চিওড়া ডিগ্রি কলেজে শিক্ষক সংকট, ২৪ জনের মধ্যে রয়েছেন মাত্র ৯ জন

জামাল উদ্দিন স্বপন :
চৌদ্দগ্রামের চিওড়া সরকারি ডিগ্রি কলেজে চরম শিক্ষক সংকট চলছে। এখানে নিয়মিত ইংরেজি, ব্যবস্থাপনা, রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও সমাজ কল্যাণ বিষয়ে ক্লাশ হয়না। ফলে শিক্ষার্থীদের বাধ্য হয়ে বাইরে প্রাইভেট পড়তে হয়। শিক্ষক সংকটের কারণে মৌলিক শিক্ষা অর্জন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ৬’শ ১৯ জন ছাত্র-ছাত্রী।
কলেজ সূত্রে জানা গেছে, কলেজের মোট ২৪ জন শিক্ষকের পদ থাকলেও আছে মাত্র ৯ জন শিক্ষক।

ইংরেজি, ব্যবস্থাপনা, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, সমাজ কল্যাণ বিষয়ে কোন শিক্ষক নেই। অর্থনীতি বিভাগে ৪ জন শিক্ষকের মাঝে রয়েছে ২ জন, বাংলা বিভাগের ৩ জনের মধ্যে রয়েছে ১ জন, হিসাব বিজ্ঞান বিভাগে ২ জনের মধ্যে রয়েছে ১ জন, গণিতে ২ জনের মধ্যে রয়েছে ১ জন, ইসলামের ইতিহাস বিভাগে ২ জনের মধ্যে রয়েছে ১ জন, এভাবেই কলেজটিতে উপাধ্যক্ষসহ ১৫ জন শিক্ষকের পদ শূণ্য রয়েছে। এছাড়াও, প্রধান অফিস সহকারীর পদটি শূন্য রয়েছে গত ৭ বছর ধরে। তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী ৩ জনের মধ্যে রয়েছে ১ জন, চতুর্থ শ্রেণীর ১৪ জন কর্মচারীর মধ্যে রয়েছে ৮ জন।

কলেজ সূত্রে আরো জানা গেছে, ১৯৬৯ সালে ওই এলাকার ধনাঢ্য ব্যাক্তি কাজী জহিরুল কাইয়ুম কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে ১৯৮৭ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী কাজী জাফর আহমদ কলেজটি সরকারীকরণ করেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে অত্যান্ত সুনামের সহিত কলেজটিতে ভালো ভাবে পাঠদান চললেও ১৯৯৭ সালের শেষের দিকে রাজনৈতিক দাঙ্গা-হাঙ্গামা ও নকল প্রবণতা বৃদ্ধির কারণে কলেজটির চলমান পাঠদান ব্যাহত হওয়া শুরু করে।

ওই সময়ে জাতীয় সংবাদ মাধ্যমে চিওড়া সরকারী ডিগ্রি কলেজকে নকলের সেরা কলেজ হিসেবে শিরোনাম করায় বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নজরে আসলে এবং পরীক্ষার পূর্বে প্রশ্নপত্র ফাঁস করার কারণে তৎকালীন এক পরীক্ষার্থী ও কলেজের এক নৈশ প্রহরীকে গ্রেফতার করা হয়। তখন থেকেই ক্রমান্বয়ে ছাত্র-ছাত্রী হ্রাস পায়। এক পর্যায়ে ১৯৯৮ সালে রাজনৈতিক অস্থিতিশীল পরিবেশের কারণে ২০০১ সাল পর্যন্ত প্রায় ৩ বছর যাবত কলেজটি বন্ধ থাকে।

পরবর্তীতে ২০০১ সালে তৎকালীন চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় এসে স্থানীয় সাংসদ ডাঃ সৈয়দ আবদুল্লাহ মোঃ তাহের তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ড. ওছমান ফারুকের নিকট কলেজটি পুনরায় চালু করার দাবী জানিয়ে স্মারকলিপি দিলে ওই বছরই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক নির্দেশে কিছু সংখ্যক শিক্ষক দিয়ে কলেজটি আবার পাঠদান কার্যক্রম শুরু হয়। আর সেই তখন থেকেই কলেজটিতে শিক্ষক সংকট চলে আসছে।
শিক্ষার্থীরা জানান, সরকারি কলেজ বলেই এখানে শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বেশি। কিন্তু শিক্ষকের অভাবে ঠিকমত ক্লাশ হয়না। মাঝে-মধ্যে হিসাব বিজ্ঞান ও ইতিহাসের শিক্ষকরা ইংরেজি, ব্যবস্থাপনা, রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও সমাজ কল্যাণ বিষয়ে ক্লাশ নেন। তাই আমরা বাধ্য হয়ে অনত্র প্রাইভেট পড়তে হয়।

কলেজের সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর কবির জানান, গত বছরে ২৮ তম বিসিএস ক্যাডারের একজন শিক্ষক ব্যবস্থাপনা পদে যোগ দিয়েছিল। পরবর্তীতে তিনি ৫ মাস কর্মস্থলে থাকার পর অনত্র বদলী হয়ে যান। দীর্ঘদিন যাবত অধ্যক্ষ পদটি শূন্য থাকলেও চলতি বছরের মে মাসে অধ্যক্ষ পদে প্রফেসর কাইফ আলা উদ্দিন যোগদান করেন।
কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর কাইফ আলা উদ্দিন বলেন, শুধু শিক্ষক সংকটের কারণে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

এ বিষয়ে বার বার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে বার বার চিঠি লেখা হয়েছে, কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন শিক্ষক পাওয়া যায়নি।

শিক্ষক সংকটের বিষয়ে স্থানীয় সাংসদ ও জাতীয় সংসদের হুইপ মুজিবুল হক মুজিব বলেন, কয়েক দিন আগে শূন্য পদে কয়েক জন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বাকি শূন্য পদ গুলো পূরণের জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষ চেষ্টা করে যাচ্ছে।





Check Also

চৌদ্দগ্রামে শেখ রাসেল জাতীয় শিশু কিশোর পরিষদের প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত

মোঃ বেলাল হোসাইন, চৌদ্দগ্রাম :– প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও মন্ত্রীপরিষদের প্রভাবশালী ব্যাক্তিবর্গকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ছবি ...

Leave a Reply