লম্পট অভির সঙ্গে স্কুলছাত্রীর বিয়ে দিতে আসকের কথিত কর্মকর্তাদের দৌড়ঝাঁপ

ফলোআপ- সরাইলে স্কুলছাত্রী ধর্ষণ ও নগ্ন ভিডিও চিত্র

লিটন চৌধুরী.ব্রাহ্মণবাড়িয়াঃ-
সরাইলে অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রীকে ধর্ষণ ও নগ্ন ভিডিও চিত্র প্রকাশের অভিযুক্ত লম্পট অভির সঙ্গে স্কুলছাত্রীর বিয়ে পড়িয়ে দিতে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) কথিত স্থানীয় দু’জন কর্মকর্তারা উঠে পড়ে লেগেছে। এ ঘটনায় মামলা-মোকদ্দমায় কোনো সুফল পাওয়া যাবে না, এমনকি এই সবে নির্যাতিত স্কুলছাত্রী ও তার পরিবার নানা সমস্যার সম্মূখীন হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন ওই সংস্থার দুই কর্মকর্তা।

আসকের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে গত শনিবার সরাইল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে নির্যাতিতা স্কুলছাত্রীর বিয়ের কথা বলেন তারা। বিষয়টি নিয়ে বিদ্যালয়ের অন্যান্য ছাত্রীদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

এলাকাবাসী ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সরাইল সদর ইউনিয়নের বড্ডাপাড়া গ্রামের মৃত আলী হোসেনের পুত্র মো. আমির হামজা ও কালীকচ্ছ ইউনিয়নের নন্দী পাড়ার মো. আইজুর মিয়া পুত্র মো. কামাল মিয়া শনিবার সকালে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আইয়ূব খানের নিকট অভিযুক্ত অভি এবং স্কুলছাত্রীর বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে যান।

এসময় তারা প্রধান শিক্ষককে জানান, অভির সাথে আমাদের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রয়েছে। অভি ও তার পরিবার এই বিয়েতে রাজি হয়েছে। আপনি শিক্ষক হিসেবে ছাত্রীর ভাল দিক বিবেচনা করে ব্যবস্থা করেন। এতে স্কুলছাত্রীর পরিবার উপকৃত হবে। আসক কর্মকর্তাদের কথাগুলো শুনে প্রধান শিক্ষক মর্মাহত হন। অন্যান্য শিক্ষকরাও অবাক হয়। বিদ্যালয়ের ছাত্রীরা ক্ষোভে ফেঁটে পড়েন।

প্রধান শিক্ষক দুই কর্মকর্তাকে সাফ জানিয়ে দেয় মেয়েটির বিয়ের বয়স হয়নি। এ অবস্থায় আপনারা বিয়ের ব্যবস্থা করতে পারেন না। বিদ্যালয় থেকে ফিরে আসার সময় আমির হামজা ও কামাল মিয়া উপস্থিত শিক্ষকদের জানান, স্কুলছাত্রীর পরিবারের লোকজনের সাথে আমরা আলাপ করবো। প্রয়োজনে বিয়ের দেন মোহরের অঙ্ক বাড়িয়ে দেওয়া হবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার একাধিক ব্যক্তি জানায়, আমির হামজা ও কামাল মিয়া ঘটনাটি পত্রিকায় প্রকাশের পর অভির পরিবারের সাথে সাক্ষাত করে। বিষয়টি সালিশের মাধ্যমে নিস্পত্তি করতে টাকার চুক্তি হয়।

এ বিষয়ে আসক কর্মকর্তা আমির হামজা বলেন, অপরাধ যত বড়ই হোক না কেন সালিশ করার বিধান সংস্থার রয়েছে। আমরা বিষয়টি নিস্পত্তি করার চেষ্টা করছি। এতে দোষের কিছু দেখছি না। এদিকে র‌্যাব ও পুলিশ অভিযান চালিয়েও লম্পট অভির অবস্থান নিশ্চিত করতে পারছে না। কিন্তু আসক কর্মকর্তাদের সাথে অভির সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বিষয়টি নিয়ে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।





Check Also

আশুগঞ্জে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মরদেহ উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :– ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মো. হারুন মিয়া (৪৫) নামে দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামির ...

Leave a Reply