কাজের মান খুবই ভাল হয়েছে।

বাঞ্ছারামপুরের নগরীরচর গ্রামের বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ মোশাররফ হোসেন সিকদার (কাঞ্চন) বলেন, নিম্নমানের কাজ করে বালুর বস্তা দিয়ে কি ভাঙন ঠিক রাখা যাবে? তিনি বলেন, কাজের নামে এখানে মূলত লুটপাট হয়েছে। কাজের অনিয়ম সমপর্কে বলতে গেলে ঠিকাদার ও ইঞ্জিনিয়ার পাল্টা বলেন এ নিয়ে কথা বলার আপনারা কে।

এবিষয়ে কড়িকান্দি অংশের মেসার্স শফিকুল ইসলাম ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ¯^Ë¡vwaKvix মো.শফিকুল ইসলাম বলেন, বাঞ্ছারামপুরের কড়িকান্দি ফেরিঘাট অংশের কাজটি আমি পেয়েছি ঠিকই। তা স্থানীয় একজনকে সাব কন্ট্রাক হিসাবে দিয়ে দিয়েছি। এবিষয়ে সাব কন্ট্রকটার এবং ইঞ্জিনিয়ার তাহের সাব বলতে পারবেন। আপনি উনাদের সাথে যোগাযোগ করেন।

এব্যাপারে দায়িত্বপ্রাপ্ত সাব ঠিকাদার মোঃ মতিউর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ফেরী ঘাট যেহেতু নদীর পাশের তখন কিছুতো ভাঙবেই। আর ভাঙলেই তো নতুন বরাদ্দ হবে। তিনি বলেন, ভাঙ্গন রোধে আমি ব্যক্তিগত উদ্যোগে বালির বস্তা দিয়েছি। তার অভিযোগ, সংশিষ্ট অফিস ঠিকাদারের বিল নিয়ে তালবাহানা করছে এ ব্যাপারে কেউ কিছু বলছে না।

এ ব্যাপারে সওজের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ তাহের উদ্দিন বলেন, কড়িকান্দি ফেরীঘাট এলাকার কাজ তেমন খারাপ হয়নি। তিনিও বলেন, নদীর তীরের রাস্তা যেহেতু ঢেউয়ের আঘাতে কিছুটা ভাঙবেই। তবে উদ্বোধনের আগে যেন সমস্যাগুলো সমাধান করে ফেলতে পারে এব্যাপারে ঠিকাদারকে বলে দিয়েছি।

অপরদিকে সওজের বাঞ্ছারামপুর এলাকার উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোঃ বুলবুল হোসেন বলেন, কড়িকান্দির রাস্তার এসব বিষয় নিয়ে না লিখে আমার অফিসে আসেন সামনাসামনি কথা বলি। এলাকাবাসীতো অনেক অভিযোগই করে সব কিছু কি আর বিশ্বাস করা যায়।

সওজ’র ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, যতটুক শুনেছি কাজ মোটামোটি ভাল হয়েছে। বর্তমানে কি পরিস্থিতি তা আমার জানা নেই।





Check Also

আশুগঞ্জে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মরদেহ উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :– ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মো. হারুন মিয়া (৪৫) নামে দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামির ...

Leave a Reply